মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আ”লীগের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রিপন পাটোয়ারি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা গ্রুপের সমর্থকদের সংঘর্ষে জড়িত অস্ত্রধারীরা এখনও গ্রেফতার হয়নি। গত- ৩ জানুয়ারি দু”গ্রুপের সংঘর্ষে নারীসহ ৭জন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়। এ সময় চৈতারচর এলাকায় সংঘর্ষে চলাকালে ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মানিক (৪০) নামের একজন নিখোঁজ হয়। সে সময় দেশী বিদেশী অস্ত্র এবং ককটেল নিয়ে পুরো ইউনিয়নের প্রতিটা গ্রামের পাশে অস্ত্রসহ মহড়া দিয়েছিল অস্ত্রধারীরা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবিসহ প্রতারিত অস্ত্রধারীরা এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীরা ভয় আর আতংক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে সংঘর্ষের দিন থেকে নিখোঁজ মানিকের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা গিয়েছিল মানিক ফিরে এসেছে । মানিক নিখোঁজ ছিল? নাকি উদ্ধার হয়ে নিজে পালিয়ে ছিল এ ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। ৬ জানুয়ারি সকালে চৈতারচর খাল থেকে মানিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একদিকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আতংক অন্যদিকে মানিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে । বিভিন্ন গ্রাম থেকে কিছুক্ষন পর পর ককটেল বিস্ফোরনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। স্থানীয় নিরীহ গ্রামবাসীদের আশংকা এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহসিনা হক কল্পনা সমর্থকরা গ্রামগুলোতে লুটপাট করার পায়তারা খুঁজছেন বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্ধারা। আবার অনেক নীরিহ গ্রামবাসী স্কুল পড়–য়া ছেলে মেয়ে,থালাবাটি কম্বল এবং গবাদিপশু ইত্যাদি নিয়ে পার্শবর্তী ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

একাধিক স্থানীয় গ্রামবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,আমাদের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের সংঘর্ষে আধারা গ্রাম থেকে ২ শতাধিক লোক অস্ত্র, লাঠি শোটা ও ককটেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িত হয়েছিল। ইউনিয়নটিতে প্রকাশ্যে অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে যুদ্ধের মত পরিস্থিতি সৃস্টি করেছিল কারা?। অস্ত্রধারীরা কে কার লোক? কে তাদের অস্ত্র এবং গোলাবারুদ কেনার জন্য অর্থ দিচ্ছে ?। বহিরাগত গ্রাম আধারা থেকে রহমত আলী মোল্লার দলের লোকজন কার নেতৃত্বে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে প্রবেশ করে ?। প্রতিটা সংঘর্ষের ঘটনায় আধারা থেকে ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে অরাজগতা ও বাড়ী ঘরে ভাংচুর করে। এই দু”পক্ষের সংঘর্ষে কারা প্রকাশ্যে জড়িত হচ্ছে। কারা ঢাকা থাকার নাটক করে অর্থ দিয়ে ককটেল বানাতে সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করে ? । তাদের সকলের বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন নিরীহ গ্রামবাসীরা।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আলমগীর হোসাইন জানান, মোল্লাকান্দির সংঘর্ষের ঘটনার এ পর্যন্ত লালগেঞ্জি পরিহিত অস্ত্রধারী রিফাতসহ ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। অস্ত্রধারী এবং সংঘর্ষে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন