লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থানা ওসি’র ঘুষ, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর এলাকাবাসী নালিশি অভিযোগ দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। নালিশি অভিযোগে বলা হয়েছে কমলনগর থানা অফিসার ইনচার্জ আকুল চন্দ্র বিশ্বাস অত্র থানায় যোগদানের শুরু থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত ঘুষ, দুর্নীতি, লুট-পাট, সেচ্ছ্চাারীতা সহ নানান অনিয়মের মধ্য দিয়ে ইত্যেমধ্যে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

যোগদানের শুরুটা ছিল অপরাধীকে ধরপাকর, মাদক, জুয়া সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সহিত জড়িতদের ধাওয়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। এর পরপরই শুরু হয় তার বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও ঘুষবাণিজ্য। কোন সাধারণ মানুষ তার সামনে এসে কথা বলার সুযোগ পায়না তার বিকৃত মনোভাবের কাছে। কেউ কোন অভিযোগ-সাধারণ ডায়েরী করতে থানায় আসলে প্রথমে ডিউটি অফিসারের কাছে পাঠায়, পরবর্তীতে দেখা যায় জিডি করতে লাগে নুন্যতম ২০০০ (দুই হাজার) টাকা, অভিযোগের তদন্ত করতে লাগে ৫০০০(পাঁচ হাজার) টাকা এছাড়াও সালিশীর মাধ্যমে মিমাংসাযোগ্য বিষয়গুলি উভয়পক্ষকে নোটিশের মাধ্যমে থানায় এনে সমাধান দিতে লাগে ৫০০০ (পাঁচ হাজার) করে ১০০০০(দশ হাজার) টাকা। মামলা রেকর্ড করাতে হলে লাগে সর্বনিম্ন ১৫০০০ (পনের হাজার) টাকা থেকে শুরু করে ৩০০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে ওপেন হাউজে প্রত্যেক এস.আইকে বলে দেওয়া আছে তার জন্য ১৫০০০(পনের হাজার) ফিক্সড রেখে যা করার করবেন। অভিযোগ সত্য বা মিথ্যা যাই হোক অভিযুক্তদের ধরপাকর সৃষ্টি করেই তাদেরকে দিয়ে পুনরায় আরেকটি কাউন্টার মামলা রেকর্ড করায়। এরকম ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে। ক্ষমতাধর ঘুষখোর এই ওসির সঙ্গে রয়েছে জামায়াত-শিবির পন্থী শতাধিক লোকের ওঠা-বসা। যাহা ওসি আর তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

প্রথমে তাদেরকে ধড়পাকর সৃষ্টি করে পরবর্তীতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে রাতের আধারে যোগসাজেসের মাধ্যমে থানা বেষ্টনীতে ঘুরাফেরার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ায় প্রকাশ্যে তারা একাধিক মামলার আসামী হয়েও বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। কমলনগর থানাটি মেঘনার সন্নিকটে হওয়ায় প্রায়ই নদীতে কোন না কোন ডাকাতির ঘটনা ঘটেই চলেছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দায়ের করলে দুই একজনকে ধরপাকর করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রকৃত ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্যদের ছাড় দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের বদলির ব্যাপারেও রয়েছে এই ওসির হাত। কমলনগরে চরলরেঞ্চ বাজার এলাকায় ছানা উল্যাহ তহশিলদারের বাড়ির সেফটি ট্যাংকি হতে নিহত মাকসুদের গালিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলায় নিরীহ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একজনকে জড়িয়ে ফাইনাল চার্জসীট প্রতিবেদন দিতে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই ওসির বিরুদ্ধে। এসব বিষয় প্রায়ই থানায় দায়িত্বরত পুলিশদের সঙ্গে হট্রগোল লেগেই থাকে। এদিকে অত্র থানায় গিয়ে ওসির কাছে সুফল না পেয়ে বিজ্ঞ আদালতে এসে মামলা রুজু করলেও খুব একটা আশানুরুপ ফল পাওয়া যায়না। কারণ কোর্ট থেকে মামলাটি থানায় তদন্ত দিলেই শুরুতেই এন্টি করতে ওসিকে দিতে হয় ২০০০(দুই হাজার) থেকে ৩০০০(তিন হাজার) টাকা। থানা বেষ্টনির মসজিদ নির্মাণের নামে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা।

উপজেলাধীন প্রত্যেকটি বাজারে ঢুকে ছোট-বড় সকল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অনিয়ম তান্ত্রিক হারে চাঁদা আদায় করেছে সে। প্রত্যেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাথাপিচু বসিয়েছে চাঁদার হার। অভিযোগ উঠেছে কমলনগরের ঘুষের টাকা দিয়ে ওসির গ্রামের বাড়িতে রাজপ্রাসাদ বাড়ি নির্মাণ হচ্ছে শ্বেদ পাথর ও উন্নত কারুকাজে। ওসির ক্ষমতার দাপটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মী সহ ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও। বর্তমান মহাজোট সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে পুলিশ জনগনের সেবা নিশ্চিত করতে পারবেনা তার থানায় থাকার দরকার নেই। এসব কথার কোন মূল্যই নেই ক্ষমতাধর ঘুষখোর এই ওসির কাছে। অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন “পুলিশ জনগনের বন্ধু” জনগনের জান ও মাল হেফাজত করা পুলিশের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। আর এই মহান দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে পুলিশী ক্ষমতা প্রয়োগ করে শুধুই অর্থ বাণিজ্যের ধান্দায় মেতে উঠেছে এই ওসি।

এহেন একাধিক অনৈতিক কর্মকান্ডের হাত থেকে অনতিবিলম্বে নিষ্কৃতি পেতে চায় কমলনগরবাসী। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ গোপন তদন্তের ভিত্তিতে ডিপার্টমেন্টাল ব্যবস্থা গ্রহণ করলে পুলিশী নির্যাতন ও হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাবে কমলনগরবাসী এমন প্রত্যাশা সুশীল সমাজ সহ সর্বশ্রেণীর মানুষের।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন