নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনার সেই নষ্ট সুমন এখন আরো ব্যাপা-রোয়া। সাইবার ক্রাইম মামলায় পরে সে কয়েক মাস জেল হাজত খেটেছে। জেল হাজত থেকে বেরিয়ে এসে সে মামলার বাদীকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। ইতোমধ্যে মামলা থেকে বাচার জন্য সে কিছু জাল কাগজ পত্র ও তৈরি করেছে। জনৈক প্রতারক নোটারি পাবলিক এর মাধ্যমে সে কিছু জাল দলিল পত্র ও তৈরি করেছে। এখন তার বিরুদ্ধে আরো একটি জালিয়াতির মামলার প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য ভয়ংকর “সাইবার ক্রাইম” সংগঠনের হোতা, কুখ্যাত প্রতারক, ফেইস-বুকের মাধ্যমে নিরীহ ধনাঢ্য পরিবারের মেয়েদের সাথে পরিচয় গোপন করে সম্পর্ক গড়ে কৌশলে অত্যাধুনিক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ছবি তুলে ও ভিডিও চিত্র গ্রহণ করে ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা লুণ্ঠনকারী কুখ্যাত অপরাধী সাজ্জাদুজামান সুমন। ৩৫ পিতা- সাত্তার মাস্টার, সুমন স্টোর, ৮, হাজী ইমান উদ্দিন ম্যানসন, ক্লে রোড, খুলনা (ফোন-০১৭১২২৪৮১৩২) এর বিরুদ্ধে জরুরী ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বহু নিরীহ নারী ও মেয়ের জীবন মানসম্মান রক্ষার আবেদন জানিয়েছেন অন্যান্য নামের এক তরুনী। উক্ত প্রতারক অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে। ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

উক্ত দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম আইনে ডিএমপির রামপুরা থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলা নং ১৩/১৮-০৭-২০১৬ইং ধারা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ সংশোধনী ২০০৩ এর ৯(১) সহ তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ এর ৫৭ ধারা। বহু নিরীহ মেয়ের ও নারীর জীবন বিনষ্টকারী দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে উল্লেখিত মামলাটি দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান মামলার বাদী। খুলনার উক্ত দুর্বৃত্ত সাজ্জাদুজ্জামান সুমনের রাহুগ্রাসে পড়ে যাদের জীবন ধ্বংস হয়েছে। যাদের ব্ল্যাকমেইল করে ছবি ও ভিডিও চিত্র গ্রহণ করে জীবন বিপন্ন করেছে তারা হল বীথি, জুলি, লিজা, জুই, ফারহানাসাথী আরও অনেক মেয়ে। সমাজ সংসারের ভয়ে এই মেয়েরা আজ মুখ খুলছে না। অনেক মেয়ে লোকলজ্জার ভয়ে এসব কথা কাউকে বলতে পারছে না। অনক ফরিয়াদিও হচ্ছেন না। ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণার শিকার হয়ে নীরবে চোখের জল ফেলছেন। কয়েকজন সাংবাদিক ও পুলিশ কর্তারা তার ধারণ ও রেকর্ডকৃত বিভিন্ন মেয়ের অশ্লীল ছবি দেখে ও এসএমএস দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে গেছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মামলা হলেও মামলার বাদী অনন্যাকে সে হত্যার হুমকি দিয়ে বেড়াছে।

বিভিন্ন গণমাধম্যে সুমনের কুকর্মের একাধিক খবর প্রকাশের পর, পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। কয়েক মাস হাজতবাসের পর বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে মামলার সাথে জড়িতদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখাছে।

ভুক্তভোগীরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ র‌্যাব, ডিবি ও সিআইডির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। উল্লেখ্য তার এসএমএস ও অশ্লিল ছবি অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে দেখা গেছে এবং জানা গেছে সে দীর্ঘদিন যাবৎ সুকৌশলে ফেইসবুকের মাধ্যমে সমাজের নামীদামি ও ধনাঢ্য মেয়েদের সাথে যোগাযোগ করে এবং নিজকেও খুবই মর্যাদাশীল ও ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান বলে পরিচয় দিত। এভাবে সে ফেইসবুকের মাধ্যমে মেয়েদেরকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলত। এরপর ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে কৌশলে মোবাইলে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে রাখত।

পরবর্তীতে এই ছবি তাদেরকে প্রদর্শন করে ব্লাকমেলিং করে বলত, আমি যখনই ডাকব তখন আসতে হবে না আসলে তর এই ছবি ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেবার হুমকি দিতো। অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মেয়ে এই বক্তব্য পেশ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সব মেয়েদের প্রতর্কেই বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয় এবং নিজেকে তাদের স্বামী হিসাবে দাবি করে। সব শেষে সে খুলনার মাদরাসায় পড়–য়া রক্ষণশীল পরিবারের ফাতেমা নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বিয়ে করার পর সব ফাঁস হয়ে যায়।

স/ এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন