দেশের অন্যতম মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক সম্প্রতি ৫০৯ জন কর্মীকে গোপনে ছাঁটাই করেছে। এ তালিকায় রয়েছেন বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (বিএলইইউ) প্রথম সভাপতি উজ্জ্বল পালসহ ইউনিয়নের অনেক সদস্য।

২০১৬ সালের ১০ মার্চ ভলেন্টারি সেপারেশন স্কিম (ভিএসএস) বা স্বেচ্ছায় অবসর স্কিমের নামে ৪৭০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল বাংলালিংক। সে সময় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোড়ন দেখা দেয়। ওই ছাঁটাইয়ের ঘটনার রেশ পুরোপুরি না কাটতেই; গত ৩০ নভেম্বর অপারেটরটি আরও ৫০৯ জন কর্মী ছাঁটাই করল।

বাংলালিংক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় যে কর্মী ছাঁটাই করা হলো সেটাকে বাংলালিংক বলছে ‘ডিজিটালাইজেশন’। আর দ্বিতীয় দফায় যে কর্মী ছাঁটাই করা হলো সেটাকে তারা বলছে ‘ট্রান্সফরমেশন’।

প্রথম দফায় স্বেচ্ছায় অবসর স্কিমে ইউনিয়নের নেতারা না গেলেও পরের দফায় অনেকেই চলে গেছেন। দ্বিতীয় দফায় এ ছাঁটাইয়ের খবর দেশের গণমাধ্যমে তেমনভাবে আসেনি, এমনকি টেলিকম খাতের অনেকেরই অজানা ছিল বিষয়টি।

প্রায় তিন মাস আগে এতোসংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করা হলেও সে খবর কোনোভাবেই প্রকাশ হয়নি। কীভাবে এ খবর ধামাচাপা দেওয়া হলো? উত্তরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলালিংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলালিংক কর্তৃপক্ষ মূলত এখানে টাকার খেলা দেখিয়েছেন। লোভ দেখিয়েছেন আবার ভয়ও দেখিয়েছেন। মিডিয়া যেন বিষয়টি জানতে না পারে সে জন্য তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখেছিল। কর্মীদের এ ব্যাপারে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করা ছিল। ফলে ইউনিয়নের বড় একটি অংশ চলে গেছে। কথা বলার লোকগুলোও তাই মুখ বন্ধ করে রেখেছিল।’

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে মোস্তাক আহমেদ নামে বাংলালিংকের এক কর্মীকে নির্যাতন করাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আন্দোলন হয়। সে সময় বাংলালিংক দেশের সবগুলো অফিস বন্ধ করে দেয়। সেই কর্মী দীর্ঘদিন হাসপাতালে ছিলেন। বাংলালিংকের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন। দ্বিতীয় দফার স্বেচ্ছায় অবসর স্কিমে তিনিও চলে গেছেন। তার দেওয়া মামলা উঠিয়ে নেয়ার জন্য বাংলালিংক তাকে ভিএসএসের টাকার বাইরেও ২০ লাখ টাকা অতিরিক্ত দিয়েছেন। তবে এ টাকা দেয়ার সময় মোস্তাকের হাতে যে চিঠি দেয়া হয়েছে সেখানে বলা হয়েছে ‘চিকিৎসা ও স্বচ্ছলতার জন্য ২০ লাখ টাকা দেয়া হলো’।

দ্বিতীয় স্কিম ঘোষণার পর বাংলালিংকের সিইও এরিক অস দফায় দফায় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে তিনি কর্মীদের বলেছেন, যারা ভিএসএস না নেবে তাদের পরবর্তীতে ‘লেবার ল’ অনুযায়ী বাদ দেয়া হবে। ফলে প্রথম স্কিমের চেয়ে দ্বিতীয় স্কিমে এসে কর্মী বিদায়ের সংখ্যা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০১৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় ভিএসএস ঘোষণা করে বাংলালিংক। ওই স্কিমে প্রথমে ৪৬৮ জন পরে আরও ৪ জন মিলে মোট ৪৭০ জন বিদায় নেন প্রতিষ্ঠান থেকে। এরপর একই বছরের ১৮ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় ভিএসএস ঘোষণা করে প্রতিষ্ঠানটি।

সেখানে কথিত ‘গোল্ডেন হ্যান্ডসেক’ নিয়ে ৩০ নভেম্বর বিদায় নেন ৫০৯ জন কর্মী। ফলে দুই দফায় ২০১৬ সালে স্বেচ্ছায় অবসর স্কিমে বাংলালিংক মোট ৯৭৯ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। এর বাইরে অনিশ্চয়তায় আরও ১০৪ কর্মী চাকরি ছেড়েছেন। বর্তমানে বাংলালিংকে মোট কর্মীর সংখ্যা এক হাজার ১৫৮ জন।

স/শা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন