মো. সাদের হোসেন বুলু নবাবগঞ্জ থেকে
নীরবে নিভূতে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন আমরা নদীর মৃত্যু দৃশ্য উপভোগ করছি। রাজধানী ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল নবাবগঞ্জ উপজেলায় ঠিক তেমনী একটি দৃশ্য দেখার জন্য প্রস্তÍতি চলছে, দখল, দূষণ ও অত্যাচারে ঢাকা দক্ষিন তথা নবাবগঞ্জ ও দোহার এলাকার গণমানুষের প্রিয় নদী ইছামতির মূত্যু ঘন্টা বেজে উঠেছে। দূষণ কতটা ভয়াবহ আর সর্বগ্রাসী হতে পারে ইছামতি নদীই যেন তার প্রকৃষ্ট প্রমান।
কৃষি সমৃদ্ধশালী এই অঞ্চলের বহু ঘটনার নীরব সাক্ষী হয়ে যুগ যুগ বয়ে চলেছে ক্লান্তিহীন সময়েরে পথ ধরে প্রকৃতির চিরচেনা ইছমতি নদীটি। আজ তাকে মানুষের পরিকল্পনাহীন কর্মকান্ড ও অত্যাচারের বলি হয়ে মূত্যুর পথ বেছে নিতে হয়েছে। বিদায় নিচ্ছে নদীর পাড়ে বেড়ে উঠা কাঁশফুল শোভীত বালুর চর গুলো এখন। বিশ্বায়নের লোভিত বাতাসে আধুনিক মানুষ হবার স্বপ্নে বিভোর কিছু মানুষের বাসস্থানে পরিণত হতে চলেছে । একদা যে নদীতে বিশাল লঞ্চ ও ইষ্টিমারে বিকট হর্ণের শব্দ শুনার অপেক্ষায় প্রিয় কিংবা প্রিয়জন অপেক্ষা করতো ঘন্টার পর ঘন্টা। এখন আর কেউ অপেক্ষার প্রহর গুনে বসে থানে না সেই শব্দ শুনতে।
অনেক দিন হয় মৃত্যু পথযাত্রী ইছামতিকে ফেলে আধুনিকতার ছোয়ায় কোন বিকল্প পথে চলে গেছে সেই লঞ্চ ও ইষ্টিমার গুলো। না হয় অন্যকোন যানবাহনে রুপান্তর হয়ে কোন মতে বেঁচে আছে দেশের অন্য কোন পথে প্রান্তরে।
ইছামতি নদীর প্রবল ঢেউয়ের তালে এগিয়ে চলা পালতোলা নৌকা গুলোর এখন আর দেখা মিলে না।লোক মূখে শুনা যায় ইটের ভাটা অথবা রান্নার চুলেতে নিজের ঠিকানা পাকাপোক্ত করেছে তারা। কালের গহীন অরন্যে হারিয়ে গেছে কেরু, আলাউদ্দিন, শফি মাঝিরা। যারা প্রবল উত্তাল ঢেউ আর ঝড়কে উপেক্ষা করেও নৌকা চালাতো প্রকৃতির চিরশোভা নদী বালু ঝিঝি পোকার টানে। আজ আমাদের ইছামতি বালু ও মাটি খেকোদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে। দেশের বিভিন্ন জনপদের বাসিন্দার যে যার মতো করে নদীর মাটি, বালু লুটে নিচ্ছে, দখল করছে। তাহলে আমাদের ইছামতি আবার বাদ যাবে বিভিন্ন অংশ দখল হচ্ছে। সুযোগ বুঝে মাটি ও বালু বিক্রি হচ্ছে। তারপরও মানুষ ভূমিহীন হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ, ভাঙন,ও বন্যা থেকে নিরাপদে থাকতে
ইংরেজীর ৯৬/৯৭ সালে ইছামতিতে পদ্মার পানির প্রবেশ দ্বার কাশিয়াখালী এলাকায় বাধ নির্মানের পর থেকে পদ্মার সাথে ইছামতির নদীর সম্পর্ক প্রায় ছিন্ন হয়েছে ১০/১২ বছর হলো। মৃত্যু মূখী ইছামতির বুকে চলছে প্রতিষ্ঠানের তরল আবর্জনা ও বর্জ ফেলার প্রতিযোগীতা। ফলে কারনে অকারনে পরিবেশ ও নদী দূষন হচ্ছে। প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠা জীববৈচিত্র্য হুমকির মূখে পরেছে বহু দিন।
স্থানীদের দাবী,
এক সময় ইছামতি নদীতে প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু এখন নদীর পানি দূষিত হওয়ার কারনে মাছ পাওয়া যায় না। বরং উল্টো স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে দিন কাটায় নদীপাড়ে বসবাসরত হাজার ও মানুষ। ঔষধের বোতল, প্যাক, সুইসহ মেয়াদ উর্ত্তীণ ঔষধ বর্জ্য সরাসরি নদীতে পরে। ইছামতির নদীর পানি ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে অধিকাংশ মানুষ। কৃষি কর্মেও তেমন আর ব্যবহার হয় না নদীর পানি।
আমাদের ইছামতিকে রক্ষায় বিভিন্ন সময় র‌্যালী ও সভা হয় এই অঞ্চলে। কিন্তু কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বলতে বাধা নেই, সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম। কারন অনেক নদী খেকোও নদী রক্ষার মিছিল মিটিং ,র‌্যালী ও সভায় উপস্থিত থাকেন। তাই নিজেকে বদলাতে হবে ও সচেতন হতে হবে। তবেই হয়ত মৃত ইছামতির আয়ু কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাবে। তাই প্রাকৃতিক সম্পদ নদী রক্ষায় আমাদের সবাইকে সচেতন হবে। মনের গহিন অরন্যে এই প্রত্যাশার বানী প্রচার হোক, ইছামতি দীর্ঘজীবি হোক ।
ছবির ক্যাপঃ নবাবগঞ্জ ও দোহারে গণমানুষের প্রাণের ইছামতি নদীতে পালতোলা নৌকার এই দৃশ্য এখন আর দেখা যায় না।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন