এ বছর বাঘারপাড়ায় হাবু ধান চাষে কৃষক কাবু

আজম খাঁন, বাঘারপাড়া (যশোর ) থেকে ঃ ব্যাপক ফলনের প্রলোভনে কৃষি বিভাগের পরীক্ষা-নিরীক্ষাবিনি হাবু ধান চাষে কৃষকের আশায় বুকবাধার স্বপ্ন ফানুসে পরিনত হয়েছে। এ বছর হাবু ধান চাষ করে বিপাকে বাঘারপাড়ার হাজার হাজার কৃষক । কৃষকরা জানিয়েছে গত বছরের তুলনায় এবার ফলন হয়েছে এক তৃতীয়াংশ । এক দিকে বৃষ্টির কারনে ধান নষ্ঠ হয়েছে , অন্যদিকে হাবু ধানের ফলন বিপর্যয়ে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ বিপর্যয় নিয়ে কৃষি বিভাগ বলেছে, হাবু ধানটি মুলত ইন্ডয়ান জাতের । যে কারণে এর বৈশিষ্ট সম্পর্কে কৃষককে কোন পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হয়নি। গত কয়েক বছর এ ধানে ভাল ফলন হওয়ায় এধানের চাষ ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে ।

কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলায় এবার ১৬ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে মোট আমন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হাবু ধানের চাষ হয়েছে ৩ হাজার ১ শত ৩০ হেক্টর জমিতে। বাঘারপাড়ায় কৃষকরা ধান নিয়ে ব্যস্ত। সরেজমিনে দেখাগেছে, মাঠের বেশিরভাগ ধান কাটা এবং ঘরে তোলার কাজ সমাপ্তির পথে। এখন এসব ধান কৃষকরা বাড়িতে নেওয়া এবং ধান মাড়াই করে ঘরে তুলার কাজ প্রায় ৯০ ভাগ সমাপ্ত করে ফেলেছেন। ধানের ফলন নিয়ে কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলতেই সবাই এক যোগে জানালেন হাবুতে এবার সবাই কাবু হয়ে গেছে।

জামদিয়া ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের কৃষক কোবাদ আলী জানান, তিনি এ বছর এক একর জমিতে হাবু ধানের চাষ করেছেন। সব জমির ধান তিনি মাড়াই করেছেন। তাতে ৫২ শতকের এক বিঘা জমিতে ১৫ মণ ধান হয়েছে। আগামীতে আর এ ধান চাষ করবো না।

জোকা গ্রামের মিহির বিশ্বাস চাষ করেছেন এক একর জমি। তিনি জানান, ‘গাছে পাতায় সারা। ফলনের বেলায় ন্যাড়া। ধানের বাইলে (ছড়া) শুধু চিটা। মোট জমিতে ২৮ মণ হতে পারে’।

বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল আলম বলেছেন, হাবু ধানটি ইন্ডিয়ান একটি ভ্যারইটি। এর বৈশিষ্ঠ সম্পর্কে কৃষি বিভাগের কেউই অবগত নন। এ জাতটি আমনের না বোরোর তাও আমাদের স্পস্ট কোন ধারনা নেই। কেমন তাপমাত্রায় এটি ভালো হয়, বর্ষা সহ্য করতে পারে কি পারে না সে বিষয়েও আমাদের কোন ধারণা নেই। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষককে পরামর্শ দিয়ে থাকে দেশে উদ্ভাবিত জাতগুলো চাষ করতে।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন