হাফিজুর রহমান হৃদয়;  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ব্যাপারীর বিরুদ্ধে সরকারি টিন, জিআর, কৃষি পূর্নবাসন বরাদ্দ, ত্রাণের চাল-টাকা এবং ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ওই ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ওয়ার্ডের সদস্যরা লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, দুদক কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে। ইউপি সদস্যরা অভিযোগে উল্লেখ করেন গত ছয় মাসে তিনি ১৭ লাখেরও বেশি টাকা আত্মসাত করেছেন। এ অভিযোগ করেন ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল খালেক, ৮নং ওয়ার্ডের আবুল হোসেন, জয়নাল আবেদীন, ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য খতিবর রহমানসহ অন্যান্য ইউপি সদস্যরা।
অভিযেগে জানা যায় বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে থাকেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় চেয়ারম্যান বিগত ৬ মাসে যে সব বরাদ্দ পেয়েছেন প্রতিটি বরাদ্দ থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকাসহ ত্রাণের ১৩ বান্ডিল টিন আতসাৎ করেছেন। ৫নং ওয়ার্ডের লুছনী এলাকার শমসের আলীর ছেলে আব্দুস সামাদ, ময়দান আলীর ছেলে আব্দুল কাদের, মনছের আলীর ছেলে আব্দুল খালেক, নূর মোহাম্মদের স্ত্রী মমিনা বেগম মকরম আলীর ছেলে আতাউর রহমানের কাছ থেকে টিন দেয়ার কথা বলে ২হাজার করে টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে তাদেরকে শুধু টিন দিয়ে বরাদ্দকৃত টাকা দেয়নি। ৩নং ওয়ার্ডের মিয়াপাড়া এলাকার মৃত হায়পত আলীর ছেলে আব্দুল কাদেরের তালিকায় নাম থাকলেও তাকে টিন ও টাকা কোনোটাই দেয়নি এবং একই এলাকার শান্ত মিয়া শুধু টিন পেলেও টাকা পায়নি। ৩নং ওয়ার্ডের মজিবর রহমানের ছেলে শাহানুর ইসলামসহ অনেকের কাছ থেকে সোলার দেয়ার কথা বলে ৩হাজার করে টাকা উৎকোচ নিয়ে আÍসাৎ করেছে। এছাড়াও বিগত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাঘাট মেরামতের জন্য ৪০দিনের কর্মসুচিতে ২শ ১৯জন শ্রমিক বরাদ্দ দেয়া হলেও চেয়ারম্যান কোনোপ্রকার সভা সমন্বয় না করে স্ব-স্ব ওয়ার্ডের সদস্যগণকে সভাপতির দায়িত্ব না দিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো সামান্যকিছু শ্রমিক দিয়ে কাজ করে অর্থ আÍসাতের পায়তারা চালিয়ে আসছে। তবে চেয়ারম্যান জানান তার ইউনিয়নের ৩১৯ জন ৪০ দিনের কর্মসূচীতে কাজ করছে। অভিযোগে আরো উল্লেখ রয়েছে ৪৯বান্ডিল ঢেউটিনের মধ্যে ৩৬বান্ডিল বিতরণ করে ১৩ বান্ডিলের ৩৯হাজার টাকা, জিআর বরাদ্দের ৯০হাজার টাকা, বরাদ্দকৃত ১লাখ ৪৭হাজার টাকা, কৃষি পুনর্বাাসনের ১লাখ ৫০হাজার টাকা, ত্রানের চাউল ও বরাদ্দকৃত টাকার ৩লাখ টাকা এবং ভিজিএফ এর ৪৫টন চালের মধ্যে মাত্র ২-৩টন বিতরণ করে বাকী ৪২টনের ১০লাখ টাকা আÍসাৎ করেছে। যার কোনো বরাদ্দের কপি নির্বাচিত সদস্যদেরকে অবগত করে নাই। শুধু এসব দুর্নীতিই নয় তার আইনশৃঙ্খলায়ও তার ইউনিয়নে ব্যাপক অবনতি হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত এলাকায় বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় চলছে জুয়া খেলার আসর। বেড়েছে চোরের উপদ্রপও। আর তাই শান্তিতে ঘুমাতে পারছে না সাধারণ মানুষ। চেয়ারম্যানের এহেন দুর্নীতির কারণে যেমন সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে তেমনই সাধারণ মানুষ তাদের বরাদ্দকৃত মাল না পেয় সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে। চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে ইউনিয়ন সদস্যগণসহ সাধারণ জনগণ।
এ বিষয়ে বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, খালেক মেম্বার ত্রানের টিনের তালিকায় ছেলে ও ভাইয়ের নাম দেয়ার তার সঙ্গে রাগারাগি করেছি। তার ছেলেকে টিন দিয়েছি টাকা দেইনি। তার ভাইয়ের নামে বরাদ্দের টিন এখনো তোলা হয়নি নদী লোককে দেয়া হবে। ৪০ দিনের কর্মসূচীর বিষয়ে বলেন, অভিযোগ তিনি বলেছেন ২১৯ জন সুবিধাভোগী কিন্তু বাস্তবে উপকারভোগী হচ্ছে ৩১৯ জন। এখানে অনিয়মের কথা জানতে তিনি বলেন, আমি কলম ধরলে তো জাতি থাকেনা।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি এটা নিয়ে কাজ চলছে, তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/এষ্

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন