মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার তালতলা-গৌরগঞ্জ খাল এবং ধলেশ্বরী নদী তীর সংলগ্ন কৃষকদের আতংকের নাম ফুলন মেম্বার। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য দালাল পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফুলন কয়েক বছর যাবৎ কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তালতলা- গৌরগঞ্জ খাল এবং ধলেশ্বরী নদী পারে মাটি কেটে চলছে। নদীর তীরবর্তী কৃষকের জমির মাটি কেটে গায়ের জোরে বিক্রি করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কোন নিয়ম নিতির তোয়াক্কা না করে ফুলন ড্রেজার দিয়ে সারা বছরই নদী খাল হতে মাটি বিক্রি করছে । এতে নদীর দু”পাড়ের কৃষকের জমি বিলিন হয়ে চলেছে। স্থানীয় বাসিন্ধাদের অভিযোগ, ফুলন মেম্বারের রয়েছে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকার প্রভাবশালী ব্যাক্তিদের সাথে হাত মিলিয়ে সে নির্বিঘ্নে দীর্ঘদিন ধরে সরকারী খাল ও নদীর মাটি কাটলেও প্রশাসন রহস্যজনক নিরব ভূমিকা পালন করে আসছে। ওই সমস্ত এলাকায় কোন বালু মহল না থাকলেও ফুলন জেলা প্রশাসন অফিস, টঙ্গীবাড়ী এসিল্যান্ড অফিসের অনুমতি নিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে বলে জানান ফুলন মেম্বার। দির্ঘদিন যাবৎ মাটি কাটলেও প্রশাসন কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছেনা। সরেজমিনে মাটি কাটার ওই সমস্ত স্থলে একাধিকবার গিয়ে দেখা গেছে, ফুলন মেম্বারের লোকজন ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটতে পাওয়া গেলেও ফুলন মেম্বার রয়েছেন ধরা ছোয়ার বাইরে। সে ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে লোক দিয়ে একাধিক স্থনে মাটি কাটাচ্ছেন বলে ভূক্তভোগীরা জানান। সরেজমিনে ওই সমস্ত এলকা ঘুরে দেখা যাচ্ছে খাল ও নদীর তীরবর্তি কৃষকের জমি ও বসত বাড়ি বিলিন হয়ে গেলেও ভূক্তভোগীরা মুখ খুলতে সাহস পচ্ছেনা। উপজেলার কাইচাইল, কুন্ডের বাজার, শিলিমপুর, তস্তিপুর, বালিগাঁও বেতকা এলকায় ফুলন মেম্বারের রয়েছে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী। ভূক্তভোগীরা তার বাহিনীর ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এছাড়াও গত বছর বেতকা ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদী সংলগ্ন ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্ধকৃত জমির মাটি কেটে বিক্রি করে ফেলেন ফুলন মেম্বার। ওই এলাকার জন প্রতিনিধিসহ এলাকার রাজনীতিবীদদের সহয়তায় ওই মাটি বিক্রি করেন সে। খাল ও নদীর পাড় সংলগ্ন সরকারী জমির মাটি এবং কৃষকের জমির মাটি বিক্রি করলেও প্রশাসন কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছে না। শনিবার উপজেলার কাইচাইল গ্রামে গিয়ে দেখা যায় ওই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালে ড্রেজার বসিয়ে মাটি পাইপ দিয়ে বড় একটি পুকুর ভরাট করছে ফুলান। এতে ওই এলাকার খাল সংলগ্ন কৃষকের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এছাড়াও একাধিকস্থানে তার ড্রেজার চলছে বলে একাধিক সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে ফুলন মেম্বার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে সে জানায়, আমি বিআই ডব্লিউটি এর হতে অনুমতি নিয়ে মাটি কাটছি। তবে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন সুত্রে জানাগেছে, ওই খালে মাটি কাটার কোন অনুমতি নেই।
টঙ্গীবাড়ী সহকারী কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: কাবিরুল ইসলাম জানান, আমি ফুলন মেম্বারকে কাগজপত্র না দেখানো পর্যন্ত মাটি কাটতে নিষেধ করেছি । একাধিকবার কাগজ দেখানোর কথা বলেও ফুলন কাগজ নিয়ে আসেনি । সে কোন বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি। অবৈধভাবে মাটি কাটলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা¤œৎ হাসিনা আক্তার বলেন, আমরা কাউকে সরকারী খাল থেকে মাটি কাটার অনুমতি দেইনি । যারা অবৈধভাবে বালু কিংবা মাটি কাটে তাদের বিরুদ্ধে দু” একদিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহা. হারুন অর রশিদ বলেন, সরকারী খালে মাটি কাঁটা বন্ধ করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে ।

 

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন