বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের বাঘারপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন -২ প্রকল্পের অধীন ১’কোটি বত্রিশ লাক্ষ টাকার প্রকল্প”জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মান” প্রকল্পের ১৩২ টি গৃহ নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হচ্ছে বলে ব্যাপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিন্ম মানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে । খোদ বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই কাজ করছে । প্রতিটি ঘর নির্মানে খরচ১’লাখ টাকা। অভিযোগ উঠেছে ১৩২ টি ঘর নির্মানে, প্লান,ডিজাইন প্রাক্কলন মোতাবেক গুনগত মান বজায় রাখা হয়নি।
নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্বাবধানে ’পিআইসি’ দ্বারা সরাসরি ক্রয় পদ্বতিতে(ডিপিএম) এ ঘরগুলো নির্মানের কথা থাকলেও প্রকল্পের নকশা ডিজাইন ও প্রাক্কলনের তোয়াক্কা না করে গৃহহীন মানুষের অর্থ আত্মসাৎ করার লক্ষে নিজেদের ইচ্ছামতো অতি নি¤œমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে ঘর তৈরি করা হচ্ছে ।
নির্মান কাজের সাথে অবশ্য শ্রমিক হিসাবে উপকার ভোগী পরিবারকে রাখার নির্দেশ থাকলে ও মানা হয়নি সে নির্দেশ। কাগজ কলমে ৫’সদদ্যের (পিআইসি) থাকলেও আহবায়ক (নির্বাহী অফিসার) ছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরা জানেনা কোথায় কোন কাজ হচ্ছে । প্রতিটি উপকারভোগীর কাছ থেকে মালামাল সরবরাহ খরচ নিয়েছে কাজের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের অফিস সহকারি আসাদুজ্জামান। আসাদুজ্জামানের বাড়ীতে ঘর নির্মাণের মালামাল রেখে উপকার ভোগীদের পরিবহন খরচ দিয়ে নিতে বাধ্য করছে । আর একাজের সহযোগীতা করছে আসাদুজ্জামানের ছেলে । আবার দুপুরে ঘর নির্মাণের সময় শ্রমিকদের ভাতও খাওয়াতে হয়েছে উপকারভোগীকে । তারকাটা, পেরেক, তার, কব্জা, ছিটকানি, স্ক্রুর ওয়াশার, মেঝের রং এ সব কিছুই নেওয়া হয়েছে উপকারভোগীর কাছ থেকে। ২শ ৭৫ বর্গ ফুটের এ ঘরে ০.৩৬ এমএম টিন দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ০.৩২ এমএম। সেটাও আবার নি¤œ মানের। ফলে প্রতি বান্ডিল টিনে ব্যায় কমানো হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা। যার মোট পরিমাণ ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। প্রতিটি ঘরে ৮শ করে ইট দেওয়া হচ্ছে। এ ইটের মান নিয়ে কোন উপকারভোগী সন্তষ্ট হতে পারেননি। এক নম্বর ইটের বদলে দেওয়া হয়েছে দুই নম্বর ইট। যার পার্থক্য মুল্য ১৫ থেকে ১৬শ টাকা। ঘরের নকশায় ফাউন্ডেশনে ডালাই দেওয়ার কথা থাকলেও কোন ঘরেই তা দেওয়া হয়নি। মেঝে ও পিলারে ব্যবহার হয়েছে একেবারেই নি¤œমানের খোয়া ও চিপস। এ কাজে ১শ বর্গফুট খোয়ায় টাকা বাচানো হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার। মেঝেতে ডালাইয়ের নীচে পলিথিন দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। যা নেওয়া হয়েছে উপকারভোগীর কাছ থেকে। পিলারের অগ্রভাগে সিআইজি শিটের প্লেট, নাট-বোল্ট ব্যবহারের কথা থাকলে ও তা ব্যবহার করা হয়নি। ১৭ টি পিলার স্থলে দেওয়া হয়েছে ১৬টি। এ কাজেও রয়েছে ফাঁকি। ৪ টি করে রডের বদলে দিয়েছে ৩টি। ৬টি জানালার বদলে ২টি দেওয়া হয়েছে। দরজায় রং করার নিয়ম থাকলেও তা হয়নি। ঘরের বেড়া ও চালে কাঠ ব্যবহারের তালিকায় রয়েছে শাল, গর্জন, জারুল, কড়াই, শিশু, তাল, পিতরাজ, দেবদারু, আকাশমনি। শুধুমাত্র দেবদারু আর নিন্মমানের মেহগনি ব্যবহার করা হয়েছে ।
সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে রায়পুর ইউনিয়নের শালবরাট গ্রামের পুস্প রানীর বাড়ী। পুস্প রানীর ছেলে বিধান জানান, বিভিন্ন সময় ইট বালি টিন কাঠের বাতা টিনের স্কুপ পলিথিন পরিবহন খরচ ব্যায় হয়েছে আট হাজার টাকার মতো। এ খরচ তারা নিজেরাই বহন করেছে।
একই গ্রামের শিখা রানীর বাড়ি ব্যবহার করা হয়েছে অযোগ্য ইটের খোয়া নি¤œ মানের ইট দূর্বল কাঠের বাতা । নির্মানের মালামাল আনতে ও বিভিন্ন মালামাল কিনতে তারও সাত থেকে আট হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে বলে জানান শিখা রানীর স্বামী কার্ত্তীক। তবে ঘর বরাদ্ধে কত টাকা তা তারা জানেনা । একই ইউনিয়নের সদুল্যাপুর গ্রামের চিয়ারুন , নবিরন, মনোয়ারা তাদেরও খরচ হয়েছে ছয় থেকে সাত হাজার টাকার মতো ।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে উল্লেখিত ঘর নির্মানে উচ্চ হারে হিসাব করলে প্রতিটি ঘরের নির্মান খরচ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বেশী হবেনা । প্রকল্পের পিআইসির দায়িত্ব থাকা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আমার সাথে নির্বাহী অফিসারের কোন কথা হয়নি আমার জানা মতে কোন মিটিংও হয়নি ।
অপর সদস্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদ জানান,প্রকল্পের সভাপতি নির্বাহী অফিসার তার কাছে জানেন আমি কিছু জানিনা ।
একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান , কাজের মান একেবারি খারাপ নিন্ম মানের ইট উপকারভোগীদের দিয়ে ফ্লোরে মাটি ভরাট করানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম শাসসুদ্দিন জানিয়েছেন, এমন অভিযোগ থাকলে আমারা দেখব। কথা হয় বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনাজ বেগমের সাথে। তিনি সাংবাদিক বলেন, ‘ ঘর পেয়ে সবাই খুশী। আমি নিজে অনেকগুলো ঘর দেখেছি। আমার কাছে খারাপ মনে হয়নি’। এক প্রশ্নের জবাবে এ সাংবাদিকদের বলেন, মালামাল যদি নিম্নমানের হয়েই থাকে, তাহলে আগে থেকে বললেননা কেন। ৭০টি ঘর নির্মান হয়েগেছে। এখন মালামাল কিভাবে বদলাবো।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন