ঝিনাইদহ সদর গুদামে চলছে ভেল্কিবাজী
দশ টন চাল পাচার ধামাচাপা:শতভাগ তদন্ত ছাড়াই ঝিনাইদহ সদর গুদামের দায়িত্ব হস্তান্তর

জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহঃ
অবশেষে শনিবার রাতে ‘বিশেষ ব্যবস্থায়’ শতভাগ তদন্ত ছাড়াই ঝিনাইদহ সদর গুদামের দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া সস্পন্ন হয়েছে। এভাবেই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ১০ মেট্রিক টন চাল পাচারের ঘটনা। যা এলিট ফোর্স র‌্যাব কর্তৃক হাতেনাতে ধরে। জেলা শহরের একজন ব্যবসায়ির ঘর থেকে পাচার হওয়া চালউদ্ধার এবং সদরের গুদাম কর্মকর্তা জসিম উদ্দীনসহ তিনজন আটক হয়। জসিম উদ্দীনসহ আটক তিন জনের নামে ঝিনাইদহ থানায় মামলাও হয়েছে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে দুর্নীতিবাজদের তদবির মিশন মাঠে নামে। জসিম উদ্দীনকে ‘বিশেষ কারণে’ ছাড়িয়েও নেয়া হয়। অভিযোগ মতে, এলিট ফোর্স র‌্যাব-এর অভিযানে ২০০ বস্তা অর্থাৎ ১০ মেট্রিক টন চাল আটকের পর থেকে ঘটনা ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা শুরু হয়। চালসহ আটকের পরই ঝিনাইদহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল হোসেন সদর গুদামের কাজের জন্য গুদাম কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত জিম্মায় ছাড়িয়ে আনেন। গঠন করেন ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি। যাতে সদস্য করা হয় ঝিনাইদহ সদর উপজেলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে। খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়ম মোতাবেক উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ওসিএলএসডি দু’জনই গুদামের সুবিধাভোগী। অভিযোগ মতে, সে কারণেই যথাযথ তদন্ত না করেই কমিটি দায়সারা রিপোর্ট দাখিল করে। শুধুমাত্র খামাল গুনেই তদন্ত শেষ করে।

তদন্ত কমিটি নমুনা অনুযায়ী গুদামের চালের খামাল পরীক্ষা করেননি। কেমিস্ট এনে এনে চালের মানও তদন্ত করেনি। শতভাগ তদন্ত ছাড়াই দায়সারা একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। কারণ, গুদাম থেকে পাচারের পর যখন চাল আটক হয়েছে, গুদামের মজুদ ঘাটতি তখনও সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গুদামের মজুদ পরীা না করা হয়নি। তদন্তের নামে যা করা হয়েছে সবই দায়সারা। এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল হোসেন বলেন বিষয়টি তখন তার মাথায় আসেনি। এভাবেই শতভাগ তদন্ত ছাড়াই ঝিনাইদহ সদর গুদামের দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শুরু থেকেই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ১০ মেট্রিক টন চাল পাচারের ঘটনা। সূত্রমতে, মংলা বন্দর থেকে সরু চাল ঝিনাইদহ সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে আনা হয়। বাজারমূল্য বেশি থাকায় এই চাল বাজারে বিক্রি করে বাজার থেকে নিম্নমানের চাল গুদামে নেওয়া হলে বড় মুনাফা হবে।

খাদ্য বিভাগের একটি চক্র এই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য তৎপর হয়। উপরি মহলে যোগাযোগ করে ভারতীয় সিদ্ধ চাল ঝিনাইদহ গুদামে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ওসিএলএসডি ছাড়াও খাদ্য বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন। আর সে কারনেই ‘বিশেষ ব্যবস্থায়’ শতভাগ তদন্ত ছাড়াই ঝিনাইদহ সদর গুদামের দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া সস্পন্ন হয়েছে। যেখানে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শনিবার বলেন, তদন্তে সদর খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে কিছু অনিয়ম পাওয়া গেছে। গুদামের ভাল সিদ্ধ চাল বিক্রি করে খারাপ চাল খামালের মধ্যে বিষয়টিও শতভাগ পরীক্ষা করা ছাড়া বলা যাবে না। এমন অভিযোগ তার কাছেও এসেছে বলে তিনি জানান। যে গুদামকর্তা চার্জ নেবেন তাকে খাদ্য শষ্য শতভাগ পরীক্ষা করে চার্জ গ্রহণের জন্য বলবেন বলে জানান। সেখানে সেই শনিবারেই কীভাবে অন্য আরেকজন ওসিএলএসডির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঝিনাইদহ জেলার সদর খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি জসিম উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, শনিবার নয়, রোববার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। সব খামাল ভেঙে দেখে তারপর গুদাম কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। এসব বিষয় না লেখার জন্য তিনি তদবির মিশনও চালান। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হাসান মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খাদ্য দিবসের কর্মসূচি নিয়ে তিনি ব্যস্ত আছেন।

আর চার্জ গ্রহণের বিয়ে বলেন, শনিবারই ওসিএলএসডি আবুল কালাম আজাদ দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। বন্ধের দিন কীভাবে দায়িত্ব আদান-প্রদান সম্ভব, এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, বন্ধের দিনেও দায়িত্ব হস্তান্তর এবং দায়িত্ব গ্রহণ সম্ভব। তাছাড়া শনিবার যেখানে ডিসি ফুড বলেন, ওসিএলএসডি জসিম উদ্দীন তার সামনেই বলেছেন র‌্যাব আটক চাল পুলিশের রেশনের বিক্রি করা চাল। এটি জানার পরও শতভাগ পরিমাপ করা ছাড়াই কীভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর হলো এই প্রশ্নই এখন সবার মুখে মুখে। গতকাল এ বিষয়ে জানার জন্য ঝিনাইদহ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল হোসেনের মুঠো ফোনে কয়েকদফা যোগাযোগ করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জানার জন্য খাদ্য অধিদফতরের খুলনা বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ড.এসএম মহসিন ও খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বদরুল হাসানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কয়েকবার রিং দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন