নিজস্ব প্রতিনিধি : নরসিংদীতে শিশু অপহরনের পর মোবাইল ফোনে মুক্তিপন দাবীকারী দুর্ধষ দুবৃর্ত্তদের বিরুদ্ধে বেলব থানার ওসিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের মৌখিক নির্দেশ দানের ১১ দিনের মাথায় অপহৃত শিশু অলি উল্লাহকে মির্জাপুর থেকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে।
মনোয়ারা বেগম, পিতা-মৃত খলিল মিয়া, সাং-শিবপুর, থানা-রায়পুরা, জেলা-নরসিংদী, শিশু পুত্র পালিত অলি উল্লাহ (১৬), পিতা-সুলতান মিয়া, সাং-ঐ বিগত ০৪/০২/২০১৮ইং আনুমানিক সকাল ১১টায় অপহৃত হয়েছে। তাকে তার কর্মস্থল শাওন হোটেল, নারায়ণপুর বেলাব থেকে ১। মিজানুর রহমান সোনা মিয়া (৩৭), (০১৭১৪২৪১৩৪০), পিতা-মৃত মফিজ মিয়া, সাং-আটিয়া মামুদপুর, থানা-মির্জাপুর, জেলা-টাঙ্গাইল, বর্তমান ঠিকানা-নাওজোর ইমান আলীর বাড়ি, থানা-জয়দেবপুর, জেলা-গাজীপুর ও ২। মোঃ শামীম (৩০), পিতা-মৃত রজব আলী, সাং- লোহাকৈর, থানা-জয়দবেপুর, জেলা-গাজীপুর কৌশলে ডেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। অপর কয়েক ব্যক্তি ঐ সময় দূরে একটি প্রাইভেট কার নিয়ে দাড়িয়ে ছিলো।
তারা ভিকটিম অলি উল্লাহকে উক্ত গাড়ীতে উঠিয়ে নিয়ে অপহরনের পর, তার মাকে মোবাইল ফোনে (০১৬৩৪৩৫৮৪৪) জানায়, ২ লক্ষ টাকা না দিলে অলি উল্লাহকে ছাড়া হবে না। ভিকটিম অলি উল্লাহকে দিয়ে ফোনে কথা বলায়। ফোনে কথা বলার সময় ভিকটিমকে খুব ভয়ার্ত মনে হচ্ছিলো বলে তার মা জানায়।
অপহরনের কয়েকদিন পূর্বে ১নং আসামী মিজানুর রহমান সোনা মিয়া, মনোয়ারার এক ভাগিনাকে চাকরি দেয়ার কথা বলে ১০,০০০/- টাকা নেয়, কিন্তু চাকরি না দেয়াতে আমার সাথে তার মনোমালিন্য হয়েছিলো। তার কাছে পাওনা ১০,০০০/- টাকা চাইলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং “এ টাকার কয়েক গুন তোমার কাছ থেকে আদায় করে ছাড়বো” বলে সোনা মিয়া মনোয়ারাকে হুমকি দেয়।
এর কয়েক দিনের মাথায় ১নং আসামী, ২নং আসামী ও ৩নং আসামী এ অপহরনের ঘটনা ঘটায়। তাদের সাথে আরো ২/৩ জন জড়িত রয়েছে।
এদের মধ্যে আসামী, ৩। বিল্লাল হোসেন (৫০), পিতা-মৃত ওয়াজেদ আলী, সাং-চরবিলসা, থানা-মির্জাপুর, জেলা-টাঙ্গাইল।
অপহরনের পর বিগত ১৫/০২/২০১৮ইং তারিখে বিষয়টি নরসিংদীর জেলা পুলিশ সুপার আমেনা বেগমকে মহোদয় অবহিত হয়ার সাথে সাথে জানালে পুলিশ তৎপর হয়ে উঠে।
দুবৃর্ত্তদের মোবাইল ফোন ট্রাকিং শুরু হয়। বিষয়টি জানতে পেরে অপহরনকারী দুবৃর্ত্তরা ভিকটিম অলি উল্লাহকে চোক বাধা অবস্থায় গভীর রাতে চরবিলসা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে ভোরে ৩নং আসামী বিল্লাল হোসনের বাড়ির কাছে ফেলে যায়। ৩নং আসামী বিল্লাল হোসেন মা মনোয়ারাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। এরপর ১নং আসামী মিজানুর রহমান সোনা মিয়া উক্ত ৩নং আসামীর সাথে মিলে ভিকটিমকে স্বেচ্ছায় নিজেদের নির্দোশ সাজানোর জন্য মির্জাপুর থানায় নিয়ে যায়। ৩নং আসামী বিল্লাল হোসেন ভিকটিম অলি উল্লাহকে নিয়ে থানার ভিতরের দিকে গেলেও ১নং আসামী থানার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেনি। থানার অদূরে দাড়িয়ে ছিলো এবং পরে ১নং ও ৩নং আসামী ঘটানাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অনেক চেষ্টা করেও তখন ৩নং আসামী মিজানকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাকে ঘটনাস্থলে মনোয়ারা থাকতে বল্লেও সে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে মামলা না করার জন্য বা থানা-পুলিশ না করার জন্য ১নং, ২নং ও ৩নং আসামী মনোয়ারাকে হুমকি দিয়ে চলেছে। তিনি এখন চরম নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
মনোয়ারা সাংবাদিকদের জানান ১০/১১ দিন যাবৎ তিনি বহুকেষ্টও এ মামলা বা জিডি করতে পারেননি। পরে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদকে অভিযোগ আকারে জানালে, মানবাধিকার সংস্থা নরসিংদীর পুলিশ সুপার আমেনা বেগমকে বিষয়টি তড়িৎ অবিহত করে। এরপর পুলিশ সুপারের তাৎক্ষনিক নির্দেশে পুলিশ তৎপর হলে ভিকটিম অলি উল্লাহকে অপহরন করে মুক্তিপন দাবীকারী সোনা মিয়া, শামিম ও বিল্লাল পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার আমেনা বেগমের নির্দেশে অপহৃত শিশু অলি উল্লাহ উদ্ধার হলেও অপহরনকারী দুবৃত্ত সোনা মিয়া, শামিম ও বিল্লাল ধরা পড়েনি। এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ এসব সংঘ্যবদ্ধ দুবৃত্ত ভয়ংকর অপরাধে লিপ্ত রয়েছে। এদেরে সাথে মাঠ পর্যায়ে অসাধু কতিপয় পোষাকধারী ব্যক্তি জড়িত রয়েছে।
অপহরন ঘটনার ১১ দিন যাবৎ বেলবা থানার ডিউটি অফিসার মিজানুর রহমান যথা সময়ে কোন মামলা না নিয়ে বা জিডি এন্ট্রি না করে তথাকথিত মিমাংসা ও টুপাইস কামায়ের জন্য কয়েক বার অপহরন কারীদের সাথে কথা বলেছে, যা শাস্তি যোগ্য ফৌজাদারী অপরাধ। এমনকি এই দারগা মিজান ভিকটিম পরিবারের কাছে মোটা অংকের ঘুস দাবি করেছিল। পরে এসপি আমেনা বেগমের নির্দেশে শিশুটি জীবন্ত চোক বাধা অবস্থায় উদ্ধার হয়। এই খবরে বেলবার সংশ্লিষ্ট গ্রামে আনন্দের বন্য বয়ে যায় ও মিষ্টি বিতরন হয়। এলাকাবাসী এসপি আমেনা বেগমের জন্য দোয়া করেন।

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন