জ্বলছে সংরক্ষিত বনের কাঠ

মোঃমোছাদ্দেক বিল্লাহ 

সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই ঝালকাঠি কাঠালিয়ায় অধিকাংশ অবৈধ ভাটায় অবাধে ইট পোড়ানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই এসব ইটভাটা বছরের পর বছর চালানো হচ্ছে।প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদফতরের চোখের সামনে এসব অবৈধ ইটভাটা চালানো হলেও এ ব্যাপারে তাদের কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেই। শুধু বছরে একবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মধ্য দিয়েই সীমাবদ্ধ থাকে পরিবেশ অধিদফতরের কার্যক্রম।
কিছু ইটের ভাটায় সরকারি অনুমতি থাকলেও এর বাইরে কমপক্ষে ৪ টি ইটভাটায় কোনো ধরনের অনুমতি নেই। ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে কঠিন আইন থাকা সত্ত্বেও কিছুই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। প্রতি বছর জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা মাঝে মধ্যে দু-একটি পছন্দমতো জায়গায় নামমাত্র মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাদের দায়িত্ব শেষ করেন। পরে দেখা যায় সব অবৈধ ইটভাটাই মালিকদের ইচ্ছামতো পরিচালিত হচ্ছে।পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে হাইব্রিড হফম্যান, জিগ-জ্যাগ, ভার্টিক্যাল শ্যাফট কিলন বা পরীতি নতুন প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব ইটভাটা করার কথা থাকলেও এখানে ইট পোড়ানো হচ্ছে বাংলা ও ড্রাম চিমনীর মাধ্যমে। তা ছাড়া লোকালয়ের পাশেই ফসলের মাঠে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটায় যেমন নষ্ট করা হচ্ছে কৃষি জমি, অন্য দিকে সংরক্ষিত বনভূমি উজাড় করে কাঠ পোড়ানোর কারণে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। তবে পরিবেশ অধিদফতর ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এসব ভাটা চালানো হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, কাঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়া ইউনিয়নের সোনারবাংলা গ্রামে বিশখালী নদীর তীর গেশে এফ এম বি বিক্স, গাজী ব্রিক্স, মেহেদী বিক্স, সহ প্রয় ৪টি ইটের ভাটায় বাংলা ড্রাম চিমনীর মাধ্যমে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো শুরু হচ্ছে। এমনকি কোনো ধরনের চিমনী ছাড়াও পাজা করেই ইট পোড়ানো হয়। বেশির ভাগ জায়গায় কৃষি জমি নষ্ট করে গড়ে উঠছে ইটভাটা। যার কারণে পার্শ্ববর্তী কৃষকেরা পড়েছেন বড় বিপাকে, নদী থেকে মাটি কাটায় বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেয়া নিম্নআয়ের মানুষ থাকে আতঙ্কে। অনেক ভাটার পাশে করাতকল বসিয়ে কাঠ চেরাই করে কয়লার পরিবর্তে কাঠ দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে ইট।ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (যা ১ জুলাই ২০১৪ থেকে কার্যকর)-এ বলা হয়েছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা অর্থাৎ জিগজাগ কিন, হাইব্রিড হফম্যান কিন, ভার্টিক্যাল শফট ব্রিক কিন, টানেল কিন বা অনুরূপ উন্নততর কোনো প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। কৃষিজমি, পাহাড়, টিলা হতে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতেও নিষেধ করা রয়েছে। এ আইনে বলা হয়েছে- লাইসেন্স ছাড়া ইট উৎপাদন করলে অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। মাটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ৫০ শতাংশ ফাঁপা ইট প্রস্তুত না করলে দ্ইু বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করলে অনধিক তিন বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন অথবা পরিবেশ অধিদফতরের কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে। তা ছাড়া ওই সব ভাটার বেশির ভাগ মালিকেরা সরকারের নির্ধারিত ভ্যাটও পরিশোধ করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।ইটবাটার পাশবর্তী এলাকাবাসীরা জানান  যারা ইটের ভাটা করছেন তারা খুবই প্রভাবশালী এবং তাদের প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে অনেক লোক আছে। যে যাই বলুক তাদের এ অবৈধ ইটভাটা বন্ধ হবে না। যে কারণে সাধারণ মানুষও ভয়ে কিছু বলছে না। তবে লোকালয়ে ভাটার এসব বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি ও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।ইটভাটার কিছু কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, তাদের ভাটায় প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। তারা এ কাঠগুলো বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে কিনে থাকেন। আর মাটি নদী,বেড়িবাঁধ ও বিভিন্ন গ্রামের সরল জমি থেকে খনন করে সংগ্রহ করেন।

 

স/এষ্

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন