কমলনগরে মাকছুদ হত্যা মামলার ফাইনাল তদন্ত রিপোর্টে
মিথ্যার ভরাডুবি, অনাস্থা বাদীর

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি 

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আলোচিত মাকছুদ হত্যা মামলার ফাইনাল প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছে মামলার বাদী নিহত মাকছুদরে সহধর ভাই মোঃ বেল্লাল হোসেন। মামলার বাদী জানায়, মাকছুদ খুন হওয়ার পূর্বে লরেন্স বাজার মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের টি বয় হিসেবে কাজ করতো সে। ঐ ক্লাবে এসে লরেন্স বাজারের প্রভাবশালী টাকাওয়ালা ছানাউল্যাহ তহশিলদার প্রায়ই আড্ডা দিত ও টাস খেলতো। সে সুবাদে ছানাউল্যাহ’র বাড়ির সকল বাজার সওদা মাকছুদকে দিয়েই আনা-নেওয়া করাতো। আর এভাবেই গড়ে উঠে ছানাউল্যার মেয়ে “অমির” সাথে মাকছুদের প্রেমের সর্ম্পক (সূত্র দৈনিক সবুজ জমিন পত্রিকার রিপোর্ট)। বিষয়টি তহশলিদারের নজরে পড়লে মেনে নিতে না পেরে মাকছুদকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে আরও জানায় ,মাকছুদ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করি, আট দিনের মাথায় সানাউল্যাহ তহশিলদারের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকির উপর পাওয়া যায় মাকছুদের ব্যবহৃত টর্সলাইট, লুঙ্গি, গেঞ্জি। খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাঁশ দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে লাশ খুজতে থাকে, না পেয়ে অবশেষে চলে যায় পুলিশ। পুলিশ চলে যাওয়ার পর রাতের আধাঁরে নাটকীয়ভাবে সেপটিক ট্যাংকির ভাঙ্গা অংশ সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দেয় সানাউল্যাহ তহশিলদারের ঘনিষ্ঠ সহচর ফখরুল ইসলাম (মুরাদ), ও হারুন মেম্বার। পরের দিন পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সিমেন্টের ঢালাইকৃত অংশ ভেঙ্গে নিহত মাকছুদের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

ঐ সময় উপস্থিত ছিল পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা সহ হাজার হাজার জনসাধারণ। নিহত মাকছুদের মায়ের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে উঠেছিল তখন, পুলিশকে লক্ষ্য করে করুণ আকুতি করে বার বার বলছিলো আমার বাবা-রে (মাকছুদকে) সানাউল্যাহ মাইরা ফালাইছে, আমি সানাউল্যাহর বিচার চাই, আর এইভাবেই ছেলে হারানোর তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে কিছুদিন পর মাও মারা যায় মাকছুদের। মামলার বাদী আরও বলেন, আমার ভাইয়ের গলিত লাশ উদ্ধার হওয়ার পর কমলনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করি। তাতে বেশ কয়েকজন কে আসামী করা হয়। প্রকৃত দোষীদের আড়াল করতে ঘটনার কিছুদিন পর নিরীহ যুবক শরীফকে আটক করে পুলিশ, ১৫৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করে তার। তবে পৈষাচিক নির্যাতন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে উদ্দেশ্যমূলক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে শরিফকে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করে সে। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ গরিমিশি করে সানাউল্যাহ তহশিলদারের কালো টাকার অর্থের কাছে হার মেনে প্রকৃত দোষী দের আড়াল করে এই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় অনাস্থা দিয়ে পূর্ণ তদন্ত দাবি করেন বলেও নিশ্চিত করেছে মামলার বাদী। নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়ে একাধিক সূত্র জানায়, নিহত মাকছুদ নিখোঁজ হওয়ার পর সানাউল্যাহ তহশিলদারের সেপটিক ট্যাংকির উপর তার (মাকছুদের) জামা-কাপড়-টর্সলাইট ব্যবহৃত মোবাইল পাওয়া, ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে প্রথমে লাশ না পাওয়া, উদ্দেশ্যমূলক ভাবে সেপটিক ট্যাংকির ভাঙ্গা অংশ সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে দেওয়া, পরের দিন পুলিশ ঐ সেপটিক ট্যাংকি থেকেই লাশ উদ্ধার করা, মাকছুদ নিখোঁজ হওয়ার পর মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তহশিলদারের ঢাকায় অবস্থান করা, আবার লাশ উদ্ধারের সময় বাড়িতে উপস্থিত থাকা এসব কিসের ইঙ্গিত? তবে প্রেম ঘটিত বিষয়ে নবাগত মেয়ের জামাতা জেনে যাবে এই ভয়ে তহশিলদার মাকছুদ হত্যায় প্রযোজকের চরিত্রে অভিনয় করতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে এলাকার সিংহ-ভাগ মানুষ। এই মামলায় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মহসিন মাষ্টারের সন্তান মাহমুদুল হাসান হিরাকে জড়ানো হয়েছে বলে এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তারা।

সানাউল্যাহ তহশিলদার ও মুক্তিযোদ্ধা মহসিন মাষ্টারের পরিবারের সাথে বহুদিন ধরে দ্বন্দের বিষদ বর্ণনা দিয়ে একাধিক ব্যাক্তি বলেন, মহসিন মাষ্টার পরিবারকে ধ্বংস করার কৌশল হিসেবে মাকছুদ হত্যা মামলায় বাদীকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে হিরাকে ফাঁসিয়েছে ওই তহশিলদার। আর টাকার দাপটে নিজে রয়ে গেছে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। তবে সানাউল্যাহ তহশিলদার, হারুন মেম্বার, ফখরুল ইসলাম মুরাদ, ঐ বাজারের নৈশ প্রহরীকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন এলাকার অভিজ্ঞ মহল। অন্যদিকে বাদী আশা করছেন পুলিশ প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজেবের করে সাঁজা নিশ্চিত করলে মাকছুদ পাবে তার খুনের বিচার। চলবে…….

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন