মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় স্বাধীনতা যুদ্ধে গণহত্যার শিকার ৩৬০ শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি মিলেনি স্বাধীনতার ৪৭ বছর পড়েও । অযন্তে অবহেলায় পড়ে আছে তাদের গণ কবরগুলো। স্বজন হারানো পরিবার গুলো আজও ভুলতে পারেনি তাদের সেদিনে কথা। স্মৃতি বুকে নিয়ে কাটিয়ে দিলেন ৪৭ বছর তবুও যেন আশায় আছেন কোন এক সময় মিলবে সেই কাঙ্খিত শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি।
জানাগেছে,১৯৭১ সালের ৯ মে, গজারিয়া উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদী তীরবর্তী নয়ানগর, গোসাইচর, কাজীপুরা, বাঁশগাঁও , বালুরচর গ্রামে পাক হানাদার বাহিনী আক্রমন করে । সকালের আলো ফুটতেই কেউ নামাজে আবার কেউ বা জীবিকার সন্ধ্যানে বের হয়েছিলেন বাড়ীতে থেকে। কিন্তু পাকবাহীনির নির্মম হত্যা কান্ডে আর ফেরা হয়নি বাড়ীর ছায়ায়। লাশ হয়ে পড়ে থাকতে হয়েছে স্থানীয় ফুলদী নদীর তীরে। গুলি খেয়ে কেউ কেউ এখন বেঁচে আছেন দু:স্য সৃতি নিয়ে। তবে যাদের স্বজন হারিয়েছে তারা আজও দু:খ আর কষ্টে দীনযাপন করছে। তাদের আশা ছিলো বর্তমান সরকার তাদের সেই কাঙ্খিত শহীদর পরিবারে স্বীকৃতি দিয়ে পাশে দাড়াবে । কিন্তু তা যেন সময়ের সাথে সাথে মিলিয়ে যাচ্ছে মাটির সাথে। শহীদ পরিবারে স্বীকৃতি তো দুরের কথা গনহত্যার শিকার শহীদের কবর গুলোও পড়ে আছে অযন্তে অবহেলায় । সরকারী ভাবে সংস্কার না থাকায় জঙ্গলে পরিনিত হয়েছে এসব কবরগুলো। প্রতিবছর ৯ মে আসলে নিজেদের উদ্যোগে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হলেও আবার যেন সেই অবস্থায় ফিরে যায়। ১৯৭২ সালে শহীদ পরিবার গুলো মাঝে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান দুই হাজার টাকা করে অনুদান দিয়ে ছিলো । তার পড় থেকে আজ পর্যন্ত বার বার সরকার পাল্টেছে কিন্তু তাদের ভাগ্যের পরির্বতন হয়নি আজও ।
সরেজমিনে গিয়ে আরো জানা গেছে,৭১ সালে ৯ মে স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে মানুষের বাড়ীতে জ্বীয়ের কাজ করে জীবিকা র্নিবাহ করে আসছেন রেজিয়া বেগম। স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর বসত ভিটা বিক্রি করে মেয়েকে বিয়ে দেন । বয়সের ভারে এখন আর কোন কাজ করতে পারেনা । দীর্ঘ ৪৭ বছরেও মেলেনি সরকারী কোন অনুদান । এছাড়াও রেজিয়ার মতো স্বামী সন্তান হারা,ফাতেমা বেগম, কমলা বেগম, গোলেনুরসহ অনেক শদীদ পরিবারের সদস্যরা আজও আশায় বুক বেঁধে আছে স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় । অভাব অনটনে দিন কাটছে শহীদ পরিবারের সদস্যদের । অনেকে শরীরে গুলি নিয়ে আজও বেঁচে আছেন । শহীদ আপতাব উদ্দিনের স্ত্রী স্বামীর কবরে পাশে একটি টুপ্রি ঘরে বসত করতেন । তাসলিমা বেগম জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে চিকিৎসার অভাবে প্রায় দুই বছর পূর্বে মারা যান।
স্বামী সন্তানহারা রেজিয়া বেগম জানান, ৪৭ বছর হলো স্বামী সন্তানকে হারিয়েছি । অনেক কষ্টে কাটিয়েছি জীবন । পরের বাড়ীতে কাজ করি । বয়স বেড়ে গেছে কিভাবে বাকী জীবন চলবো ভেবে পাচ্ছিনা। ১৯৭২ সালে শহীদ পরিবারের সদস্য হিসাবে ২ হাজার টাকা পেয়েছিলাম । কিন্তু সেই থেকে আজও পর্যন্ত কোন সরকারী সাহায্য পাইনি । শহীদ পরিবারের সদস্য হিসাবে স্বীকৃতি পেলে সব হারানোর দু:খ ভুলে যেতাম ।
শহীদ পরিবারদের কথা চিন্তা করে স্থানীয় মো: শাহজালাল বেপারী ৪৭ বছর ধরে শহীদ পরিবারগুলোকে স্বীকৃতি এনে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন । সাপ্তাহে ১ বার করে পরিবারগুলোর খোঁজ খবর নেন। মাঝে মাঝে নিজের পকেট থেকে নগদ অর্থও দান করেন । তিনি ছেলের চিকিসার অর্থ দিয়ে গজারিয়া ইউনিয়ন শহীদ পরিবার কল্যান পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। শহীদ পরিবারগুলোকে সরকারী অনুদান এনে দিতেও কঠোর পরিশ্রম করেন শাহজালাল ।
গণহত্যায় শহীদ ৩৬০ জনের গণকবরগুলো চিহ্নিত করা । শহীদ পরিবারের সদস্যরা যারা বেঁচে আছেন তাদেরকে খোঁজ খবর নিয়ে সরকারীভাবে তাদেরকে সকল সুযোগ সুবিধা দিবে সরকার । এমনটাই প্রত্যাশা শহীদ পরিবারগুলোর ।
স/রহ

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন