আদিবাসী এবং হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতির উদ্বেগ এবং প্রতিবাদ

সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় আদিবাসী ও হিন্দু ধর্মালম্বীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। জমিজমা দখলের উদ্দেশ্যে গত ২৭ অক্টোবর জয়পুরহাট জেলা সদর উপজেলার ঈশ্বরপুর গ্রামে এবং ৭ নভেম্বর সোমবার একই উপজেলার চক জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে আদিবাসীদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার দোহাই দিয়ে রংপুরে ১০ নভেম্বর হিন্দুদের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

গভীর উদ্বেগের সহিত জানাচ্ছি যে, আদিবাসীদের উপর সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা নতুন কোন ঘটনা নয়। দীর্ঘ দিন থেকে এসব চলে আসছে। বিভিন্ন সময়ে জমিকে কেন্দ্র করে অনেক আদিবাসী হত্যার শিকার হয়েছে। অনেক আদিবাসী নির্যাতন, অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দেশান্তরিত হয়েছে। ২০০০ সালে আলফ্রেড সরেন হত্যার আজ পর্যন্ত হয়নি। আদিবাসীদের উপর হামলা, নির্যাতন, হত্যা, নারী ধর্ষণের ঘটনাগুলোর সঠিক বিচার না হওয়ার কারণেই বর্তমানে এর প্রবণতা বেড়েইে চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশে আদিবাসীশূন্য হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, ধর্ম অবমাননার দোহায় দিয়ে ভিন্ন ধর্মালম্বীদের উপর হামলা, বাড়িতে আগুন দেওয়া এর আগের ঘটেছে। এসকল ঘটনা সম্পূর্ণ অমানবিক। কোন ব্যক্তি দোষ করে থাকলে পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে কখনো ধর্ম রক্ষা করা যায়না। সম্প্রতি রংপুরে সংঘটিত এমন আমানবিক কর্মকান্ডে গভীর উদ্বেগের সাথে শঙ্কা প্রকাশ করছি যে, বাংলাদেশ এক সময় জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যতা হারাবে।
বাংলাদেশে জাতি, ধর্ম, ভাষা ও সাংস্কৃতির বৈচিত্র্যতা রক্ষার্থে সংঘটিত সকল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিচার ও শাস্তি দিতে হবে। সেই সাথে সমতলে আদিবাসীদের ভূমি রক্ষায় পৃথক ও স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন করা জরুরী।

 

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন