এম.এম.রহমান, মুন্সীগঞ্জ : ঢাকার পাশের একটি জেলা মুন্সীগঞ্জ । ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের দূরন্ত মাত্র ২৭ কিলোমিটার । অথচ এই ২৭ কিলোমিটার পথ যেতে জেলা শহরের লোকদের পোহাতে হয় নানা ভোগান্তি এবং গুনতে হচ্ছে দ্বিগুন ভাড়া । শুধুমাত্র সিরাজদিখানের বালুচরে ধলেশ্বরী নদীতে নির্মিত ব্রিজটি সচল করলে ঢাকা থেকে জেলা শহর এবং পার্শবর্তী ৩ টি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জনসাধারনের ভোগান্তি দূর করতে পারবে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
মুন্সীগঞ্জ জেলা শহর ও পার্শবতী উপজেলার সাধারন মানুষ জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা পৌছাতে মুক্তারপুর টু পোস্তখোলা রুটের গাড়ীতে চলাচল করে । মুক্তারপুর থেকে ঢাকার গুলিস্তানের দূরত্ব ২৭ কিলোমিটার । এ রুটে ঢাকা যাওয়ার পথে নারায়গঞ্জের কাঠপট্রি, কাশিপুর, ফতুল্লাহ, পাগলা এলাকায় রাত দিন প্রচন্ড যানজট লেগেই থাকে। এতে করে ২৭ কিলোমিটারের পথ পারি দিতে সময় লাগে ৩-৪ ঘন্টা । বাধ্য হয়ে সাধারন মানুষ সিএনজি বা লঞ্চযোগে নারায়গঞ্জ গিয়ে ঢাকা – নারায়নগঞ্জ মহা সড়ক দিয়ে চলাচল করে । এতে সময় লাগে গড়ে প্রায় ২ঘন্ট । মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের মানুষ যাতে ৩০ মিনিটে ঢাকা পৌছাতে পারে সেলক্ষে সিরাজদিখানের বালুচর ইউনিয়নের সাপেরচর এলাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ২৮ মে কোটি টাকা ব্যয়ে ধলেশ্বরী নদীর উপর ৪৮০ মিটার দৈর্ঘ ব্রিজটি উদ্বোধন করেন। ব্রিজটি চালু হওয়ার পর সাধারন মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছিল । কিন্তু চর চশিমদ্দিন চরে ধলেশ্বরী খালের উপর কোন ব্রিজ না থাকায় কোটি টাকার ব্রিজটির প্রান ফিরে পাচ্ছেনা ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,দক্ষিন কেরানিগঞ্জের মোল্লারহাট ও চর চশিমদ্দিন এলাকার মধ্যবর্তী ধলেশ্বরী খালে ব্রিজ নির্মাণ না করায় সাধারন মানুষ প্রতিনিয়ত পরছেন চরম ভোগান্তিতে। যাত্রী সাধারন ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন খেয়া পার হয়ে ঢাকা যাচ্ছে । প্রায় ১০০ মিটার দৈর্ঘ এই খালটিতে একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে মুন্সীগঞ্জ থেকে কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া হয়ে মাত্র ৩০-৩৫ মিনিটে ঢাকা শহরে পৌছানো যাবে। এতে করে ঢাকা- মুন্সীগঞ্জ রুটের চাপও কমবে । টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা রুটে গাড়ী চলাচল করলে উপজেলার সাথে জেলা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে।
সাধারন মানুষের অভিযোগ পাঁচটি উপজেলার সাথে জেলা জেলা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন কোন উন্নয়ন ঘটেনি । বিভিন্ন উপজেলার সাধারন মানুষকে জরুরি প্রয়োজনে জেলা শহরে আসতে গুনছে দ্বিগুন ভাড়া । সন্ধার পর মিলেনা কোন পরিবহন । ঢাকাগামী যাত্রীরা প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়েন।

নির্বাহী প্রকৌশলী স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর মুন্সীগঞ্জ এর প্রকৌশলী মো: ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ধলেশ্বরী নদীর উপর ৪৮০ মিটার ব্রিজ নির্মাণ করেছি। পাপাশি মোল্লাহারহাট পর্যন্ত রাস্তাটিরও উন্নয়ন করেছি । এখান থেকে তেঘরিয়া পয়েন্টে পৌছাতে মোল্লারহাটে একটি গেপ রয়েছে । সেটা ঢাকা জেলার দক্ষিন কেরানীগঞ্জের আওতাভুক্ত । আমার জানামতে সেখানকার ব্রিজটি এখন চুরান্ত হওয়ার পথে । ডিজাইন চুরান্ত করতে গেলে বিআইডাব্লিউ টিএর একটি ভার্টিকেল ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন । সেটাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে । আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে ডিজাইন চুরান্ত করে ঢাকা জেলা থেকে টেন্ডার আহব্বান করা হবে। এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে খুব অল্প সময়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা শহর থেকে ঢাকা পৌছানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি জেলা শহরের যানজটও কমে আসবে । আশা করি আগামী ১ কিংবা ২ মাসের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া চুরান্ত হবে।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন