খাইরুল ইসলম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে অবশেষে রাজাপুর থানার সদ্য বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ ওসি মুনির উল গিয়াস ওরফে দিপুকে ‘বিএনপি জামায়াত ভাবধারার অফিসারের গোপন তালিকায়’ উঠে এসেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে মাঠ পর্যায়ে “বিএনপি জামায়াত কানেকশনে যুক্ত” বিভিন্ন থানার ওসিদের এক গোপন তালিকার ওসি মুনিররের নাম বেড়িয়ে আসায় ঝালকাঠি-রাজাপুর এলাকাবাসীসহ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃাষ্ট হয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তের পর পুলিশের গুরুত্বপূর্ন পধাদিকারী ৯৫ জন অফিসারের গোপন তালিকার ইতিমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জমা দেয়া হয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাগেছে।
গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রতিবেদনে তৈরীর ক্ষেত্রে তালিকাভূক্ত কর্মকর্তাদের শিক্ষাজীবন, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাÑমতাদর্শ, তাদের আত্মীয়-স্বজনের কর্মকান্ড ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সবিস্তারে বর্ণনা অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে সারা দেশের পরিদর্শকের নাম-তালিকা প্রস্তুত করা হলেও এরপর এএসপি সার্কেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও আরো যেকটি স্থরের তালিকাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, এ সব কর্মকর্তারা নিজেদের বিএনপিÑজামায়াত প্রেমী মনোভাব আড়াল করতে বর্তমানে স্বস্ব কর্মএলাকায় অতিমাত্রায় আওয়ামী লীগ সেজে সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সময় মতো এসব কর্মকর্তা তাদের খোলস ছুড়ে ফেলে আসল চেহারা বের করে আগের ভূমিকায় ফিরে যেতে পারেন। যা সরকারের জন্য মারাত্মক হুমকির কারন হয়ে দাঁড়াবে। তাদের বেশির ভাগই ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে নিয়োগ পেয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, তালিকায় নাম আসা কর্মকর্তাদের অনেকেই ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা এখনো গোপনে বিএনপি জামায়াতকে সহায়তা করে যাচ্ছেন। তাদের অনেকের আত্মীয় স্বজন বর্তমানেও বিএনপি জামায়াতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পদে রয়েছেন। তালিকায় বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যাদের নাম তালিকায় এসেছে তাদের ব্যাপারে আরো খোঁজ খবর নিয়ে সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ৯৫ জনের নামের তালিকায় রয়েছে ঝালকাঠি জেলার গোয়েন্দা পুলিশের সূত্র ও যশোরের কয়েক সংবাদকর্মী জানায়, রাজাপুর থানার সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও যশোরের শংকরপুর গ্রামের বদ্ধভূমি সংলগ্ন এলাকার মন্নান মাষ্টারের পুত্র ও যশোরের মাফিয়া ডন আলোচিত বিএনপি নেতা কমিশনার নূরনবি বাহিনীর ক্যাডার ওসি মুনির উল গিয়াস ওরফে দিপু, তার বড় ভাই মামুন ও ছোটভাই টিপু সহ পরিবারের সবাই কট্টোর বিএনপি। ৮০-৯০ দশকে যশোরে ছড়িয়ে পরা নিষিদ্ধ সংগঠনের সাথে দিপু তথা মুনির ও ছোটভাই টিপু জড়িয়ে পরে। কলেজ জীবনে প্রবেশ করে সে ও তার ছোট ভাই যশোর এমএম কলেজে বিএনপির ছাত্রসংগঠনে নাম লেখানোর পর মাফিয়া ডন আলোচিত বিএনপি নেতা কমিশনার নূরনবি বাহিনীর ক্যাডার হিসাবে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। কলেজ পেড়িয়ে আসার এক পর্যায় ছোটভাই টিপুকে নূরনবি বাহিনীতে যুক্ত রেখে ১৯৯১-৯২ সালে কমিশনার নূরনবির মধ্যস্ততায় ক্ষমতাশীন বিএনপির মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের সুপারিশে পুলিশ বিভাগে ডুকে পরে।

ঝালকাঠির রাজাপুর থানার ভূক্তেভুগীরা অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতা এক ডাকাত সর্দারের বাড়ীতে ভূরিভোজসহ মাসোয়ারার চুক্তিতে শেল্টার দেয়া, তক্ষক পাচারকারী চক্রের (টক্করনাথ) পাঁচ সদস্যকে আটক করে ২ লাখ টাকার নিয়ে ছেড়ে দেয়া, জুয়ার আসার-মাদক ব্যবসায়ী ও উপজেলায় চলমান ৫শতাধিক ব্যাটারী চালিত অটো থেকে মাসে ২শ টাকা মাসোয়ারা আদায়, রাজাপুর থানায় এজাহার প্রতি ১০ হাজার ও পুলিশ ভ্যেরিবেকেশন প্রতি ৫ হাজার টাকা আদায় ও নিয়মিত গ্রেপ্তার বানিজ্যের মাধ্যমে সাবেক ওসি মুনির মাসে কমপক্ষে ১০লাখ টাকা আয় করতো।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ মাষ্টারের ভাতিজিকে জুয়েলার্স থেকে আটক করে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া, মুক্তিযোদ্ধা-শিক্ষানুরাগী সালাম হত্যা মালার আসামীদের কাছ থেকে ৬লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে আত্মসমার্পন, বাইপাস মোড়ের ব্যবসায়ী আ’লীগ কর্মী মীর খায়রুলকে অপহরন ও গুমকারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে তার বিধবা স্ত্রীর সাথে র্দূব্যবহার ও কলেজছাত্রকে বাসা তেখে গভীর রাতে থানায় ডেকে এনে ৫লাখ টাকা দাবী না হলে ক্রোশফায়ারের হুমকি দিয়ে দুইলাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পুরো রাজাপুর বাসীর কাছে ওপেন সিক্রেট।

রাজাপুরের নির্যাতিত কয়েক সাংবাদিক ও থানার সোর্স জানায়, বিকৃত যৌনসন্ত্রাসে অভ্যস্ত রাজাপুর থানায় সাবেক ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকে একাধিক নারী কেলেংকারীরর ঘটনা ঘটিয়েছে। স্ত্রী-সন্তানকে খুলনায় রেখে চাকুরীস্থল রাজাপুরে বসবাকালে তিনি স্থানীয় কয়েক বিতর্কিত নারীর কাছে যাতায়াত করতে। এমন কি থানার অভ্যন্তরে পুলিশ সদস্য ও বাইরে অকিবহল মহল আড়ালে-আবডালে ‘লেডি কিলার’ নামে উল্লেখ করতো।
প্রসঙ্গত, এসব ঘটনার মধ্যে ২০১৩ সালের পুলিশ হেফাযতে নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের ১৫/১ ধারার অধীনে রাজাপুর থানার সাবেক (ওসি) মুনির উল গিয়াস সহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। কলেজ ছাত্র আদনান বাদী হয়ে ঝালকাঠি বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে নির্যাতন ও অপচিকিৎসার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগামী ১৪ জানুয়ারী বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতে উক্ত মামলা শুনানীর দিন ধার্য রয়েছে।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন