দৌরাত্মের দাপটের কবলে জেল হাজতে মানষিক রোগীর ভাগ্য

মো রাজিব তালুকদার জেলা প্রতিনিদি (ঝালকাঠী) কাঠালিয়া:

আন্তঃজেলা ডাকাত চক্র গ্রেফতার, মাদক ও জুয়ারীদের আতœসমর্পন, পারিবারিক বিরোধের শান্তিপূর্ন সমাধান, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি, মাদক, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ ও যৌতুক বিরোধী মতবিনিময় সভাসহ সৎ পুলিশ অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এমএম মাহমুদ হাসানের পুলিশি সেবায় ঝালকাঠিবাসী মুগ্ধ। সাধরণ মানুষ সমস্যার শান্তিপুর্ণ সমাধানের জন্য এ সৎ অফিসারের কার্যলয়ে ন্যায় বিচারে জন্য উপস্থিত হয় দিশেহারা মানুষগুল। অতিরিক্ত পুলিশ সপার এমএম মাহমুদ হাসান (পিপিএম-সেবা) ঝালকাঠি জেলায় যোগদান করার পর থেকে জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশের ব্যাপক শুনাম ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এ পুলিশ কর্মকর্তা।

কিন্তু ঘটে যাওয়া এমনই একটি ঘটনা এ দয়িত্বশীল ও নিষ্ঠাবান এক পুলিশ কর্মকর্তার জীবনাচার ও দর্শনের প্রতি অবজ্ঞা ও অবিচারের সাক্ষ্য বহন করে ঝালকাঠি সদর উপজেলার রাজপাশা দৌরাত্মের দাপটের কবলে কৌশুলি প্রতিপক্ষের নির্যাতনের শিকার হয়ে জেল হাজতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে মানষিক রোগী পুলক হোসেন খান রনি।

জানাজায়, গত বৃহস্পতিবার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও নারিকেল পাড়াকে কেন্দ্র করে মানষিক রোগী পুলক হোসেন খান রনির প্রতিপক্ষ চাচাতো ভাই মো. ফয়সাল খান (২৪), বাদল ওরফে হাত কাটা বাদল (৪০), জনি (১৮), মিন্টু দোকানদার (৩০) দিনভর পাগল পাগল বলে উত্যক্ত করে তোলে। উল্লেখিত ব্যক্তিরা রনির মরহুম পিতার গাছ থেকে রনি নয়টি নারিকেল পাড়ে। এসময় উল্লেখিত ব্যক্তিরা রনির কাছ থেকে নারিকেল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। মানষিক রোগী রনি এতে উত্তেজিত হয়ে উঠে এবং দফায় দফায় রনির উপর হামলা চালায়। কৌশলি প্রতিপক্ষ উত্তেজিত রনিকে ফাঁসানোর জন্য শেখেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর দেয়। সকাল ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত শুনে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে চলে যান। এদিকে বিকেলে রনি বাজারে বের হলে রনিকে আবারো উত্যক্ত শুরু করে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পুনরায় প্রতিপক্ষ পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থল শেখেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মোড়ে চৌরাস্তায় গোপল দেবনাথ এর মুদির দোকানের সামনে কৌশলি প্রতিপক্ষের আক্রমনে এক পুলিশ আহত হয়।

উক্ত ঘটনায় শেখেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মো. ফারুক হোসেন বিপি ৭১৯১০৮৫১১৭ এস আই (নি:) ধারা: ৩৩৩/৩৫৩/৩৪১/৩০৭ মামলা দায়ের করে। আসামী পুলক হোসেন খান রনি একজন মানষিক রোগী।

মানষিক রোগীর “মা” নাছিমা জানান, ঘটনার ৪ দিন আগে আমি অসুস্থ হয়ে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলাম। আমার মানষিক রোগী পুত্র রনি এসময় বাড়িতে একা ছিল। আমি শুধু এতটুকুই শুনছি হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আমার এলাকার প্রতিবেশি মিন্টু দোকানদার ৪.৩০ সময় ফোনে জানায় কাকি আপনার ছেলে রনি দাওয়া করে আমি কি পুলিশকে খবর দেব এর পর ফোন কেটে দেয়। ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার রাতে আমি ঝালকাঠি বাসায় থাকি। পরের দিন আমি বাড়িতে যাই এবং প্রতিবেশীর কাছ থেকে আমি জানি আমার ছেলে রনিকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে।

স্থানিয়রা জানায়, শেখেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মোড়ে চৌরাস্তায় গোপল দেবনাথ এর মুদির দোকানের সামনে রনির চাচাতো ভাই মো. ফয়সাল খান, বাদল ওরফে হাত কাটা বাদল, জনি, মিন্টু দোকানদারসহ আরো দু’তিন জন রনিকে বেধরক মারধর করে। এসময় পুলিশ এসে তাতে বাধা দেয় আর এই আক্রমনে এক পুলিশ আহত হয়।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন