ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে গৃহকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) ৯গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার সরব ছিলেন এমপি-মন্ত্রীরা।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রী ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ট্যাক্স বাড়ানো নিয়ে যে কথা উঠেছে তা সঠিক।

নিজে টিভিতে দেখেছি বেশ কিছু লোক এ সিদ্ধান্তটার সমালোচনা করেছেন। ট্যাক্স বাড়বে এটা অস্বাভাবিক কিছু না, সব কিছুই দিন দিন বাড়ে। কিন্তু ৮ হাজার টাকার ট্যাক্স ৭২ হাজার টাকা হলে সেটা অবশ্য জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে। সম্ভবত কয়েক বছর ধরে ট্যাক্স বাড়ান না। কিন্তু সেটা যদি একসঙ্গে বাড়ানো হয় সেটা মানুষ গ্রহণ করবে না।

সংসদের ১৮তম অধিবেশনে গতকালের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এরআগে এ বিষয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু হোসেন বাবলা। পরে একই বিষয়ে বক্তব্য রাখেন জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। এসময় সভাপতির চেয়ারে থাকা ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়াও আলোচনায় সহমত প্রকাশ করে নোটিশ দিতে বলেন।

এরআগে গত সোমবার এ বিষয়ে সংসদেও দৃষ্টি আকর্ষণ কওে জাতীয় পার্টিও এমপি কাজী ফিরোজ রশিদ। তিনি নির্বাচনের আগে নগরবাসীর ওপর এ ধরনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ফলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির আশঙ্কা করা হয়। করতে পারে বলে মনে করেন তারা।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, আমরা জনপ্রতিনিধি, জনগণের কথা বলি, জনগণের সুখ-দুঃখের ভাগি আমরা। হঠাৎ যার ট্যাক্স ছিল ৮ হাজার টাকা তার ট্যাক্স যদি এখন ৭২ হাজার টাকা দিতে হয় আকস্মিকভাবেই প্রতিক্রিয়া হবে। আমার নিজেরও একটা বাড়ি আছে বনানীতে। এটা মনে হয় পুনঃবিবেচনার প্রয়োজন।

এসময় তিনি প্রশ্ন উত্থাপনকারী সদস্যের উদ্দেশে বলেন, তিনি যদি নোটিশ দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিবেচনা করতে পারে। এসময় তিনি নিজেও হোল্ডিং ট্যাক্সের পুন: বিবেচনার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স বেশ কয়েক বছর বাড়ানো না হলেও সম্প্রতি একোরে ৮-৯ গুন ট্যাক্স বাড়ানোর ফলে ঢাকার ভোটারদের মধ্যে একটা বিরুপ প্রভাব পড়েছে। তা ছাড়া সামনে নির্বাচন এ সময় ট্যাক্স একসাথে এতগুন না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে তা বাড়ান যেত। যা সহনীয় হতো। কিন্তু কোন একটি সরকারের শেষ সময় এভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর ফলে সরকারের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়বে এটা  কোন অসুবিধার কিছু না, কিন্তু এক সঙ্গে একটা বাড়বে তা কেউ আশা করেনি। এখানে মনে হয় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ ঠিক করে নি। কয়েক বছর ধরে ট্যাক্স বাড়েনি কিন্তু এক সঙ্গে ৯ গুন ট্যাক্স বেড়েছে তা জনগণ গ্রহণ করবে কেন। আমরা জনগনের প্রতিনিধি, আমরাই কিন্তু প্রশ্নের মুখে পড়ি। যার ট্যাক্স ছিল ৮ হাজার টাকা সেটি যদি আকষ্কিক ভাবে ৭২ হাজার টাকা হয় হয় তা হলে এর একটি বিরুপ প্রতিক্রিয়া হবে। এটা বোধহয় পূণ বিবেচনার প্রযোজন।

এরআগে আবু হোসেন বাবলা বলেন, ঢাকা শহরে হোল্ডিং ট্যাক্সের ব্যাপারে দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অত্যন্ত অসহায়ত্বের মধ্যে রয়েছে। জলবদ্ধতার কারণে এমনিই মানুষ দিশেহারা, তার মধ্যে এই হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো যৌক্তিক নয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও মেয়ররা যদি হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ান তাহলে কাউন্সিলরদের তার জবাব দিতে হয়। নির্বাচনের বাকি আর মাত্র একটি বছর। বাস্তবে আর আছেই ৬-৭ মাস। এতে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে।

চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামেও একইভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। এটা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন  করবে। তাই সিদ্ধান্তটি পুনঃবিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি। এরআগে গত সোমবার জাতীয় পার্টির আরেক  প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদও বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। এনিয়ে রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যে।

বিডিপ্রতিদিন

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন