মিয়ানমার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত নয় বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। দেশটি জাতিগত বিশুদ্ধিকরণের নামে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠানোর দায়ে অভিযুক্ত হবার পর তিনি দেশটি সফরে যান।

ছয় দিনের সফর শেষে জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ফর হিউম্যানিটেরিয়াল অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা ইউরসুলা মুয়েলার বলেন, ‘আমি মানুষের কাছে শুনেছি এবং নিজের চোখে দেখেছি- স্বাস্থ্যঝুঁকি, নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন উদ্বিগ্নতাসহ লাগাতার স্থানান্তরিত করার বিষয়গুলো স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের জন্য উপযোগী নয়।

তবে তিনি আশা করেন, মিয়ানমার সরকার নভেম্বরে বাংলাদেশের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তির অধীনে নিরপেক্ষভাবে সম্মানের সাথে নিরাপদে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ গত মাসে জানায়, এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের জন্য শতাধিক মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থীকে তারা চিহ্নিত করেছে। তারা তাদের সুবিধানুযায়ী যে কোনো সময় রাখাইনে ফিরে আসতে পারে। তাদের মধ্য দিয়েই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে বলে মিয়ানমার সরকারের ধারণা।

জাতিসংঘ কর্মকর্তা মুয়েলার অনুমতি পাবার পর মিয়ানমারের সবচেয়ে আক্রান্ত এলাকা রাখাইন রাজ্য ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি দেশটির সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত মন্ত্রী, সীমান্ত বিষয়ক মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী অং সান সুচি ও বিভিন্ন বেসামরিক কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেন।

গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইনে মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সামরিক বাহিনী নির্যাতন চালাতে শুরু করে। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে তারা হত্যা, জ্বালাও-পোড়াও, লুট, ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজ করেছে বলে জানা যায়।

মুয়েলার ইয়াঙ্গুনে সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানান, ‘সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য আমি মিয়ানমারের কর্মকর্তাদেরকে এই সহিংসতা বন্ধ এবং এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে বলেছি, যাতে বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, সম্মান ও আগ্রহের সাথে রাখাইনে ফিরতে আগ্রহী হয়।’

কিন্তু মিয়ানমার সরকার বলছে তারা ‘মুসলিম সন্ত্রাসী’ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘আইনসম্মত লড়াইয়ে লিপ্ত।’

স/এষ্

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন