বাঘারপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে টেক্স্টবুক বিক্রির অভিযোগ

বাঘারপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে
অর্ধ লক্ষ টাকার টেক্স্টবুক গোপনে বিক্রির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার 
বাঘারপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অর্ধ লক্ষ টাকার পুরাতন টেক্স্টবুক গোপনে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। বাঘারপাড়ায় প্রকাশ্যে বিক্রি না করে এবং বই পরিমাপ না করে ট্রাকে তুলে অন্যত্র নিয়ে বিক্রির অভিযোগ ও রয়েছে। বই বিক্রয় কমিটির চার সদস্যের দুইজনই এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে বই বিক্রির ঘটনাটি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ তেজারতের ও হিসাব রক্ষক তপন কুমার মন্ডলের অসৎ উদ্দেশ্যর ইঙ্গিত বহন করে এমন মন্তব্য করেছে এক সদস্য।

জানাগেছে, সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৫ শিক্ষা বর্ষ পর্যন্ত মজুদ অবিতরণকৃত বাতিল বই নিলামে বিক্রয় করার আদেশ দেয়। এর অংশ হিসাবে নির্বাহী অফিসারসহ চার জনকে নিলাম কমিটির সদস্য করে ২ নভেম্বর নিলাম বিঞ্জপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিলামে তিন জন অংশ গ্রহন করেন। এতে এক প্রতিষ্ঠান কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ১০টাকা ৩৫পয়সা দর দাখিল করেন। কিন্তুু অংগ্রহন কারীদেরকে পরে মোবাইলে জানানো হবে বলে ঘোষনা দেন শিক্ষা কর্মকর্তা। নিলামে শর্ত ছিলো নগদ ৫’হাজার টাকা জমা দিয়ে নিলাম ডাকে অংশ গ্রহন করতে হবে। সর্বোচ্চ নিলাম ডাককারী কে মালামাল দেওয়া হবে।

কিন্তু সেসব শর্ত না মেনেই কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ তেজারত ও হিসাব রক্ষক তপন কুমার মন্ডল গোপনীয় ভাবে নিলাম কমিটির কাওকে না জানিয়ে গত ১৭ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধারপর উপজেলা প্রমোট মহিলা হোস্টেলের সংরক্ষিত গুদামের বই ওজন না করেই ট্রাক লাগিয়ে নিয়ে যান। সুচতুর এ কর্মকর্তা শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন অন্ধাকারে বই নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনেকের কাছে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পসে থাকেন এমন এক ব্যাক্তি জানিয়েছেন, একটি বড় ট্রাকে করে বই নেওয়া হয়েছে। বই ট্রাকের বডি থেকেও অনেক উপরে ছিল। আনুমানিক ৫ হাজার কেজি বই হবে। একটি সূত্র জানিয়েছে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস খাতা কলমে এক হাজার কেজি বই বিক্রি দেখিয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় নিলাম কমিটির সদস্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদের সাথে। তিনি জানান, আমাকে বই বিক্রির বিষয় কিছুই জানানো হয়নি।
অপর সদস্য পাইলট মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক জুলহাস উদ্দীন জানান, আমি কিছুই জানিনা। পরে শুনেছি শিক্ষা কর্মকর্তা বই ট্রাকে করে নিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী অফিসার শাহনাজ বেগম জানান, আমি বিক্রয় কমিটি করে দিয়েছিলাম। পরে কিভাবে বিক্রি করছে তা আমার জানা নেই ।
শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ তেজারতের সাথে তার ০১৮১৮৫৫৬৬৬৩ ০১৯১০৮৮৩২৩২নং মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করে তা বন্ধ পাওয়ায় তার বকতব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য যে,এই মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কিছুদিন পূর্বে নতুন এমপিও,টাইম স্কেল ও বিএড স্কেল এর প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাপক ঘুষ গ্রহন ও দুর্নীতির অভিযোগ যশোরের স্থানীয় প্রায় সকল পত্রিকায় এবং দৈনিক শিক্ষা ও শিক্ষা বার্তা সহ বেশ কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর,খুলনা আঞ্চলিক অফিস ও জেলা শিক্ষা অফিস থেকে বেশ কয়েকবার তদন্ত হলেও অজ্ঞাত খুটির জোরে এখনও তার টিকিটিও নড়েনি।জেলা শিক্ষা অফিসের তদন্তের সময় বাঘারপাড়ার প্রায় ৩০জন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যাপক ঘুষ গ্রহন ও অফিস ফাকি দেওয়ার লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও সে অভিযোগের ফলাফল গোপন কলকাঠি নড়াচড়ায় আলোর মুখ দেখেনি বলে বাঘারপাড়ার শিক্ষক সমাজের মনে নানা রকম প্রশ্ন জেগে উঠেছে।

 

স/মা

Print Friendly, PDF & Email