শীত বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৌসুমী রোগের প্রকোপও বাড়ছে। আর শিশুরা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

ঠাণ্ডা-জ্বর রূপ নিচ্ছে নিউমোনিয়ায়। সে কারণে ঢাকা শিশু হাসপাতালে প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
শিশুদের সুস্থ রাখতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

ডিসেম্বরের শেষ থেকেই জাঁকিয়ে শীত পড়তে থাকে। তবে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাতে তীব্রতা বেড়ে যায় শীতের। জানুয়ারি মাসে ঢাকা শিশু হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন ৯০৮ জন রোগী বহির্বিভাগে আসছে। সাধারণ সময়ে ৩০০ থেকে ৪০০ এর মধ্যে থাকে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এর মধ্যে গত ৯ জানুয়ারি বহির্বিভাগে রোগী এসেছেন ৯১২ জন।

এর মধ্যে হাসপাতালের বেডে ভর্তি হয়েছেন ৫০৩ জন। ১০ জানুয়ারি বহির্বিভাগের ৮৭৩ জনের মধ্যে ৫০৯ জনকে ভর্তি হতে হয়েছে। এছাড়াও ১১ জানুয়ারি ভর্তি হয়েছেন ৫০৪ জন এবং ১২ জানুয়ারি ৪৮২ জন। এর মধ্যে ১৪৫ জন শিশুরই সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ৯ জানুয়ারি ১৩ জন, ১০ জানুয়ারি ছয় জন এবং ১১ জানুয়ারি সাত জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

হাসপাতালের রেকর্ড থেকে জানা যায়, গত ১২ দিনে শুধু ৭৫ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

১৩ জানুয়ারি সকালেও হাসপাতালের বহির্বিভাগে অভিভাবকসহ শিশু রোগীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
ঢাকার মিরপুর থেকে তিন বছরের রাইয়ান আহমেদকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন বাবা সাইফুল আলম। তিনি জানান, গত দুইদিন ধরে জ্বর আর ঠান্ডা। জ্বর ১০০ এর ওপর। কমছিল না। সে কারণে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হলো। চিকিৎসক দেখে বলেছেন, ঠান্ডা থেকে জ্বর আর কাশি হয়েছে। ভয়ের কিছু নেই। ওষুধ দিয়েছেন।

ঢাকা শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ও সহকারী অধ্যাপক ডা. রিজওয়ানুল আহসান জানান, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে ঠান্ডা-কাশি-জ্বর বাড়ছে। এটা পরে নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে। তবে বাবা-মাকে খেয়াল রাখতে হবে শিশুর প্রতি যেন ঠান্ডা যেন শ্বাসকষ্টে রূপ না নেয়।

তিনি বলেন, ঠান্ডার প্রকোপ বাড়ছে। সাধারণ সময়ে যেখানে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ রোগী আসেন বহির্বিভাগে, সেখানে এখন প্রায় ৯০০।

এই শীতে শিশুদের উষ্ণ আরামদায়ক কাপড় পরতে দিতে হবে। সবসময় পানি গরম করে খাওয়াতে হবে এবং ব্যবহারের পানিও গরম করে দিতে হবে। এ সময় অল্প মধু এবং তুলসী পাতা খেলে ভালো। তবে অতিরিক্ত গরম কাপড়ের কারণে শিশুর শরীর যেন ঘামিয়ে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে বলে পরামর্শ দেন ডা. রিজওয়ানুল আহসান।

তিনি বলেন, দুই বছরের নিচে শিশুদের অন্যান্য খাবারের সঙ্গে বুকের দুধ খেতে দিতে হবে। আর দুই বছরের ওপরের শিশুরা রাস্তায় যেন ধুলাবালিতে খেলা না করে, বাইরে যেন মাস্ক ব্যবহার করে সেদিকে নজর রাখতে হবে। এছাড়াও রঙিন শবজি ও ফল খেতে হবে।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের লক্ষণ হিসেবে তিনি বলেন, শিশুর প্রচণ্ড জ্বর আসবে। কাশি হবে। খেতে চাইবে না। মিনিটে ৬০ বারের বেশি শ্বাস নেওয়া বা বুকের দুই পাশের পাঁজর নেমে যেতে পারে।

স/এন

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন