বাঘারপাড়া প্রতিনিধি : নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের এলজিএসপি প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চারজন ইউপি সদস্য বিভিন্ন দপ্তরে এসব অনিয়মের অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি।
বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের এলজিএসপি-৩ এর আওতায় (বিবিজি) বরাদ্দের অনুকুলে ৯টি ফ্লাট সলিং রাস্তার নির্মান ব্যায় ১২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। প্রকল্পের বেশির ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব কাজে নি¤œমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকার সাধারণ মানুষ এসব কাজে বাধা দিয়েও কোন ফল পাননি।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখাগেছে, ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড়ের মালঞ্চী গ্রামে জোহর আলীর বাড়ী থেকে হাফিজুরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় ফ্লাট সলিংয়ের কাজ চলছে। এ কাজে ব্যবহারের জন্য ৩ নং ইট আনা হয়েছে। শুধু ইটের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠেনি। রাস্তায় এখনও পর্যন্ত হাটু সমান কাদা রয়েছে। সে কাদা সরিয়ে নামে মাত্র বালি দিয়ে কাজ চলছে। এ ওয়ার্ড়ের সদস্য রবিউল ইসলাম বলেন, আমার ওয়ার্ড়ের এ রাস্তার নির্মান ব্যায় এক লক্ষ পঁচিশ হাজার টাকা। আমি কাজ বন্ধ করার কথা চেয়ারম্যানকে বলেছি। সে কোন কথায় কর্ণপাত করেননি। উপজেলা প্রকৌশল অফিসের এসও রবিউল ইসলামের যোগসাজসে তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রকল্পে প্রতিটি ইটের মূল্য নির্ধারণ রয়েছে ৯ টাকা। আর কাজ হচ্ছে ৬ টাকার ইটে।
পাঁচবাড়িয়া গ্রামে লালমিয়ার বাড়ী হতে লুৎফর শিকদারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় ফ্লাট সলিংয়ের কাজ সদ্য সমাপ্ত হয়েছে। এ কাজের প্রকল্প ব্যায় নব্বই হাজার টাকা। এ রাস্তাতেও তিন নম্বর ইট ব্যবহার হয়েছে। এ এলাকার মহিলা সদস্য মেহেরুন্নেছা বলেন, আমি ভাল ইট দিয়ে কাজ করতে চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেছিলাম। তিনি শোনেননি। এ রাস্তার একাংশ ফ্লাট সলিং দেখিয়ে কোন কাজ না করেই গত এডিবির বরাদ্ধ থেকে চেয়ারম্যান পঞ্চাশ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। একই কাজ তিনি আবার এলজিএসপিতেও দেখাচ্ছেন।
নারিকেলবাড়িয়া ওয়ার্ড়ের সদস্য তরিকুল ইসলাম বলেন, তার গ্রামে সোমনাথের বাড়ী হতে আশিষ পোদ্দারের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তায় যে ইট ব্যবহার হয়েছে তাতে লাথি মারলে ভেংগে যাবে। এ রাস্তার প্রকল্প ব্যায় নব্বই হাজার টাকা।
৯ নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গত একমাস আগে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট রচয়ারম্যানের এসব অনিয়মসহ আরো বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি প্রকল্প পরিদর্শনও করেছেন। কোন ব্যবস্থা নেননি। এরপর গত ২৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কাছে আমরা অভিযোগ করেছি।
সম্প্রতি এসব রাস্তায় কাজের মান পরিদর্শনে আসেন এলজিএসপি প্রকল্পের যশোর জেলা ফ্যাসিলেটেটর আব্দুল হালিম। তিনি সকল প্রকল্প পরিদর্শন শেষে এ প্রতিবেদককে বলেন, কাজের মান সন্তোষজনক হয়নি। প্রতিটা প্রকল্পেই নি¤œমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নারিকেলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের আবুল সরদার বলেন, ইউএনও সহ প্রকল্পের কর্মকর্তারা কাজ দেখেছেন। তাদের নির্দেশনাতেই কাজ হচ্ছে। একটি প্রকল্পে ইট নিয়ে অভিযোগ করেছেন। আগামী কালই (আজ) আমি সেটা পাল্টিয়ে দেব।
এছাড়া গতকাল ৯ নভেম্বর যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের (বাঘারপাড়া আমলী আদালত) আদালতে ভ’য়া রেজুলেশন ও প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়। মামলা নং ১১৫/১৭। ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য রবিউল ইসলাম বাদি হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় আবু তাহের আবুল সরদার ছাড়াও আরো দুইজনকে আসমী করা হয়েছে। আসামীরা হলেন আজিজুর রহমান ও তার ভাই কাফিদুল ইসলাম। তারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের মিকাইল মোল্যার ছেলে। উভয় ইউনিয়ন পরিষদের ই-সেবা শাখায় কাজ করেন।
বাদি মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আসামীগণ জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ভুয়া রেজুরেশন ও প্রজেক্টের মাধ্যমে কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। কর্মসৃজন প্রকল্পের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির ২৭৫ জন শ্রমিকের ১৪ দিনের ৬ লক্ষ ৭৩ হাজার ৭শ ৫০ টাকা, একই প্রকল্পের নন ওয়েস্ট কস্টের ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৩শ ৮৯ টাকা ভুয়া বিল ভাইচার দিয়ে উত্তোলন করেছেন।

 

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন