আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রতিষ্ঠিত “একুশে কর্ণার” এর উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিও উদ্বোধকে  ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী ফিতা কেটে আজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদেমুল হারামাইন বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের নিচ তলায় একুশে কর্নার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ। বক্তব্য রাখেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থগারিক মু আতাউর রহমান। মহান ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও ভাষা শহীদদের উপর লিখিত জাতীয় ভাবে খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন লেখকের ২৩৪টি বই দিয়ে প্রাথমিক ভাবে একুশে কর্ণার সাজানো হয়েছে।

উপাচার্য প্রফেসর  ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অমর একুশের চেতনায় উজ্জীবত করণ এবং একুশ বিষয়ে পঠন ও পাঠন এবং গবেষণার মানোন্নয়ন করতে একুশে কর্নারের প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে’।

 অপরদিকে  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিনটি পালন উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচি অনুযায়ী ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে পবিত্র কুরআনখানি অনুষ্ঠিত হয়। রাত ১১.৪৫ টায় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র  নেতৃত্বে এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফের উপস্থিতিতে প্রশাসন ভবন চত্বর হতে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত শোকর‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা,কর্মচারি, ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন হল,বিভাগ, সমিতি, পরিষদ, ফোরাম এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। রাত ১২.১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রথমে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা ও  ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ। ভাইস-চ্যান্সেলরের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি, সহায়ক ও সাধারণ কর্মচারী সমিতি, আইআইইআর, বিভিন্ন হল,বিভিন্ন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ,শাপলা ফোরাম, বিভিন্ন পরিষদ,রোভার স্কাউট ও বিএনসিসি, ইবি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল,বাংলাদেশ ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন,  ইবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজ, ইবি প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সমিতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভাষা শহীদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে। পরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট  নিরবতা  পালন  ও তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

এদিকে ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়  প্রশাসন  ভবন  চত্বরে ভাষা শহীদদের  প্রতি শ্রদ্ধা  জানিয়ে জাতীয়  পতাকা  উত্তোলন  করে অর্ধনমিত  করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী এবং কালোপতাকা উত্তোলন করেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি হলে প্রভোস্টগণ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে অর্ধনমিত ও কালোপতাকা উত্তোলন করেন। সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় মসজিদে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও ইবি শহীদ মিনারে তারুণ্য আয়োজিত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর  ড. হারুন-উর রশিদ আসকারী।

স/শা

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন