এগারোখানের দুই শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীকে
বহুদিন যাবৎ বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়

আজম খাঁন, বাঘারপাড়া (যশোর) থেকে 

দুই জেলার তিন ইউনিয়নের স্থানীয় সরকারের ঠেরাঠেলিতে শতভাগ শিক্ষিত অঞ্চল ১১ খানে মাত্র দুই’শ মিটার রাস্তা আর একটি সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তিতে আছে তিন গ্রামের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী সহ পাঁচ সহা¯্রাধিক মানুষ। বছরের আট মাসই পার হতে হয় দীর্ঘ বাশেঁর সাঁকোর উপর দিয়ে। এ অবস্থা চলছে যুগ যুগ ধরে। প্রতি দিনই দুর্ভোগ পোহাতে হয় এ তিন গ্রামের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর। স্থানীয়ভাবে জানাগেছে, অবহেলিত স্থানটি যশোর ও নড়াইল জেলার তিনটি ইউনিয়নের সীমানা সংলগ্ন হওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের ঠেলাঠেলিতে এ স্থানের উন্নয়ন হয়নি।

যশোরের বাঘারপাড়ার জামদিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর ও রঘুরামপুর, নড়াইলের তুলারামপুর ইউনিয়নের বেনাহাটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি বর্ষার মওসুমের শুরু থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত পানিতে ডুবে থাকে। এ স্থানটি এ দুই ইউনিয়নের শেষ সীমানা মিশেছে নড়াইলের শেখহাটি ইউনিয়নের সীমানায়। এ কারণে জায়গাটির নামকরণ হয়েছে ত্রিমোহনী। স্থানটি হাতিয়াড়া শ্বশান নামেও পরিচিত। নড়াইলের গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাঘারপাড়ার বাকড়ি বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে এ সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন পারাপার হতে হয়। গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র বেনাহাটি গ্রামের রিংকু বিশ্বাস জানায়, প্রতিদিনই এ সাঁকো পার হওয়ার সময় কেউ না কেউ পানিতে পড়ে। বই খাতা ভিজিয়ে তাকে বাড়িতে ফিরতে হয়।

সেদিন আর সে স্কুলে যেতে পারে না। একই গ্রামের অনিক বৈরাগী জানায়, প্রায় দুই’শ মিটার লম্বা বাঁশের এ সাঁেকা নিজেদেরই তৈরী করে নিতে হয়। সরকারি কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়না। তবে এ বছর তুলারামপুর ইউপি চেয়ারম্যান বুলবুল হোসেন ৩৪ টি বাঁশ দিয়েছিলেন। একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী আঁখি গুপ্ত জানায়, প্রতিনিয়ত এ সাঁকো মেরামত করতে হয়। মেরামত কাজেও আছে বিড়ম্বনা। কে করবে, কে লেবারের টাকা দেবে এসব নিয়ে বিতর্ক চলে নিত্যদিন। শেষ দায়িত্ব গড়ায় শিক্ষার্থীদের উপর। আমারা সবাই চাঁদা তুলে, আবার কখনও নিজেরাই এর মেরামত কাজ করে থাকি।

এ সাঁকো দিয়ে পারাপারে শুধু শিক্ষার্থীরাই বিড়ম্বনার শিকার হয় না। তিন গ্রামের বসবাসরত সকলকেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিভিন্ন চাহিদা মেটাতে সকলকেই হাতিয়াড়া ও বাকড়ি বাজারে যেতে হয় এ সাঁকোর উপর দিয়েই। বেনাহাটি গ্রামের শিক্ষক নির্মল বিশ্বাস জানান, কিছু বেচা বিক্রির প্রয়োজন হলে তখন আর দুর্ভোগের শেষ থাকে না। সব কিছু মাথায় নিয়ে সাঁকো পার হতে হয়। এতে সময় যেমন বেশি লাগে তেমনি পরিশ্রমও হয় অবানবিক। তুলারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল হোসেন বলেন, সাঁকো নির্মান করতে আমি সহায়তা করেছি। আমি আমার সীমানা পর্যন্ত রাস্তাটি নির্মানের চাহিদা দিয়েছি। আশা করি দ্রুত কাজটি করতে পারবো।

এলাকাবাসী দীর্ঘদিন যাবৎ স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট বার বার দাবী জানালেও একটি ব্রিজ নির্মান না হওয়ায় ১১ খানের দুঃখ কি এ প্রশ্ন করলেও সবাই এক কথায় এ স্থানটির নাম বলে থাকে।অচিরেই ১১ খানের দুঃখ মোচনের জন্য এলাকাবাসী অত্র স্থানে একটি ব্রিজ নির্মানের দাবী জানিয়েছে।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন