প্রতারক মাহবুব-পাপিয়া দম্পতির কান্ড!

স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকায় হঠাৎ জায়গা সম্পত্তির দাম বেড়ে যাওয়ায় পেশাদার ভূমিদশ্যূ ও জালিয়াতরা নিরীহ মানুষের জায়গা সম্পত্তি নিয়ে ভয়াবহ তৎপর শুরু করেছে। এধরনের ঘটনা একটি দুটি নয় অসংখ্য। ভূমিদশ্যূতা, ভূমি নিয়ে প্রতারনা, জালিয়াতি, জবর দখল, ভূমি নিয়ে হামলা, মারা-মারি এসব ফৌজদারী অপরাধ। যে, অপরাধ গুলোর ব্যাপাে থানায় ফৌজদারী মামলা হওয়ার যোগ্য। কিন্তু থানা কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে মামলা না নিয়ে নানা ধরনের ছলচাতুরী ও অপকৌশলে লিপ্ত হয়। এক কথায় থানা থেকে বলে দেয়, জায়গা জমি নিয়ে থানায় মামলা হয় না।
আদালতের নিষেধ আছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষের নিষেধ আছে। প্রকৃত পক্ষে, জায়গা জমির মোকাদ্দমার সিদ্ধান্ত দেয়ার এক্তিয়ার একমাত্র আদালতেরই। কিন্তু জমি নিয়ে জালিয়াতি, প্রতারনা, জবর দখল, হামলা, নির্যাতন এসব ফৌজদারী অপরাধ। এসবের মামলা থানাতেই হবে। বর্তমানে থানা সবজেনেশুনে এসব ব্যাপারে মামলা না নিয়ে, জিডি নিয়ে বিষয়টি তাদের নিয়ন্ত্রনে রাখে এবং ইচ্ছা মতো উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে নিয়ে দলিলপত্র রেখে দিয়ে রীতিমত হিয়ারিং এর নামে থানার অভ্যন্তরেই তথাকথিত দেওয়ানী আদালত বসায়।
অনেক ক্ষেত্রে এলাকার কিছু টাউট বাটপার, “মহল্লার বড়ভাই হাজি বাচ্চু মিয়া”, মুরুব্বী, মাতবর তথাকথিত গণ্যমান্য ব্যক্তি পুলিশের সাথে যোগ দেয়। এটি এখন প্রায় প্রতিটি থানার অলিখিত রুটিন ওয়ার্কে পরিনত হয়েছে।
দক্ষিণখান থানা এলাকার ঘটনাঃ মোহাম্মদ ফেরদৌস এবং স্ত্রী নারগিস আক্তার তারা সৌদী প্রবাসী। বহু বছর বিদেশে থেকে টাকা পয়সা নিয়ে দেশে এসেছেন। তাদের সাথে দেখা হয় ৬৫ নং সোনার খোলা রোড, দোবাদিয়া, দক্ষিণখান, ঢাকার কুখ্যাত প্রতারক পেশাদার ভূমি জালিয়াতি মাহবুবুর রহমান ওরফে মাহবুব শরীফ (৬০) এবং তার স্ত্রী পাপিয়া রহমান (৫৫) এর সাথে। তারা বহু বছর যাবৎ ভূমি জালিয়াতি ও প্রতারনা ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা ফেরদৌস-নারগিস দম্পতিকে পেয়েই প্রতারনার ও জালিয়াতির মহাপরিকল্পনা নেয়। প্রতারক মাহবুব পাপিয়া দপ্ততি ফেরদৌস-নারগিস দম্পতিকে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তারা উক্ত ৬৫নং বাড়িটি তাদের (ফেরদৌস-নারগিস দম্পতির) কাছে বিক্রি প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব অনুযায়ী তারা সেখানে ৩ কাঠা জমি রেজিষ্ট্রি বায়না সূত্রে ফেরদৌস দপ্ততির কাছে বিক্রি করেন। ৬ মাসের মেয়াদে এ বায়না রেজিষ্ট্রি করা হয়। বিগত ১৬/০৬/২০১৬ইং তারিখে। এ মেয়াদের মধ্যেই ফেরদৌস বাকি টাকা দিয়ে জমিটি রেজিষ্ট্রি করে নিতে গেলে মাহবুব পাপিয়া পালিয়ে যায়। গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাকে ডাকা হলেও সে আসেনি। এদিকে বায়না সূত্রে মালিক হয়ে ফেরদৌস উক্ত জমিতে ঘরবাড়ি তুলে বায়নার তারিখ থেকে বসবাস করেন। এদিকে তিনি জানতে পারেন তার কাছে জমিটি বিক্রির পূর্বে মাহবুব জমিটি ব্যাংকে মর্টগেজ (বন্ধক) দেয় এবং একাধিকবার বিক্রি করে। আরো জানতে পারেন, কয়েক বছর পূর্বে (২০১১ সালে) উক্ত মাহবুবুর রহমান ওরফে মাহবুব শরীফ এবং তার স্ত্রী পাপিয়া রহমান উক্ত জমিটি দেখিয়ে “শতবর্ষ বিল্ডার্স লিমিটেড” এর এম.ডি জনাব গিয়াস উদ্দিন তরফদার (খোকন তরফদার) এর থেকে ১০ লাখ টাকা সাইনিং মানি হিসাবে গ্রহন করেন, এবং বিভিন্ন সময়ে আরো ১০ লাখ টাকা নগদ সহ মোট ২০ লাখ টাকা জমিটির ব্যাপারে গ্রহন করে। ঘটনা জানা জানি হয়ে গেলে প্রতারক মাহবুব-পাপিয়া দম্পতি শতবর্ষ বিল্ডার্স লিমিটেড এর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। “শতবর্ষ বিল্ডার্স লিমিটেড” এর এম.ডি জনাব গিয়াস উদ্দিন তরফদার (খোকন তরফদার) এর সরলতার সুযোগে তার এ অপকর্ম করে।
এত কিছু করেও প্রতারক মাহবুব-পাপিয়া দম্পতি, ফেরদৌস-নারগিস দম্পতিকে হত্যার জন্য গুন্ডা ভাড়া করে। এ গুন্ডা ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে বজলু ও কালামসহ এবং আরো অজানা সন্ত্রাসীদের তারা ভাড়া করে। গত ১০/১১/২০১৭ইং তারিখ সকালে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে ফেরদৌসকে আক্রমন করে এবং ঘরে ঢুকে তার স্ত্রী নারগিসকে আক্রমন করে। তারা হামলার সাথে সাথে ফেরদৌস এর চোখ উপরে ফেলার চেষ্টা করে। তাদের চিৎকার শুনে ঘটনা স্থলে হঠাৎ পুলিশ এসে পড়লে সন্ত্রাসী বজলু ও কালাম পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ তদন্ত করে।
মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ এর তদন্তকারী কর্মকর্তা জনাব মোঃ নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য উপাত্ত যাচাই করে সাংবাদিকদের জানান, জমিটির প্রকৃত মালিক বর্তমানে ফেরদৌস এর স্ত্রী নারগিস আক্তার এর ওপর বর্তায়। যেহেতু তার নামে বায়না রেজিষ্ট্রি হয়েছে। এবং তাদের দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। অপর দিকে শতবর্ষ বিল্ডার্স লিমিটেড এর এম.ডি’র কাছে থেকে প্রায় অর্ধযুগ পূর্বে প্রতারক মাহবুব-পাপিয়া দম্পতি উক্ত জমি দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। একারণে লভ্যাংশসহ তিনি উক্ত টাকা ফেরত পাওয়ার হকদার। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ এর তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো মত প্রকারশ করেন, যেহেতু এক্ষেত্রে মাহবুব-পাপিয়া দম্পতি দেওয়ানী ও ফৌজদারী অপরাধ করেছেন, এ কারণে তাদের মাননীয় আদালতের মাধ্যমে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা উচিত। এ ঘটনার ব্যাপারে জানতে গিয়ে একাধিকবার অপেক্ষা করেও মাহবুব-পাপিয়া দম্পতিকে বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, উক্ত এলাকার কিছু বদমাস প্রকৃতির মাতবর ফেরদৌস এর প্রায় ৫ লাখ টাকার দেয়াল ভেঙ্গে ফেলায়। এতে ইন্দন যোগায় প্রতারক মাহবুব ও তার স্ত্রী পাপিয়া। একারণে এ ক্ষতিপূরনও এখন প্রতারক মাহবুব-পাপিয়া দম্পত্তি দিতে বাধ্য। এলাকাবাসী জানান, অবিলম্বে আইনী ব্যবস্থা না নিলে ঘটনাস্থলে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

স/এন

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন