ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়াস বেশ পুরানো। স্বাধীনতার পর ইসলামের বিভিন্ন শাখার ওপর গবেষণা এবং প্রকাশনার জন্য ইসলামী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পথ সুগম হয়। সরকার ১৯৭৬ সালের ১ ডিসেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেন। ১৯৭৭ সালের ২৭ জানুয়ারি প্রফেসর এম. এ. বারীকে সভাপতি করে ৭ সদস্যবিশিষ্ট ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনা কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশে ৩টি অনুষদ, ১৮টি বিভাগ, ৩টি ইন্সটিটিউট ও ১টি স্কুল-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করা হয়।
১৯৭৭ সালের ৩১ মার্চ থেকে ৮ এপ্রিল মক্কায় অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিজ (ওআইসি)-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মুসলিম বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের এক সম্মেলনে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ড. এ. এন. এম. মমতাজ উদ্দীন চৌধুরীকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা হয়।
১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়া শহর হতে ২৪ কিলোমিটার ও  ঝিনাইদহ শহর হতে ২২ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ১৭৫ একর জমিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৩ সালের ১৮ জুলাইয়ের এক সরকারী আদেশে সেখান থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুরের বোর্ডবাজারে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৮০ সালের ২৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাক্ট ১৯৮০ (৩৭) পাস হয়। অ্যাক্টে বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যাবলী পরিচালনায় স্বায়ত্ত্বশাসন প্রদান করা হয়।
১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি প্রকল্প পরিচালক ড. এ.এন.এম. মমতাজ উদ্দীন চৌধুরীকে প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের আল-কুরআন ওয়া উলুমুল কুরআন বিভাগ এবং উলূমুত তাওহীদ ওয়াদ দা’ওয়াহ বিভাগে এবং মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে তিনশত ছাত্র ভর্তি করা হয়। ১৯৮৬ সালের ২৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। চার বিভাগে তখন শিক্ষক ছিলেন ৮ জন। ১৯৮৯ সালের ৩ জানুয়ারি মন্ত্রীসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষিত হয়। ১৯৯০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে বিশ্ববিদ্যালয় গাজীপুর থেকে পুনরায় কুষ্টিয়া স্থানান্তর করা হয়।
১৯৯০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম নারী শিক্ষক নিয়োগ ও ১৯৯০-১৯৯১ শিক্ষাবর্ষে প্রথম ছাত্রী ভর্তি করা হয়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।
১৯৯২ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরে পিটিআই এবং প্যারামেডিক্যাল ভবনে অস্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ১৯৯২ সালের ১নভেম্বর শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুর মূল ক্যাম্পাসে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
১৯৯৭-৯৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত ৩ বছরের পরিবর্তে ৪ বছরের অনার্স কোর্স এবং ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করা হয়।
বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ, বিটিআইএস, বিবিএ, বিবিএস, এলএল-বি. বিএসএস, বিএসসি, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং-এ অনার্স ডিগ্রি এবং এম.এ, এমটিআইএস, এমবিএস, এমবিএ, এমএসএস, এলএল-এম, এমএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মাস্টার্স ডিগ্রি দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি এম.ফিল ও পি-এইচ.ডি ডিগ্রিও প্রদান করে থাকে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এ পর্যন্ত ৩টি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম সমাবর্তন ১৯৯৩ সালের ২৭ এপ্রিল, দ্বিতীয় সমাবর্তন ১৯৯৯ সালের ৫ নভেম্বর এবং তৃতীয় সমাবর্তন ২০০২ সালের ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। ২০০৪ সালের ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের রজত-জয়ন্তী উৎসব পালন করা হয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত ১২ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁরা হলেন-১. ড. এ. এন. এম. মমতাজ উদ্দীন চৌধুরী (৩০.০১.১৯৮১-২৭.১২.১৯৯০), ২. প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (২৮.১২.১৯৯০-১৭.০৬.১৯৯১), ৩. প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আব্দুল হামিদ (২০.০৬.১৯৯১-২১.০৪.১৯৯৫), ৪. প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইনাম-উল-হক (০৯.০৫.১৯৯৫-০২.০৯.১৯৯৭), ৫. প্রফেসর ড. মুহাম্মদ কায়েস উদ্দিন (০৩.০৯.১৯৯৭-১৮.১০.২০০০), ৬. প্রফেসর ড. মুহাম্মদ লুৎফর রহমান (১৯.১০.২০০০-০৯.১২.২০০১), ৭. প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান (১০.১২.২০০১-০২.০৪.২০০৪), ৮. প্রফেসর এম. রফিকুল ইসলাম (০৩.০৪.২০০৪-১০.০৭.২০০৬), ৯. প্রফেসর ড. ফয়েজ মোহাম্মদ সিরাজুল হক (১০.০৮.২০০৬-০৮.০৩.২০০৯), ১০. প্রফেসর ড. এম. আলাউদ্দিন (০৯.০৩.২০০৯-২৭.১২.২০১২), ১১. প্রফেসর ড. আব্দুল হাকিম সরকার (৩১.১২.২০১২-৩০.০৬.২০১৬)।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫টি অনুষদের অধীন ৩৩টি বিভাগ রয়েছে। অনুষদ ও বিভাগগুলো হচ্ছে ঃ ১. থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ঃ আল-কুরআন এন্ড এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, আল-হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ; ২. মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ঃ অর্থনীতি বিভাগ, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, বাংলা বিভাগ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, লোক প্রশাসন বিভাগ, ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগ, সোস্যাল ওয়েলফেয়ার বিভাগ, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ; ৩. আইন ও শরীয়াহ অনুষদ ঃ আইন বিভাগ, আল ফিক্হ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগ, ল এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগ; ৪. ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ঃ হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগ, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফিন্যান্স এ- ব্যাংকিং বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ; ৫. ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ঃ ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ফলিত পুষ্টি ও খাদ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, গণিত বিভাগ, পরিসংখ্যান বিভাগ, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স এন্ড জিওগ্রাফি বিভাগ, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ফার্মেসি বিভাগ।
বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১২,৮১২ জন (ছাত্র: ৮৬৪৭, ছাত্রী: ৪১৬৫; মে ২০১৭ পর্যন্ত) । বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক ৩৫৪ জন, কর্মকর্তা ৪০৬ জন, সহায়ক কর্মচারী ২২৭ এবং সাধারণ কর্মচারী ২০৪ জন। এম.ফিল কোর্সে  ৫৫৪ জন এবং পি-এইচ.ডি প্রোগ্রামে ৪১৫ জন শিক্ষার্থী বর্তমানে গবেষণাকর্মে নিযুক্ত রয়েছেন। এ পর্যন্ত ৫৭০ জনকে এম.ফিল ডিগ্রি এবং ৩৭৭ জনকে পি-এইচ.ডি ডিগ্রি প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সুষ্ঠুভাবে নিবন্ধন ও ফলাফল প্রকাশে নিরন্তর পরিশ্রম করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮টি আবাসিক হল আছে। ছাত্রদের জন্য রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, সাদ্দাম হোসেন হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল, লালন শাহ হল, শেখ রাসেল হল এবং ছাত্রীদের জন্য রয়েছে খালেদা জিয়া হল, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, দেশরতœ শেখ হাসিনা হল।
‘রবীন্দ্র-নজরুল কলাভবন’ নামে নতুন একটি কলাভবন নির্মাণাধীন আছে। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিস এবং প্রকৌশল অফিস তত্ত্বাবধান করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উন্নয়ন কার্যক্রমের।
এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ছাড়াও প্রতিটি বিভাগে বিভাগীয় গ্রন্থাগার এবং কম্পিউটার সেন্টার রয়েছে। এছাড়াও  রয়েছে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট গ্রুপ, ডিবেটিং সোসাইটি, বিভিন্ন নাট্য ও আবৃত্তি গোষ্ঠী  । রয়েছে ৩টি স্মৃতিস্তম্ভ – শহীদ মিনার, শহীদ স্মৃতিসৌধ ও মু্িক্তযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য্য ‘মুক্তবাংলা’। শিক্ষক-ছাত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি)তে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে ১২ শত আসনবিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক মিলনায়তন। পরিবহনের জন্য রয়েছে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা।
১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিস বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি সংরক্ষণ ও জ্ঞাপন, অন্তঃ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় যোগাযোগ রক্ষা এবং গবেষণাকর্মে ভূমিকা রাখছে। অফিসটি ৫টি অনুষদের ষাম্মাসিক গবেষণা জার্নাল প্রকাশনার দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়াও ডায়েরি, ক্যালেন্ডার ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বার্তা  প্রকাশ, জাতীয় দিবসসমূহ উদ্যাপনের জন্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন, সচিত্র সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রস্তুত ও গণমাধ্যমে প্রেরণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইডি কার্ড মুদ্রণ ও বিতরণ, উপাচার্যের শুভেচ্ছা-বার্তা ও বক্তব্য-বিবৃতি প্রস্তুতসহ বিভিন্ন জরুরী গুরুত্বসম্পন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে অফিসটি ব্যাপক ভূমিকা পালন করে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উন্নয়নে তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের সঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতি একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে ক্রীড়াঙ্গনে রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাথলেট, ক্রিকেটার ও ফুটবলারদের ব্যাপক সুনাম। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবলে ৩বার চ্যাম্পিয়ন ও ৪বার রানার-আপ এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেটে ২বার রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে এ বিশ্ববিদ্যালয় । সার্ক ক্রীড়া ও কমনওয়েলথ গেমস-এও এ বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের সেবায় নিয়োজিত আছেন ১০ জন এম.বি.বি.এস ডাক্তার। তাঁরা সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে চলেছেন।
ক্যাম্পাসে শিশু-কিশোরদের পড়াশুনার জন্য রয়েছে ইন্সটিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন এন্ড রিচার্স (আই.আই.ই.আর)-এর অধীনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ডিজিটালাইজ্ড, সেশনজটমুক্ত, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলার জন্য অক্লান্তভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ক্যাম্পাস কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর হয়ে উঠেছে; একাডেমিক কর্মকান্ড অভুতপূর্ব গতি লাভ করেছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে আটটি যুগোপযোগী বিভাগ খোলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সময় ৮টা-২টা’র পরিবর্তে এখন ৯টা-৪টা ৩০মিনিট করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোতে সেশনজ্যাম অনেকাংশে কমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩২তম সিন্ডিকেটে টি.এস.সি.সি মিলনায়তনকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তন’ নামকরণ করা হয়েছে। আগে এটি ‘শাহ আজিজুর রহমান মিলনায়তন’ নামে ছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ম্যুরাল তৈরি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। ক্যাম্পাসে চারটি ১০ তলা ভবন নির্মাণের মেগাপ্রজেক্ট প্রায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী ৫টি নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন।  বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন-২য় পর্যায় শীর্ষক এ প্রকল্পের অধীনে ৩ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১০তলা শিক্ষক-কর্মকর্তা ভবন প্রথম ফেজ ৫তলা পর্যন্ত নির্মাণ, ৩ কোটি ১১ হাজার ৪ শত টাকা ব্যয়ে ৫তলা প্রভোস্ট হাউজ টিউটর কোয়াটার প্রথম ফেজ ৪তলা পর্যন্ত নির্মাণ, ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ১২ হাজার ৫শত ৬৮ টাকা ব্যয়ে মেডিক্যাল সেন্টার দ্বিতলকরণের কাজ, ৩ কোটি ৪২ লক্ষ ১২ হাজার ৫শত ১৩ টাকা ব্যয়ে ৫ শত কেভিএ সাব স্টেশন নির্মাণ এবং ১ কোটি ৩০ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬শত ১৫ টাকা ব্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পানির লাইন স্থাপনের কাজ করা হবে। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের বিভিন্ন রাস্তা মেরামত ও সংস্কার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে।
শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বমানের একটি মডেল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেয়ার জন্য বর্তমান প্রশাসন নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন।
স/এষ্
print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন