শীত আসার আগেই রাজশাহীতে খেজুর গুড় তৈরির ধুম পড়েছে। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন স্থানে এ গুড়ের বাজার জমে উঠেছে।

এক তথ্যে জানা গেছে, রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও পবা উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গুড় উৎপাদন  হয়। এসব এলাকায় রস সংগ্রহের উপযোগী ৮১ হাজারের বেশি খেজুর গাছ আছে। এক মৌসুমে প্রতিটি গাছ থেকে সংগ্রহ করা রসে প্রায় ২৫ কেজি গুড় তৈরি হয়। সব মিলিয়ে প্রতি বছর এ অঞ্চলে অন্তত ১০ কোটি টাকার গুড় কেনাবেচা হয়। পুঠিয়ার ঝলমলিয়া হাটে গুড় বিক্রি করতে আসা গাছি আবদুল কুদ্দুস গতকাল জানিয়েছেন, তিনি ৯০ টাকা কেজি দরে নতুন খেজুরগুড় বিক্রি করছেন। ফাল্গুন মাসের শেষ পর্যন্ত তিনি খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে বাজারে সোনালি, হালকা লাল, চকচকে ও উজ্জ্বল সাদাটে গুড় বিক্রি হচ্ছে। গুড়ের রঙ আকর্ষণীয় করার জন্য তৈরির সময় হাইড্রোজ মেশানো হয়। এ হাইড্রোজ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

এ প্রক্রিয়ায় তৈরি গুড়ের স্বাদ ও গন্ধ ভিন্ন। এ গুড় দানা হয় না। এছাড়া দীর্ঘদিন সংরক্ষণও করা যায় না। বাঘার গুড় ব্যবসায়ী মালেক ও সেকেন্দার আলী জানান, খেজুর গুড় কিনতে রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসছেন। হাইড্রোজ মেশানো গুড়ও উঠছে বাজারে। এর ফলে রাজশাহীর গুড়ের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। কৃষি অফিস জানিয়েছে, হাইড্রোজমুক্ত গুড় তৈরিতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ঢেঁড়স গাছের কাণ্ড, শিমুল গাছের শিকড় এবং ঘৃতকুমারীর রস দিয়েও ভালো গুড় করা যায়। এতে গুড়ের রঙ আকর্ষণীয় হয় এবং পুষ্টিমান বজায় থাকে। এরই মধ্যে অনেক চাষি এ প্রক্রিয়ায় গুড় পরিশোধন করছেন। পাইকারি দরে প্রতি কেজি গুড় ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গুড়ে যারা হাইড্রোজ মেশাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন