এম.এম.রহমান,মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার তালতলা ডহুরি খালের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অবাধে চলছে বালু উত্তোলন । এতে খালের দু-পারের কৃষকের জমি ভেঙ্গে পরছে। একটি সংঘবন্ধ চক্র দির্ঘদিন যাবৎ এই বালূ উত্তোলন করলেও প্রশাসন রহস্যজনক কারনে নিরব ভূমিকা পালন করছে। বালু উত্তোলনকারীরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বালু তুলছে বলে প্রকাশ্যে বলে বেড়ালেও প্রশাসন এই অবৈধ উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নিচ্ছেনা। প্রতিনিয়ত খালের দু”পাড়ে থাকা ফসলি জমি ও বসতবাড়ী ধসে পরছে। বিভিন্ন স্থানে জমিতে রোপনকৃত আলু মাটিসহ ধসে ভেঙ্গে যাচ্ছে । আগামী বর্ষায় খালের দু-পাশের বিস্তির্ণ জমি ¯্রােতের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে যাবে এমনটাই আশংকা করছেন স্থানীয়রা । বালূ দস্যুরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা ভূক্তভোগীরা। জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে , ওই খালে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের জন্য কোথাও কোন ইজারা দেয়া হয়নি। অথচ দিনের পর দিন টঙ্গীবাড়ী উপজেলার তালতলা,আউটশাহী ইউনিয়নের কাইল চাইল,সিলিমপুর, বালিগাঁও, কলমাসহ ১০ টি স্থানে চলছে ড্রেজারের মাধ্যমে সরাসরি খাল থেকে মাটি উত্তোলন । সরেজমিনে বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে বালু উত্তোলনের একই চিত্র লক্ষ করা গেছে। তবে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অধিকাংশ ড্রেজার মালিক পালিয়ে গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলিমপুর, বালিগাঁও, কাইলচাই, কলমা এলাকার একাধিক স্থানীয় জানান, যারা সরকারী খালে ড্র্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন তারা সকলে প্রভাবশালী। স্থানীয় রাজনীতিবিদদের আশ্রয়ে তারা অনেকটা বেপোরোয়া । আমাদের ফসলি জমির উপর চালাচ্ছে ড্রেজার । বিভিন্ন স্থানে জমি অধিকাংশ ভেঙ্গে গেছে। আশপাশের বসতি বাড়ীগুলোও রয়েছে ঝুঁকিতে । বর্ষার সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে অনেক বাড়ী ।প্রশাসন এখনই এসব বালু দস্যুদেরে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিলে আমরা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি হারাবো।
ড্রেজিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সিলিমপুর এলাকায় ওই খালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী ড্রেজার মালিক কনু শিকদার জানান, এই ড্রেজার আমার না। কে এই স্থানে ড্রেজার চালাচ্ছে তাও আমি জানিনা।
বালিগাঁও এলাকায় বালু উত্তোলনকারী ড্রেজার মালিক দেলোয়ার হোসেন জানান, বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি নেই । অনেকে নিজ উদ্যোগে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত মেশিন দিয়ে ড্রেজার মেশিন তৈরী করে বালু তোলে । আমার ড্রেজার ২ টা ঐ খালে চলে। আমরা বালুগুলো বিক্রির পাশপাশি সরকারী বিভিন্ন প্রজেক্টে দিয়ে থাকি। স্কুল কলেজ, রাস্তাঘাট ভরাটের কাজে আমরা বালু দেই । জানি বালু উত্তোলন বে-আইনী । সবাই চালায় তাই আমরা চালাচ্ছিন । সকলে বন্ধ করে দিলে আমরাও বন্ধ করে দিবো।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ হাসিনা আক্তার বলেন, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কোথাও বালু মহাল নেই । এখানে ইজারা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠেনা । যারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সেগুলো বন্ধ করে দিবো এবং দ্রুতই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন