বাঘারপাড়া ।। বাঘারপাড়ায় বাসুয়াড়ি  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলজিএসপি কাজে  ব্যাপক  অনিয়মের  অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে এ টাকা লোপাট করা হয়েছে । অভিযোগ উঠেছে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে বাসুয়াড়ি ইউনিয়ন পরিষদে এলজিএসপি -২ প্রকল্পে ৩৭ টি প্রকল্প গ্রহন করা হয়। প্রকল্পের  অধিকাংশ কাজেই দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে । এ নিয়ে স্থানীয় জনগনের মাঝে ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে ।ইতোমধ্যে   ৩৭টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে।

৩৭টি প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫শ ১৬ টাকা। সরেজমিনে দেখাগেছে, ১ নং ওয়ার্ডের রোস্তমপুর সামসুর মোল্যার বাড়ী হতে মোক্তারের বাড়ী পর্যন্ত ৩০ মিটার ইটের সোলিংয়ের কাজ হয়নি। কাজ না করেই এ প্রকল্পের ৩৫ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ রাস্তার পাশেই বসবাস করেন মৃত দবির মোল্যার ছেলে শহর আলি। তিনি বলেন, এ সামান্য একটু রাস্তার জন্য আমাদের চলাফেরা করতে খুবই অসুবিধা হয়।

৩ নং ওয়ার্ডের শ্রীরামপুর গ্রামের সামাদ মোল্যার বাড়ির পাশে একটি ব্রীজ কালভার্ট নির্মানে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা। কাজ না করেই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ওয়ার্ডে চাড়াভিটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান। গত ডিসেম্বরের ৫ তারিখে বিদ্যালয়ের ৫শ ৫০জন শিক্ষার্থীকে ছাতা দেওয়া হয়। ২শ ৫০ টাকা হারে মোট ছাতায় ব্যয় দেখানো হয়েছে ১লক্ষ ৩৭ হাজার ৫শ টাকা। জানাগেছে, প্রতিটি ছাতার মূল্য ১শ ২০ টাকা থেকে ১শ ৫০ টাকা। এ প্রকল্প থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আবু সাইদ সরদার। একই বিদ্যালয়ে সততা স্টোর স্থাপনে ব্যায় দেখানো হয়েছে ১৬ হাজার ৪শ ১০ টাকা। সিসি ক্যামেরা স্থাপনে ব্যয় দেখানো হয়েছে এক লক্ষ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, নিম্নমান ও কম মূল্যের সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে এ প্রকল্প থেকে ৫০ হাজার টাকা লোপাট করা হয়েছে। বাসুয়াড়ি ইউনিয়নে  আরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অথচ একই প্রতিষ্ঠানে একই সময়ে এতগুলো প্রকল্প কেন নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে ইউপি সদস্যদের ক্ষোভ রয়েছে।

৯ নং ওয়ার্ডে আলাদিপুর বাজারে প্রধান সড়কে একটি যাত্রী ছাউনীতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। সরেজমিনে এ বাজারে যাত্রী ছাউনীর কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কাজ না করে সমুদয় অর্থ উত্তোলন করে নিয়েছেন চেয়ারম্যান। একই ওয়ার্ডের আলাদীপুর মহিদের বাড়ীর সামনে তিন রাস্তার মাথার পাশে একটি গভীর নলকুপ স্থাপনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। সরেজমিনে সেখানে কোন গভীর নলকুপের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

২ নং ওয়ার্ডে রঘুনাথপুর রফিক খাঁর বাড়ি হতে সাইদ খাঁর বাড়ি পর্যন্ত ৫২ মিটার ইটের ফ্লাট সোলিংয়ের কাজ করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখাগেছে ৫২ মিটার রাস্তার কাজ হয়নি। স্থানীয় এক ব্যাক্তিকে দিয়ে রাস্তার পরিমাপ করানো হয়। সেখানে ৫ মিটার রাস্তার কাজ কম হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অন্য রাস্তাগুলোও সঠিক পরিমাপে করা হয়নি।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আবু সাইদ সরদার  সাংবাদিকদের জানিয়েছে , এলজিএসপির কাজে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই। সব কাজ করে দেওয়া হবে’।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন