মাহাবুব ইসলাম উজ্জ্বল, মাগুরা প্রতিনিধি ॥
এখন আর উত্থাল-পাতাল ঢেউ উঠেনা মধুমতি নদীতে। মধুমতি নদীটি এখন ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। বিস্তৃত মধুমতি নদীর বুকে চাষাবাদ হচ্ছে চিনা বাদামের।
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার পূর্বপাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মার শাখা নদী মধুমতি। বর্ষার মৌসুম শেষ হলে মধুমতির বুকে জাগে বিশাল বিস্তৃত চর। মধুমতি নদীর চরে স্থানীয় চাষীদের চীনা বাদাম উৎপাদনের আশা ভরসা দিনদিন বেড়েই চলেছে। মধুমতি নদী পাড়ের কৃষকরা নদীবক্ষে চিনা বাদাম চাষ করে তাদের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক।
মধুমতি নদীটি দু’পাড়ের মানুষের কাছে এখন আর আতঙ্ক নয়; বরং নদী পাড়ের মানুষের কাছে আর্শীবাদ স্বরুপ। কৃষকরা এখন নদীর বুকে বাদামসহ বেশ কিছু ফসলের আবাদ শুরু করেছে। তার মধ্যে চীনা বাদাম ও তিল উল্লেখযোগ্য ফসল হিসেবে উৎপাদন করছে স্থানীয় নদী পাড়ের কৃষকরা।

সরেজমিনে মধুমতি নদীর চর ঘুরে দেখা গেছে, বাবুখালী ইউনিয়নের রায়পুর, চরসেলামতপুর, হরিনাডাঙ্গা পার্শ্ববর্তী পাল্লা, চরপাল্লা ঝামা, রায়পাশা, চরঝামা, জাঙ্গালিয়াসহ অন্যান্য চরে এ বছর বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বাদামের পরিমান বেশি হওয়ায় নদী পাড়ের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মহম্মদপুরের বিভিন্ন চরঞ্চলে ৪০ হেক্টর জমিতে চিনা বাদাম চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিলো ৫০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ৭৫ টন। এ বছর কম জমিতে বাদাম চাষ হলেও আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে বাদামের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় বাবুখালীর রায়পুর গ্রামের বাদাম চাষি রতন শেখ, মাহাবুর মোল্যা, আকুব্বর মোল্যা, গণি মোল্যা, হাবিবার মোল্যা জানান, বাদাম লাগাতে খরচ কম হলেও ঘরে তুলতে খরচ বেশি পড়ে যায়। বাদাম লাগানোর ৯০ দিনের মধ্যে এই ফসল তোলা শুরু হয়। আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রতি বিঘায় ১২ থেকে ১৬ মন বাদাম উৎপাদন করা যায়। বাদাম চাষে লাভের পরিমান বেশি হওয়ায় দিন দিন কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে।
বাদাম চাষী দেলোয়ার সরদার জানান,প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ৫০ শতাংশ জমিতে বাদাম চাষ করেছি। বাদামের ফলন আশানুরুপ ভালো হয়েছে। যদি সরকারি সহযোগিতা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নজরদারি থাকতো তাহলে আরো বাম্পার ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা আকরাম হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে ৪০ হেক্টর জমিতে চিনা বাদামের বাম্পার ফলন হওয়ায় অর্থনৈতিক ভাবে এ পরিবারগুলো বাদাম চাষের সুফল পাবে। আবহওয়া অনুকুলে থাকলে উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৫ টন । কম খরচে লাভের পরিমান বেশি হওয়ায় বাদাম চাষে আত্মনির্ভরশীল উঠেছে উপজেলার চরঞ্চলের কৃষকরা। নদী পাড়ের মানুষ এই মধুমতির চরকে আর্শীবাদ স্বরুপ গ্রহণ করেছে।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন