মোঃমোছাদ্দেক বিল্লাহ

মোগল সম্রাট শাহজাহানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, দুনিয়ায় সবচেয়ে ভারী বস্তু কি? তার উত্তর ছিল- পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ।
পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ কত ভারী- প্রশ্নটা ফের একমাত্র পুত্রহারা বিমল বাবুর দিকে তাকিয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করেছি। জীবনের পড়ন্ত বেলায় সন্তানের লাশ কাঁধে হয়তো তিনিই বুঝেছেন তার ভার কতটা?
সন্তানের মৃতদেহ দেখতে একজন বাবা মায়ের কাছে কেমন লাগতে পারে, তা কি আপনি-আমি অনুভব করতে পারবো? যে সন্তানকে পরম মমতায় কোলে পিঠে করে মানুষ করেছেন পিতা মাতা, প্রবল আদর যত্ন করে লালন-পালন করেছেন, সেই সন্তানের মরা মুখ যখন একজন পিতা-মাতাকে দেখতে হয়, সেটা কতটা বেদনার হতে পারে, তা আপনি-আমি আন্দাজও করতে পারবো না।
মা বাবার কান্নায় ভেসে যায় সব,তাদের কান্নায় শুদু একটি ভাষা শোনা যায়, ‘ ফিরে আয় বাবা,আমার বুকে আয়!! কই গেলি তুই,, ’ প্রতিবেশীরাও চোখের পানি আটকে রাখতে পারছিল না। গুমোট হয়ে উঠেছিল কাঠালিয়াল জাঙ্গালিয়া গ্রামের পরিবেশ।
মা-বাবার বড় আশা ছেলে হিসেবে সংসারের হাল ধরার কথা তো শুভর। বিদ্যালয়ের পাঠ শেষে সবে মাত্র কলেজে উঠছে, আশা ছিল বড় হয়ে ভালো একটা চাকরি, ছোট ভাইবোনদের গড়ে তোলার—সব স্বপ্ন নিয়ে গতকাল বিকেলে শুভ নামের ছেলেটি আলো-বাতাসের বাইরে চলে গেলেন। শুভর মৃত্যু শুধু তার মা,বাবা,ভাই বোন, কে কাঁদায়নি তার সাথে তার বন্ধুদেরর কে কাঁদিয়েছে। তার বন্ধুরা অত্যন্তু দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে জানিয়েছে, দুঃখিত দোস্ত। যেকোনো খারাপ ব্যবহার, খারাপ কথার জন্য দুঃখিত! তুই অনেক ভালো ছিলি। আমার বিশ্বাস তুই স্বর্গে যাবি। যেখানেই থাকিস, ভালো থাকিস!’  নিশ্চিত মৃত্যুর পৃথিবীতে কিছু কিছু মৃত্যু বড় বেশি ছাপ ফেলে যায়। কাছের দূরের বন্ধুদের হৃদয়ে দাগ রেখে যায়।
বন্ধুর এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া খুব কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামের, বিমল বাবুর ছেলে শুভ(১৭) এর মৃত্যু বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষীরা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। শুভ ছিলেন স্কুলের উচ্ছ্বল প্রাণের তরুণ। সবাইকে হাসি-ঠাট্টায় মাতিয়ে রাখা, আড্ডা দেওয়া ছিলেন এক জীবন্ত প্রাণ। শুভর দাফন যেন একটি পরিবারের আশা-আকাঙ্ক্ষার দাফন।
আজকে বিমল বাবু ও তার পরিবার যা হারিয়েছে। তা ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব না়। তবুও আমরা সকলে তাঁর আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করে সবার কাছে তার জন্য দোয়া চাই যেন সৃষ্টিকর্তা তাকে শান্তিতে রাখেন  এবং উনার পরিবারকে এই শোকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দেন।

স/এষ্

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন