সাঈদ ইবনে হানিফ:
অবশেষে পূরণ হতে যাচ্ছে যশোর সহ দক্ষিণাঞ্চলবাসী দীর্ঘদিনের দাবী। ভৈরব নদ বাঁচাও আন্দোলন কমিটি সহ বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের তথ্যমতে জানা যায় ভৈরব নদী পূনঃ খনন করে নিরাপদ পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চল অর্থাৎ যশোরবাসী দীর্ঘ মেয়াদী জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি রক্ষা পাবে প্রাকৃতিক দূর্যোগ সহ নানা রোগ ব্যাধি থেকে সেই সাথে নদীর দুই ধারে অবস্থিত হাজার হাজার জেলে পরিবার মাছ ধরে তাদের জীবিকা নির্বাহ করার সুযোগ পাবে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে প্রকৃতি ফিরে পাবে তার অপর সুন্দর্য্য। এরপর ভৈরব নদী বাঁচাও আন্দোলন সংগঠণ গুলোর দফায় দফায় মিটিং মিছিল করে নদীর দুই ধারের ভবন ও বসতী উচ্ছেদ সহ চর দখল মুক্ত করে দ্রুত খননের জন্য সরকারে শীর্ষ পর্যায়ে কর্মকতাদের সাথে আলোচনা করেন। মূলতঃ এর পর থেকে গত বছর যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী ৯৬ কিঃমিঃ ভৈরব নদী পুনঃ খনন ও ড্রেজিং-এর জন্য ১৭২ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষনা দেন। যার খনন কাজ গত অর্থ ২০১৭ইং বছরে ১লা জুলাই থেকে শুরু ২০২১ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। সে মোতাবেক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ববধানে (পাউবো) যশোরের বাবলা তলা থেকে শুরু হয়ে ছাতিয়ান তলা, মাথা ভাঙ্গা, বসুন্দিয়া হয়ে আফরা ঘাট পর্যন্ত মোট ৯৬ কিঃমিঃ ভৈরব নদী খনন ও ড্রেজিং-এর কাজ করা হবে বলে জানা যায়। প্রকল্পটি গত বছরের ১৬ আগষ্ট একনেট এর সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। যার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে একই বছরের ২২শে সেপ্টেম্বর। সূত্র আরো জানাই দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের টেকশই সমম্বিত নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ভৈরব নদের রিভার ড্রেজিং এলাকার জলা বদ্ধতা দূরিকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি গ্রহণ করে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ববধানে যশোর চৌগাছার তাহেরপুর থেকে যশোরের আফরা ঘাট পর্যন্ত ৯২ কিঃমিঃ ভৈরব নদীর পূনঃ খনন বাবদ ১৯৫৮১.০৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আফরা ঘাট থেকে বসুন্দিয়া পর্যন্ত ৪ কিঃমিঃ নদীর ড্রেজিং করা বাবদ ১৩৯২.৩৬ লক্ষ টাকা, চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুরহুদার জীবন নগর বুড়ি ভৈরব (আপার ভৈরব) নদীর সঙ্গে মাথাভাঙ্গা নদীর সংযোগ স্থাপনের জন্য ৩৩ কিঃমিঃ নদী খনন বাবদ ২৮৭৯.৯৬ লক্ষ টাকা, ২০ কিঃমিঃ দ্বায়তলা খাল পুনঃ খনন বাবদ ২৩২৫.৫৮ লক্ষ টাকা, ৪.৪৭৫ কিঃমিঃ ৪টি সংযোগ খাল পুনঃ খনন বাবদ ১৭৬.৮৬ লক্ষ টাকা ও যশোর শহর এলাকার ভৈরব নদীর ২ তীরের ১০ কিঃমিঃ হেয়ারিং বন্ড রাস্তা নির্মানে রবাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৭২.১৯ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি ঐ অর্থ বছরে যশোর হতে বসুন্দিয়া পর্যন্ত নদীর ভাটির অংশের ৩৭ কিঃমিঃ খননের জন্য টেন্ডার আহবানের কথা হয়। যার প্রথমাংশের টেন্ডার গত অর্থ বছরেই হওয়ার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যে খনন জরিপের কাজও ইতিমধ্যে শেষ করা হয়েছে। এছাড়া নদীর দুই ধারে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের জন্য যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন যৌথ ভাবে একটি সার্ভে টিম গঠণ করে। যারা উচ্ছেদ কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে। সূত্র জানাই এলাকার ভূমিদস্যুরা ভৈরব নদীর জমি দখল করে বাজার এলাকার গড়ে তোলে ছোট বড় একাধিক ভবন অন্য এলাকায় ২৭ ও ৬২ সালের রেকর্ড দেখিয়ে ভূমি দস্যুরা নদীর চর দখল করে চাষাবাদের জমি তৈরী করে। এভাবে দিনে দিনে ভরাট হয়ে যায় নদীটি। যা উচেছদের জন্য ও ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে যশোরের তাহেরপুর পুরতন ভৈরব নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে বর্তমান ভৈরব নদীটি যশোর -খুলনা জেলা দিয়ে প্রবাহিত। শেষ পর্যন্ত এই নদীটি খুলনার রূপসা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে নদীটি অত্র অঞ্চলে লক্ষ লক্ষ মানুষের কৃষি, মৎস্য যোগাযোগ ও মালামাল পরিবহনের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গার দামুরহুদা উপজেলা হতে যশোর জেলার চৌগাছার তাহেরপুর পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৩ কিঃমিঃ মাথাভাঙ্গা নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় ভৈরব নদীর উৎসে প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ভৈরব নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়া তার প্রস্থ ও সংকৃর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কারণে নদীটির পুরনো সীমানা নির্ধারণের বিটিশ জরিপ কেই অনুস্বরণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাংলাদেশ সরকারের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী নদীটির নব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য ভৈরব নদীন পূনঃ খনন ও সংযোগ স্থলেরও পূর্ণঃ খননের কাজ অন্তভূক্তির মাধ্যমে এ প্রকল্পটি গৃহিত হয়।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন