একই স্থানে পরপর তিনবার আস্তানা গড়ার চেষ্টা করেছিল জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্যরা। রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ায় এর আগে দুইবার র‌্যাব অভিযান পরিচালনা করে।

২০১৩ সালে পরিচালিত হয় প্রথম অভিযান এরপর ২০১৬ সালে আবারও একই এলাকায় আস্তানা গড়ার চেষ্টা করে। সেইবারও র‌্যাব জেএমবি জঙ্গি আটক করে।

সর্বশেষ আজ শুক্রবার ভোরেও আস্তানার সন্ধান মেলার পর পরিচালিত অভিযানে ৩ জঙ্গি নিহত হয়। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পেছনে জঙ্গিদের বারবার আস্তানার গড়ার টার্গেটকে বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টাই মনে করছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে জানা যায়, ফার্মগেট থেকে পশ্চিম দিকে ২৫ টাকার রিকশা ভাড়া। পশ্চিমের রাস্তায় অলিগলির পথ। দু’পাশে বাড়ি। মূলত এ বাসা-বাড়িগুলোতে ফ্যামিলির চাইতে মেস করে ছাত্র এবং কর্মজীবীরাই বেশি থাকে। আর জঙ্গি আস্তানা গড়ে তোলা ‘রুবি ভিলা’ ৬ তলা ভবন। এই ভবনের মালিক এস এম সাব্বির হোসেন বিমানের স্টুয়ার্ডস। বাসাটিতে মোট ৫৭ জন থাকেন। এর মধ্যে ২২ জনই ছাত্র। আর ৫ তলার বাম পাশের ইউনিটটিতে জাহিদ পরিচয়ে ভাড়া নেয় জঙ্গিরা। সিট আকারে প্রতিজন ২ হাজার টাকা। অর্থাৎ তিনজন মিলে ৬ হাজার টাকায় তারা রুম ভাড়া নেয়।

জানা যায়, বাসা ভাড়া নেয়ার সময় তারা কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র বা কোনো ধরনের আইডি কার্ড দেননি বাসার মালিক কিংবা কেয়ারটেকারকে। বাসার অন্য লোকেরাও বলতে পারেন না নতুন ভাড়াটিয়া এরা কারা কিংবা কী করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু রায়হান জানান, ভোরের দিকে গুলির শব্দ শুনতে পান। এরপর দেখেন র‌্যাবের সদস্যরা দৌড়াদৌড়ি করছেন। পরে জানতে পারেন জঙ্গিদের সঙ্গে র‌্যাবের গোলাগুলি চলছে। পরে তিনি আর বাসা থেকে বের হননি। বিকেলে জঙ্গি আস্তানার কাছেই এ প্রতিবেদকের সঙ্গে তার কথা হয়।

তিনি বলেন, এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ। কে কী করেন এসব নিয়ে কেউ চিন্তা করে না। তবে ভাড়া নেয়ার সময় অবশ্যই সঠিক নাম ঠিকানা বা কর্মস্থলের ঠিকানা নেয়া উচিত ছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বার বার এই এলাকায় জঙ্গিরা আস্তানা গড়ার চেষ্টা করেছে কারণ ঘনবসতি হওয়ার সুবাদে সহজেই এলাকায় জায়গা করে নেয়া সম্ভব। এছাড়া জঙ্গিদের সবসময় বড় ধরনের নাশকতা করার টার্গেট থাকে। এখান থেকে সহজেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এমনকি এমপি হোস্টেল টার্গেট করা সম্ভব।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, জঙ্গিরা সবসময় নিরাপদ জায়গা খোঁজে। ঘনবসতি এলাকা হওয়ার সুবাদে মানুষের মাঝে মিশে যাওয়ার সুযোগ থাকে। এ কারণে তারা এ এলাকা টার্গেট করেছে। বার বার জঙ্গিদের এমন টার্গেটে এলাকায় আতঙ্ক এবং বাসাভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে আরো সচেতন হবে বলে তিনি মনে করেন।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়ার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খানও মনে করেন, ঘনবসতি হওয়ার সুবাদে বার বার এই এলাকাকে বেছে নিয়েছে জঙ্গিরা। এছাড়াও তাদের টার্গেট এই এলাকাকে ঘিরে হতে পারে। কেননা এখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এমপি হোস্টেল সবই রয়েছে। বড় ধরনের হামলার টার্গেট নিয়ে তারা এখানে এসেছিল।

তিনি বলেন, র‌্যাবের জঙ্গিবিরোধী নজরদারীর কারণে তাদের সে পরিকল্পনা সফল হয়নি। র‌্যাব জঙ্গিদের বিষয়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। গোপন সংবাদ পাওয়া মাত্রই তারা এ এলাকা ঘিরে ফেলেন। পরবর্তীতে বাড়ি সনাক্তের পর তারা মূল অভিযান শুরু করেন।

তিনি আরো বলেন, এর আগে র‌্যাব ২০১৩ এবং ২০১৬ সালে একই এলাকা থেকে জঙ্গি গ্রেপ্তার করেছিল।

এর আগে বিমান নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেএমবি জঙ্গি সাব্বির নামের এক পাইলটকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে আদালতে জবানবন্দিতে সাব্বির জানায়, বিমান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন কিংবা কার্যালয়ে হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

মূলত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনকে টার্গেট করে জঙ্গিরা পরিকল্পনা করছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা মনে করেন।

শুক্রবার ভোরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যায়ের পেছনে নাখালপাড়ায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। পরে সেখানে অভিযানে ৩ জঙ্গি নিহত হয়। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ।

স/এষ্ব

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন