মুশফিকুর রহিমকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন সাকিব আল হাসান। তারপর ড্রেসিংরুমের সামনে কান্নার রোল পড়ে যায়। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাত্র ২ রানের সেই হারে চোখ মুছতে হয়নি এমন ক্রিকেটপ্রেমী খুঁজে পাওয়া দায়। সেই ফাইনাল ছাড়াও এই শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আরও দুবার ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের এশিয়া কাপে ভারতের বিরুদ্ধে এবং ২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। কিন্তু একবারও জিততে পারেননি লাল-সবুজের সৈনিকরা। আজ আবারও আরেকটি ফাইনাল। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। আবারও মাশরাফিদের সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। আজ কি পারবে বাংলাদেশ? মাশরাফিরা পারবেন চতুর্থবারে এসে দুঃস্বপ্নের মায়াজাল ভেদ করে সুখের সাগরে অবগাহন করতে? আগের তিনবার ফাইনালে খেলা বাংলাদেশ এবং আজকের এই বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য আকাশ-পাতাল। আজ মাশরাফিরা মাঠে নামবেন ফেবারিট হিসেবে। ভাবছেন, ৪৮ ঘণ্টা আগে নাস্তানাবুদ হওয়ার পরও সেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ফেবারিট কীভাবে! আসলে লঙ্কানদের বিরুদ্ধে টাইগারদের শেষ ম্যাচটি ছিল নিছক একটি দুর্ঘটনা মাত্র! একটি দুঃস্বপ্ন মাত্র। প্রথম তিন ম্যাচের ফল দেখলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। অনেক বড় দলও ভালো খেলতে খেলতে হঠাৎ এমন বাজে ঘটনার সম্মুখীন হয়— ক্রিকেটের ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আছে। তবে ওই হারের ঘটনা ক্রিকেটারদের জয়ের ক্ষুধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ অন্য বাংলাদেশকে মাঠে দেখা যাবে বলেই মনে করেন টাইগার ক্যাপ্টেন মাশরাফি। তার কথাতেই পরিষ্কার, ‘আমরা ফাইনালে জয়ের জন্য উদগ্রীব হয়ে আছি।’ বাংলাদেশ দলে ভরসা পাঁচ সিনিয়র— তামিম, সাকিব, মাশরাফি, মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ। সাকিব-তামিম তো প্রথম তিন ম্যাচে জয়ের প্রধান কারিগর ছিলেন। এই সিরিজে এক হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে মুশফিকের। মাশরাফিও দারুণ পারফর্ম করছেন। তবে মাহমুদুল্লাহ এখনো সুবিধা করতে পারেননি। কে জানে হয়তো ফাইনালেই হেসে উঠতে পারে তার ব্যাট। দলের তরুণরাই বা কম কিসে! বোলিং আক্রমণে ধার বেড়ে গেছে মুস্তাফিজ তার পুরনো ছন্দ ফিরে পাওয়ায়। রুবেল হোসেনও দুর্দান্ত বোলিং করছেন। স্পিনে সাকিবের সঙ্গে সানজামুল। তবে লঙ্কাবধ করতে হলে প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে পেসারদেরই। তাই মুস্তাফিজ-রুবেলদের সঙ্গে যদি আবারও তামিম-সাকিবদের ব্যাট জ্বলে ওঠে তাহলে ফাইনালে লঙ্কাবধ কেবল সময়ের ব্যাপার। তবে লঙ্কানদের পিছিয়ে রাখার উপায় নেই। একে তো আগের ম্যাচে তারা বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। অন্যদিকে লঙ্কানদের বড় শক্তি কোচ হাতুরাসিংহে। টাইগারদের শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা সম্পর্কে যার জানা। হাতুরার পরিকল্পনাতেই আগের ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। এ সম্পর্কে অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমাল বলেন, ‘জয় সবসময় আপনাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস দেবে। আপনার যদি ভালো কোচ থাকে এবং ভালো ক্রিকেটার না থাকে সে ক্ষেত্রে ভালো ফল পাবেন না। কিন্তু যদি ভালো ক্রিকেটারও থাকে খারাপ কোচের সঙ্গে সে ক্ষেত্রেও ভালো ফল আসে না। কিন্ত এখন আমাদের ভালো ক্রিকেটারও আছে, ভালো কোচও আছে। তাই ফাইনালে ভালো ফলই আশা করছি।’

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন