মো. সাদের হোসেন বুলু নবাবগঞ্জ দোহার থেকে
পদ্মা,ইছামতি ও কালীগঙ্গা নদীর পাশে গড়ে উঠেছে কৃষি অধ্যুষিত ঢাকার প্রাচিন দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা। শুরু থেকেই এই অঞ্চলের অধিকাংশ জনসাধারণ কৃষি কর্মকান্ডের জড়িত।
এখানকার জলবায়ু এবং মাটি নানা ধরনের কলকারখানাসহ, শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উপযোগীসহ ও অনুকুল পরিবেশ রয়েছে।ফলে কৃষিভিত্তিক শিল্পকে হাতছানি দিচ্ছে দোহার ও নবাবগঞ্জ অঞ্চল। সড়ক পথে রাজধানীর গুলিস্থান থেকে নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর মাত্র ৩৩ কিলোমিটার ও দোহারের জয়পাড়া ৩৮ কিলোমিটার। যার ফলে সল্প ব্যয়ে নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলায় কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ে রাজধানীসহ সারাদেশে বিপনণ করার বাড়তি সুবিধা রয়েছে এখানে।
দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতিরা দোহার ও নবাবগঞ্জে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ার মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করে পাল্টে দিতে পারে এই জনপদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, ঘুরিয়ে দিতে পারে অসংখ্য বেকার কর্মহীন মানুষের ভাগ্যের চাকা।
স্থানীয়দের দাবী, চলমান সময়ে উপজেলা দুটির অধিকাংশ এলাকায় এখন বিদ্যুৎ পৌছে গেছে। সুষ্ঠ রক্ষণা বেক্ষন, সঠিক মূল্যে বাজারজাত নিশ্চয়তাসহ কোন বিনিয়োগকারী ব্যক্তি বা সংস্থা এগিয়ে আসলে এখানে গড়ে উঠতে পারে কৃষি ভিত্তিক শিল্প কারখানা। এই অঞ্চলের মাটি, জলবায়ু, জনসংখ্যা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই শিল্পের অনুকুল পরিবেশ রয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে এই জনপদে বিস্তীর্ণ এলাকা পলিযুক্ত নদীচর, পতিত জমি যা কৃষি শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের চমৎকার পরিবেশ বিরাজ করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এই অঞ্চলে আদা, হলুদ,পেঁয়াজ, রশুন, মরিচ, ধনিয়া, সরিষা, তিল, চাষের ব্যপক সম্ভাবনা আছে। এছাড়া বাঙ্গি, পেপে, কলা, কুল, বেল, লেবু, লিচু, আঁতাফল, আমড়া, জাম, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি অর্থকরী ফসল উৎপাদনের ব্যাপক ভূমি ও সুযোগ রয়েছে। সরকারি বেসরকারি যে কোন সংস্থার উদ্যোগে এইসব পণ্য আবাদ করা ও ক্রয় করা হলে দোহার ও নবাবগঞ্জের জনসাধারণের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশীয় মুদ্রা স্বাশ্রয়ের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে।
হলেও স্বাধীনতার পর বিরাট একটা সময় চলে গেছে অবহেলা ও দূর্ভোগে। এক সময় শিক্ষা ও সরকারি চাকুরী ছিলো সোনার হরিনের মতো। মাইলে পর মাইল পায়ে হেটে অথবা নৌকা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতো বিভিন্ন দূর এলাকায়। ফলে দীর্ষ সময় অনিচ্ছাকৃত ভাবে পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলে এখন আশার আলো উজ্জল বর্ণ ধারণ করেছে।
এই জনপদে যুগ যুগ ধরে হিন্দু. মোসলমান ও খৃষ্টান সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী সমাজিক সৌজন্যতা বজায় রেখে বসবাস করছে। দেশের অন্য এলাকার মত এখানে ঘনবসতি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ব্যপকতা নেই। অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, জলোচ্ছাসের ও ভয় নেই। এখানে মানুষ ও প্রকৃতির মাঝে নেই কোন বিরোধ। এই এলাকায় বিভিন্ন ফলের জুস কারখানা, মৎস্য শিল্প, তুলাসহ কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সম্ভাবনাময় একটি আর্দশ অঞ্চল।
নবাবগঞ্জের প্রকৃতির নির্মল পরিবেশে বেসরকারি ভাবেও গড়ে উঠতে পারে পর্যটন এলাকা, প্রাচীন কালের বিভিন্ন পুরাকির্তি সমৃদ্ধ এই এলাকায়, কৃত্রিম লেক সৃষ্টি করে ক্ষুদ্র ও মাজারী আকারে মৎস্য শিল্পের বিশাল সম্ভাবনাকেও হাতছানী দিচ্ছে এখানকার ভূ-প্রকৃতি অধ্যুষিত কৃষি অঞ্চল।

বেসরকারি যে কোন সংস্থা এসব শিল্প প্রতিষ্টান গড়ে তুললে বেশী লাভবান হবে। উপজেলার সাথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের যে কোন জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ সুবিধা থাকায় এই এলাকার এখানকার জনগন উদ্যাক্তাদেরকে এই আহবান জানাচ্ছেন প্রকৃতির অপরুপ কেন্দ্র দোহার ও নবাবগঞ্জে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলার।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন