সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় হাট-বাজার ইজারাদারদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট থাকা সত্বেও পাওনা টাকা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। উক্ত বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা কতৃপক্ষের গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দলীয় বিবেচনায় হাট-বাজার ইজারা প্রদান করার কারনে বকেয়া পাওনা আদায় করা সম্ভবপর হচ্ছেনা বলে একটি মহল ধারনা করছেন।
জানা যায়, হাট-বাজারের পাওনা টাকা পরিশোধ করার তাগিদ দিয়ে সালথা উপজেলার পূর্ববর্তী নির্বাহী অফিসার বিশ^াস রাসেল হোসেন পদক্ষেপ নিলেও কোন সাড়া মেলেনি। তিনি খেলাপিদেরকে নোটিশ পাঠানো সত্বেও কেউ বিষয়টি আমলে নেয়নি যার প্রেক্ষিতে সে সময় সার্টিফিকেট মামলাও করা হয়ে ছিলো। বর্তমানে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির আগস্ট-২০১৭ মাসের সভার কার্যবিবরনীতে বিষয়টি অন্তভুক্ত করে মুক্ত আলোচনা করা হয়। পাওনা আদায়ের আইন মাফিক ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। উক্ত সিদ্ধান্ত মোতাবেক হাট-বাজারসহ যে সকল সার্টিফিকেট মামলা পেন্ডিং রয়েছে সে মামলাগুলো পুনরায় চালু করতে (ডব্লিউ/এ) ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ মোবাশ্বের হাসান। এরা হলেন মো: হাবিবুর রহমান গট্রি-১,১৪,৫০০ টাকা, মো: লুৎফার রহমান ভাওয়াল-৭৯,০২০ টাকা, মো: হিমায়েত হোসেন কাগদী-৯০,২৪৩ টাকা, মো: নূরদ্দীন মাতুব্বর আড়–য়াকান্দি-১,৮৭,১০০ টাকা, আমিরুল ইসলাম মাঝারদিয়া-১,৬২,২০০ টাকা, আহম্মদ আলী মাঝারদিয়া-৩,৭৮,০০০ টাকা, মো: জাকির হোসেন নকুলহাটি-১,২৫,২২০ টাকা, মো: লিটন মিয়া রঘুনন্দপুর-৬২৭ টাকা, মো: ফজলু মাতুব্বর ফুকরা-১২,৯১৪ টাকা, মো: কাজল মাতুব্বর কাগদী-৩,২০,৬৮৫ টাকা, রবিউল মুন্সী পিসনাইল-৩৮,০০১ টাকা, মো: জালাল খান ফুকরা-৮,৮১৪ টাকা, মো. বাদল হোসেন সালথা-৭,৭০,০১৪ টাকা, মো: আবুল খায়ের সালথা-৫,০৫,২০০ টাকা, বিলায়েত হোসেন ভাওয়াল-১০,১৬,৮০০ টাকা, মো: সিদ্দিক মাতুব্বর ভাবুকদিয়া-১৪,২৩,৮৭৫ টাকা, আবুল বাশার মাতুব্বর হোড়েরকান্দি-৭,০০০ টাকা, তানিয়া সুলতানা হেনা গট্রি-২,৮৭,০০০ টাকা, তাপস কুমার হোড় ফুলবাড়িয়া-১,০০,০০০ টাকা ও মো: নুরুদ্দীন মাতুব্বর আড়–য়াকান্দি-২৭,১০০ টাকা। এরমধ্যে যুবলীগ নেতা লুৎফর রহমানকে গ্রেফতার করে ৭৯ হাজার ২০ টাকা আদায় করে নিয়েছে। আর কিছু আসামীরা রাঘব বোয়ালদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। স্থানীয়দের দাবী বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় উল্লেখিত কিছু নেতার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহনের অংশ হিসেবে ৭ ধারায় নোটিশ ইস্যু করা হলেও রাঘব-বোয়ালরা কি পার পেয়ে যাবে ? তালিকা অনুযায়ী এই আসামীদের গ্রেফতার করে ৫৭ লক্ষ টাকা আদায়ের কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে কি না, জনগন তা জানতে চায়।
সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, আমার কাছে যে কয়টি ওয়ারেন্ট আছে, তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, সমস্ত ওয়ারেন্ট সালথা থানা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।

 

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন