পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং আর নেই। পরিবারের তরফ থেকে ৭৬ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বুধবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হকিং। খবর বিবিসি।

প্রফেসর হকিংয়ের সন্তান লুসি, রবার্ট ও টিম জানিয়েছেন, ‘আমরা বাবাকে হারালাম। বুধবার ভোরটি বড় শোকের। মহান বিজ্ঞানীর কাজ রয়ে গেল বিশ্বে। বহু বছর মানুষ উনাকে মনে রাখবেন। উনার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও রসবোধ বিশ্বের বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।’

স্টিফেন হকিংয়ের জন্ম ১৯৪২ সালে অক্সফোর্ডশায়ারে। অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজে পড়াশোনা। গবেষণামূলক বহু বই লিখেছেন। পদার্থবিজ্ঞানের কঠিন বিষয়কে সহজ করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

হকিংয়ের বাবা ড. ফ্রাঙ্ক হকিং একজন জীববিজ্ঞান গবেষক ও মা ইসোবেল হকিং একজন রাজনৈতিক কর্মী।

হকিংয়ের বাবার ইচ্ছে ছিল হকিং যেন তার মতো ডাক্তার হয়। কিন্তু হকিং গণিত পড়ার জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু যেহেতু সেখানে গণিতের কোর্স পড়ানো হতো না, সেজন্য হকিং পদার্থবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়া শুরু করেন। সে সময়ে তার আগ্রহের বিষয় ছিল তাপগতিবিদ্যা, আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম বলবিদ্যা।

কেমব্রিজে আসার পরপরই হকিং মটর নিউরন ডিজিজে আক্রান্ত হোন। এ কারণে তার শরীরের প্রায় বেশিরভাগটাই ধীরে ধীরে অসাড় হয়ে আসে।

ভিনগ্রহে যে মানুষের অস্তিত্ব আছে তার কথা জানিয়েছিলেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। এমনকি ভিনগ্রহীদের যে সভ্যতা তা আমাদের চেয়ে উন্নত তাদের দিক থেকে বিপদ আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তাই অযথা আগ বাড়িয়ে বিপদ ডেকে না আনারই কথা জানিয়েছিলেন এই ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী।

হকিং জানিয়েছিলেন, একদিন আমরা হয়ত এরকম কোন গ্রহ থেকে সিগনাল পেতে পারি। তবে ওই সিগনালের জবাব দেওয়ার বিষয়টি ভালো করে ভেবে দেখতে হবে।’ এমনো তো হতে পারে ব্যাকটেরিয়াদের আমরা যে দৃষ্টিতে দেখি এলিয়েনরাও আমাদের সেই দৃষ্টিতেই দেখতে পারে, জানিয়েছিলেন হকিং।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন