কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :

তৃণমূলে হকির প্রসারের জন্য আবারো কিশোরগঞ্জে শুরু হলো মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধিনে থাকা ক্রীড়া পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচির অংশ এই প্রশিক্ষণ। কিশোরগঞ্জ জেলা ক্রীড়া অফিস কর্তৃক আয়োজিত এই ক্যাম্প শুরু হয়েছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। যেখানে অংশ নিচ্ছে এই বিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী সহ সরকারি শিশু পরিবারের ১০ জন খেলোয়াড়। বালক এবং বালিকাদের এই প্রশিক্ষনের দায়িত্বে রয়েছেন হকি কোচ রিপেল হাসান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মোঃ আক্তার জামীল। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহ প্রদান করেন কিশোরগঞ্জ জেলার হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রিপন রায় লিপু। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির।
আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলা ক্রীড়া অফিসার আল আমিন সবুজ। তিনি জানান, ২০০১ সালে প্রথম ক্রীড়া পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় কিশোরগঞ্জে হকি খেলা শুরু হয়। এরপর প্রতি বছর আরজত আতরজান স্কুলে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলে আসছে। যার ধারাবাহিকতায় গত তিন বছর ধরে জাতীয় স্কুল পর্যায়ে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে এই স্কুলের নারী দল। এছাড়া প্রতি বছর বিকেএসপিতে ২/১ জন খেলোয়াড় সুযোগ পাচ্ছে কিশোরগঞ্জ থেকে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া এই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ফারদিয়া আক্তার রাত্রি জানান, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর এই ক্যাম্পে অংশ নিচ্ছি। দুই বছর পরেই জাতীয় স্কুল প্রতিযোগিতায় আমরা চ্যাম্পিয়ন হই। তবে ফেডারেশন থেকে নারীদের কোন লিগ বা টুর্নামেন্ট আয়োজন না করায় মাঝে মাঝে মনে হয় ফুটবলার হলেও হয়তো আর্থিক ভাবে কিছুটা লাভবান হতে পারতাম। এছাড়া জাতীয় নারী হকি দল গঠনে ফেডারেশনের কোন পদক্ষেপ না থাকায় দিন দিন আমরাও হতাশ হয়ে যাচ্ছি। জেলা ক্রীড়া অফিস আমাদের খেলার সুযোগ করে দিয়েছে তবে আরো উন্নতিন জন্য ফেডারেশনকে এগিয়ে আসতে হবে।
১৭ বছর ধরে কিশোরগঞ্জে হকির প্রসারের জন্য জেলা ক্রীড়া অফিসের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন আরজত আতরজান উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীর চর্চা শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তিনি জানান, প্রথম দিকে ছেলেদের নিয়ে আমরা ক্যাম্পের আয়োজন করতাম। বেশ কিছু খেলোয়াড় বিকেএসপিতে ভর্তি হয়ে এখন বিভিন্ন বাহিনীতে চাকরি করছে। জাতীয় স্কুল পর্যায়ে এই প্রতিযোগিতা অর্ন্তভুক্ত করায় নারীদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহ হয় ৫ বছর আগে। যেখানে সফলতা পেয়েছি দ্বিতীয় বছরেই। এখনো শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছি আমরা। জাতীয় দল গঠন করলে আমার আনেক মেয়েরাই সেখানে সুযোগ পাবে বলে মনে করি। এখন যে মানের খেলোয়াড় রয়েছে সাফ গেমসে নারীদের দল পাঠালে পদক পাওয়াও সম্ভব।
ক্যাম্প চলবে আগামী ৫ই মার্চ পর্যন্ত। বাংলাদেশ যুব গেমসে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়রা সুযোগ পাবেন ঢাকা বিভাগীয় দলে অংশ নেয়ার।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন