বঙ্গবন্ধু আজ শুধু ‘বঙ্গবন্ধু’ নন, বিশ্ববন্ধুও বটে
——-ইবি উপাচার্য
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেছেন, একটি জাতিকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধনের স্পর্ধা জাতি একজনকেই দেয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সমার্থক, পরস্পরের পরিপূরক। বঙ্গবন্ধু আজ শুধু বঙ্গবন্ধু নন, বিশ্ববন্ধুও বটে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যুগ-যুগ ধরে আমাদের আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।
ইউনেস্কো কর্তৃক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি উদযাপন উপলক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আজ (২০ নভেম্বর) বেলা ১১টা ৩০মিনিটে শুরু হওয়া এক আলোচনাসভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। উপাচার্য আরও বলেন, জাতির জনকের ৭মার্চের ভাষণের বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে এই স্বীকৃতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি অসামান্য গৌরবময় অর্জন। আমরা আনন্দে আপ্লুত। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় নতুন করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে জাতির পিতার ম্যুরাল তৈরির কাজ চলছে। ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পঠন-পাঠন ও গবেষণার জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আলোচনাসভার সভাপতির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, জাতির জনকের ৭ মার্চের ভাষণ শুধু স্বাধীন ভূ-খন্ড তৈরির দিক-নির্দেশনা নয়, এ ভাষণে সারাবিশ্বের নির্যাতিত, শোষিত মানুষের জন্য বার্তা লুকায়িত আছে। তিনি বলেন, এ ভাষণ শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের সকল মানুষের সম্পদ। এজন্য আমাদের মাথা বেশি উচুঁ হয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. সেলিম তোহা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ভাষণে ছিল বহুমাত্রিকতা; ছিল মানুষের মৌল মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। শিক্ষাস্তরের প্রতিটি পর্যায়ের সিলেবাসে জাতির জনকের ৭ মার্চের ভাষণের অন্তর্ভুক্তি এবং কেউ যেন এই ভাষণকে বিলীন করার সাহস না দেখাতে পারে সে-ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের নিকট দাবি জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম আব্দুল লতিফ আলোচনসভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়াও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুর রহমান, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোঃ শামছুল ইসলাম জোহা, সহায়ক কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ উকিল উদ্দিন, সাধারণ কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ আতিয়ার রহমান এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ শাহিনুর রহমান শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম বক্তব্য প্রদান করেন। আলোচনাসভাটি সঞ্চালনায় ছিলেন আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরমিন খাতুন।
আলোচনাসভার শুরুতে সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
উল্লেখ্য, ইউনেস্কো কর্তৃক ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ৭ মার্চের ভাষণের স্বীকৃতি উদযাপন উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আয়োজনে আগামী ২৫ নভেম্বর বেলা ১১টা ৩০মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে হতে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে।
স/মা
print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন