মাহাবুব ইসলাম উজ্জ্বল, মাগুরা প্রতিনিধি ॥
দেশীয় সুন্দরী ও গানের পাখি হিসেবে পরিচিত আমাদের গ্রাম বাংলার জনপ্রিয় ছোট পাখি দোয়েল। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন বাবুখালী, দীঘা, বিনোদপুর, রাজাপুর, নহাটা, পলাশবাড়িয়া, বালিদিয়া ও মহম্মদপুর সদর থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পাখি দোয়েল। এ পাখি এখন যেন চোখের আড়ালে। সচরাচর আর দেখা যাই না জাতীয় পাখি দোয়েলকে। ঝোপঝাড়ে, রাস্তার পাশে, অফিস বা বাড়ির ছাদে জাতীয় পাখি দোয়েলের ছুটে চলা এখন আর চোখে পড়ে না। শোনা যায় না দোয়েল পাখির সুমিষ্ট কন্ঠ। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন অফিস, বাড়ি বা রাস্তার পাশে এক গাছ থেকে অপর গাছে বিচরণ করে বেড়াতে দেখা যেত গ্রাম বাংলার পরিচিত ছোট্ট পাখি দোয়েলকে। তাদের যাদুকারি কন্ঠ মন ভোলাতো সকল বয়সের মানুষের। কাক- চড়–ইয়ের মতো গ্রামের মানুষের সঙ্গে সখ্য ছিল। খুব কাছে গেলেও উঠে যেত না এই পাখিরগুলো।

সাদা আর কালো রংয়ের ছোট দোয়েল পাখির সঙ্গে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি জড়িয়ে রয়েছে। পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চি লম্বা হয় এই পাখিটি গুলো। এক সময় গ্রাম বাংলার মানুষের ঘুম ভাঙতো পাখিদের কলকাকলিতে কিন্তু সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে দিন দিন গ্রাম বাংলা থেকে শূন্য হয়ে যাচ্ছে দেশীয় এসব পাখি। সকাল হলেই আগের মত এখন আর দোয়েল পাখির চি- চি শব্দ শোনা যায় না বললেই চলে। তবে পরিচিত পাখিদের মধ্যে ঘুঘু, বক, শালিক, কোকিল, টিয়া, ময়না, চড়–ই, কবুতর ও মাছরাঙাসহ নানা প্রকার দেশীয় পাখি এখনো উপজেলা বিভিন্ন গ্রামঞ্চলে দেখা যায়।

যে পাখি সব সময় মানুষের সান্নিধ্যে থাকতে দেখা যেত, মাটিতে লাফিয়ে লাফিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করতো, কালের প্ররিক্রমায় সে আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।
উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের বাশোঁ গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল মোল্যা জানান, প্রতিনিয়ত আমরা ধ্বংস করছি আমাদের সবুজ বৃক্ষ। নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের মাধ্যমে পাখিদের আবাসস্থান ধ্বংস এবং বিভিন্ন ফসল ক্ষেতে ক্ষতিকারক কীটনাশক প্রয়োগের ফলে দিন দিন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে চিরচেনা এসব পাখি। তাই এখন আর খুব একটা শোনা যায় না আমাদের জাতীয় সুন্দরী ও গানের পাখি দোয়েলের মধুর ডাক।
শুধু তাই নয়, বৃক্ষ নিধনের পাশাপাশি পাখি শিকার আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। এটা কারো চোখেও পড়ছে না। ফলে প্রকৃতি থেকে দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে চিরচেনা দেশীয় এসব পাখিগুলো।

দোয়েল পাখি অন্যান্য পাখির মতই শোভা বর্ধন এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। দোয়েল আমাদের জাতীয় পাখি। এজন্য দোয়েল পাখি রক্ষা করা কর্তব্য। এসব দেশীয় পাখি সংরক্ষনের উদ্দ্যোগ হিসেবে বেশি বেশি বৃক্ষরোপনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন