মাহাবুব ইসলাম উজ্জ্বল, শ্রীপুর (মাগুরা) থেকে ফিরে :
ডিসেম্বর মাস যায়- আসে। ২০১৭ সালেরও ডিসেম্বর মাস শেষের পথে। এই মাসের ১৪ ডিসেম্বর সরকারি বেসরকারি নানা অয়োজন থাকে শহীদ বুদ্ধিজীবিদেরকে ঘিরে। কিন্ত কেউ খবর রাখে না এমনি একজন বুদ্ধিজীবি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার তারাউজিয়াল গ্রামের সন্তান এএনএম মুনীরুউজ্জামান।

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের তৎকালীন পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান শহীদ বুদ্ধিজীবি আবু নাসের মোহাম্মদ মুনীরুউজ্জামান শহীদ হন। কিন্তু মাগুরার নতুন প্রজন্ম তাকে চেনেন না একেবারেই। এমন কি তার নিজ গ্রামের অনেকেই জানেন না মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের এই শিক্ষকের কথা।

মুনীরুউজ্জামান ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ শিক্ষক। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চের রাতে পবিত্র কোরআন শরিফ পড়া আবস্থায় পাক হানাদার বাহিনী তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে নির্মম ভাাবে হত্যা করে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর বাংলা পাঠ্য বইয়ে একটি প্রবন্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবি আবু নাসের মোহাম্মদ মুনীরুউজ্জামানসহ অন্যান্য শহীদ বুদ্ধিজীবিদের নিয়ে একটি লেখা রয়েছে। কিন্তু মাগুরায় শহীদ মুনীরুউজ্জামান এর নাম উচ্চারিত হয়না কখনও।

তার ভাই এর ছেলে তারাউজিয়াল গ্রামের ডা. শাহিদুজ্জামান খসরু জানান, মুনীরুউজ্জামান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তার অবস্থান থাকায় ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ রাতে কোরআন পড়া অবস্থায় টেনে হেঁচড়ে নিয়ে নির্মম ভাবে হত্যা করে এবং বিশ^বিদ্যালয় এলাকায় মাটি চাপা দেয়। এই শহীদ শিক্ষককে নিয়ে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোন অয়োজন চোখে পড়ে না। শহীদ পরিবার হিসাবেও পরিবারের কাউকে কখনো আহবানও করা হয়না।

মাগুরার স্থানীয় নতুন প্রজন্মের পক্ষ থেকে প্রধান শিক্ষক এটিএম আনিসুর রহমান, পংকজ রায়, কাজী লাবনী জামান, সুমনা ইয়াসমিন ও সৈয়েদ তাসিন জামান, ইসরাত জাহান দিপাসহ একাধিক ব্যক্তি শহীদ বুদ্ধিজীবি মুনীরুজ্জামান এর স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

সেই সাথে শহীদ বুদ্ধিজীবি মুনীরুউজ্জামানের নামে মাগুরা- শ্রীপুর সড়কটির নামকরণের দাবী জানিয়েছেন তারা।

স/না

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন