মোঃ আজম খাঁন,বাঘারপাড়া(যশোর) থেকে : অর্থাভাবে দরীদ্র পিতা-মাতার অদম্য মেধাবী সন্তান দীপ্র বিশ্বাস এর বুয়েট ইঞ্জিনিয়র হওয়ার স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ার পথে।এক ভ্যান চালক পিতার অর্থাভাবে মেধাবী ছেলের বুয়েটে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সে বাঘারপাড়ার দোগাছি গ্রামের প্রদীপ বিশ্বাসের ছেলে। মা কল্যানী বিশ্বাস বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করে।

দীপ্রোর সাথে কথা বলে জানাযায়, শিক্ষা জীবনের প্রথম থেকেই সে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। বাকড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সাধারণ বৃত্তি নিয়ে বাকড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভর্তী হয়। জেএসসিতেও সে সাধারণ বৃত্তি লাভ করে। এসএসসিতে সে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে বাবা মায়ের মুখ উজ্জল করে। দীপ্র যশোর শিক্ষা বোর্ড বৃত্তি লাভ করে। দরিদ্র মেধাবী দিপ্রোর লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে সকল শিক্ষকই তাকে ফ্রি প্রাইভেট পড়াতেন। এ কারণে তার এ সাফল্যের জন্য শিক্ষা জীবনের সকল শিক্ষকের কাছে সে কৃতজ্ঞ। দীপ্র উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয় নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে। তার মেধার গল্প শুনে এগিয়ে আসেন বাঘারপাড়া ডিগ্রী কলেজের পদার্থের শিক্ষক অসীম চক্রবর্তী। তিনি দিপ্রকে কাছে টেনে নেন। অসীম চক্রবর্তী বসবাস করেন নড়াইল শহরে। তার বাসার পাশের এক মেসে রাখেন দীপ্রকে। তার তদারকিতে দীপ্র উচ্চ মাধ্যমিকেও জিপিএ ৫ পেয়ে কৃতিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। এরপর শুরু হয় উচ্চ শিক্ষার জন্য নিজেকে তেরী করা। অর্থাভাবে দীপ্র মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ক ইউনিট), বুয়েট ও কুয়েটের ফরম উত্তোলন করে। তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভর্তী পরীক্ষায় দীপ্র,র নাম মেধা তালিকার প্রথম দিকেই স্থান পায়। দীপ্র স্বপ্ন দেখছে সে বুয়েটে ভর্তী হবে। যখনই সে অর্থের কথা ভাবছে তখন তার সে স্বপ্ন রুপ দুঃস্বপ্নে নিচ্ছে । দীপ্র ভাবছে, অর্থাভাবে তার বুয়েটে ভর্তী যদি অনিশ্চিত হয়, তাহলে সে নড়াইল অথবা বাঘারপাড়ার যে কোন কলেজে ¯œাতকে ভর্তি হবে।

সরেজমিনে দীপ্রদের বাড়িতে যেয়ে দেখাগেছে, টিন শেটের বেড়ার একটি দোচালা ঘর। ঘরের একপাশে ছোট্র একটি বারান্দা কোন রকমে ভাংগাচোরা বেড়া দিয়ে ঘেরা। তার ভেতর একটি চেয়ার আর টেবিল। মেধাবী দীপ্র সেখানেই পড়া লেখা করে। ছোট্র উঠানের একপাশে পড়ে আছে চলানোর অনুপযোগি একটি ভ্যানগাড়ি। ভ্যানের টায়ার ক্ষয় হয়েগেছে। মরিচার অবস্থা দেখে বোঝাযায়, অনেকদিন ভ্যানটি রাস্তায় নেওয়া হয়নি। ভ্যানের এ বেহাল অবস্থার কথা জানতে চাইলে দিপ্র বিশ্বাসের পিতা প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘এটি চালানোর উপযোগী করে তুলতে দুই হাজার টাকার প্রয়োজন। যা এ মুহুর্তে খরচ করা সম্ভব হচ্ছে না। ভ্যান ফেলে রেখে এখন বসুন্দিয়া ও নোয়াপাড়ায় মুটের কাজ করি। তা থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার খরচ করে দীপ্রোর ভর্তীর জন্য কিছু জমা করছি। এত অল্পসময়ে ভর্তির সব টাকা, ঢাকায় থাকা খাওয়ার খরচ কি ভাবে জোগাড় করবো তা সৃস্টি কর্তাই জানেন। সমাজে অনেক বৃত্তবানইতো আছেন। তারা কি কেউ পারেন না আমার দীপ্র,র দায়িত্ব নিতে। কেউ যদি আমার দীপ্র,র দায়িত্ব নেয়, তাহলে আমার সন্তানকে দেশ সেবায় উৎসর্গ করবো। সন্তানের রোজগারে সংসার চালানোর কথা কোন দিনই ভাববো না’।

মা কল্যানী বিশ্বাস বলেন, ‘আমার দুই সন্তানের মধ্যে দীপ্র ছোট। বড় সন্তানের নাম রিংকি বিশ্বাস। সেও মেধাবী ছিল। অর্থাভাবে তাকে আর উচ্চ শিক্ষার দিকে নিতে পারিনি। আইএসসি পাশ করিয়ে গত দুই বছর আগে আদ্ব-দ্বীন নার্সিং ইন্সটিটিউটে ভর্তি করিয়েছি। মাঠে একটু জমি ছিল। তা মেয়ের জন্য বিক্রি করতে হয়েছে। এখন ছেলের লেখাপড়ার কথা ভেবে আর ঘুমাতে পারিনা। সমাজের সবার প্রতি আমার আকুতি তারা যেন আমার সন্তানের উচ্চ শিক্ষার পথ সুগম করে দেন’। দীপ্রকে সাহায্য করার বিকাশ নং ০১৯৫৫৭৬৮৩৩৪ ও ডিবিবিএল নং ০১৯৫৫৭৬৮৩৩৪-৩। দুটি নম্বরই দীপ্র’র নিজের।

স/এষ

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন