সবাইকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, আগে দেখা যেত, অনেক প্রতিষ্ঠান দেশে শৈত্যপ্রবাহ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতার্তদের পাশে ঝাঁপিয়ে পড়ত, বিত্তবানেরো ঝাঁপিয়ে পড়ত, এবার কিন্তু এই লক্ষণটা দেখি না।

আমি বিত্তবানদের অনুরোধ করব অতীতে যেভাবে আপনারা সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, দলমত নির্বিশেষে সবাই ঢাকায় বসে টেলিভিশনে চেহারা না দেখিয়ে চলুন শতার্তদের পাশে গিয়ে দাঁড়াই।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এ কথা বলেন। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোরও অনুরোধ করেন তিনি।

সারা দেশে শৈত্য প্রবাহের মধ্যে শীতার্তদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে কম্বল ও শুকনো খাবার বিতরণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০ কর্মকর্তাকে শীতপ্রবণ ২০ জেলায় পাঠিয়েছে সরকার।

শৈত্য প্রবাহে শীত বস্ত্রের জন্য কেউ যেন কষ্ট না পায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই নির্দেশ দিয়েছেন জানিয়ে মায়া বলেন, আমাদের মজুদের কোনো কমতি নেই।

মন্ত্রী জানান, চলমান শৈত্য প্রবাহে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট, রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, যশোর, ঝিনাইদহ, পাবনা, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে।

এসব জেলায় শীতবস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণ এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে।

তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করবেন, কম্বল ও শুকনো খাবার বিতরণ নিশ্চিত করে মন্ত্রণালয়কে শৈত্যপ্রবাহের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবেন।

শীত না কমা পর্যন্ত এসব কর্মকর্তারা ওই ২০ জেলায় থাকবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সোমবার রাতে অনেকে চলে গেছেন। অনেকে আজ (মঙ্গলবার) রাস্তায় আছেন। মঙ্গলবার রাতে ত্রাণসচিব উত্তরবঙ্গে যাবেন। আমি চাঁদপুরে গিয়ে কম্বল বিতরণ করব।

মায়া জানান, শীতার্তদের জন্য ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১০ লাখ ১১ হাজার ৯০০টি কম্বল এবং ৮০ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী তার ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে ১৮ লাখ কম্বল পাঠিয়েছেন।

অতি শীতপ্রবণ ২০ জেলার জন্য এক লাখ কম্বলের পাশাপাশি ৮০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে বলে জানান ত্রাণমন্ত্রী।

জেলায় জেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে জানিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ওইসব কন্ট্রোল রুম থেকে তথ্য পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। কেন্দ্রীয়ভাবে ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরে একটি করে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসচিব শাহ কামাল ছাড়াও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন