জাপানের এক চিড়িয়াখানায় খুন করা হলো ৫৭ তুষার বাঁদরকে। তাঁদের অপরাধ? জাপানে নিষিদ্ধ এক প্রজাতির বাঁদরের সঙ্গে তারা সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছিল। এই অপরাধেই বিষাক্ত ইঞ্জেকশন দিয়ে হলো বাঁদর নিধন। এই নৃশংস পশুহত্যার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়া তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন নেটিজেনরা।

পূর্ব টোকিয়োর চিবা প্রদেশে ফুতসুতে তাকাগোইয়ামা নেচার জুতে একটি ঘরে রাখা ছিল ১৬৪ জাপানি বাঁদরকে। হঠাৎই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ লক্ষ্য করেন, এগুলোর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই রেসাস ম্যাকাকিউ নামে বিশেষ প্রজাতির এক বাঁদরের সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছে।

মূলত ভারত ও চীনের এই বানরদল জাপানি পরিবেশ আইনের ২০১৩ সালের সংশোধন অনুযায়ী সে দেশে নিষিদ্ধ। সেজন্যই সেগুলো সেখানে পরিচিত এলিয়েন হিসেবে। তাই আইনের দোহাই দিয়ে শুক্রবার সকালে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন পুশ করে মেরে ফেলা হল ৫৭ তুষারবানরকে। মৃত বাঁদরদের আত্মার শান্তিতে আবার একটি সমাধিও তৈরি করেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

এই মর্মান্তিক নিধনের তীব্র নিন্দা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন বহু মানুষ। চিবা প্রশাসনের সাফাই, ‘দেশীয় পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই বাঁদরগুলোকে মরতে হয়েছে।’ তবে জাপানের পরিবেশন মন্ত্রণালয়ের দাবি, ব্যতিক্রম সবসময়ই থাকে। এই বিশেষ ক্ষেত্রে অনুমতি চাইতে পারত চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

কয়েকজন পরিবেশিবিদের আবার মত, আপাতদৃষ্টিতে এটা মর্মান্তিক বলে মনে হলেও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে এটা করাটা জরুরি ছিল। সেজন্যই তুষার বাঁদরদের DNA পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

স/শা

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন