মো. সাদের হোসেন বুলু দোহার-নবাবগঞ্জ(ঢাকা) থেকে

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর স্লোগান“এক অবস্থানে সেবা” কাগজে কলমে এ ধরনের প্রচার চালালেও গ্রাহক সেবা ও অনিয়ম যেন প্রতিনিয়ত কুঁড়ে খাচ্ছে স্থানীয় গ্রাহকদের। একটু ঝড় ও বাতাস প্রবাহিত হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না গ্রাহকদের। নির্দিষ্ট টাকার বাইরেও দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নতুন সংযোগ নিতে হয় বলে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে।

নবাবগঞ্জ দোহার,মানিকগঞ্জের সিংগাইর, হরিরামপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগরের আংশিক এলাকার প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার গ্রাহক নিয়ে চলছে নবাবগঞ্জে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর কার্যক্রম।
সকাল থেকে ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পযন্ত বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিদ্যুৎ গ্রাহক ও নতুন সংযোগ নিতে আসা সাধারণ মানুষকে প্রতিপদে ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে এখন ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ-২ নবাবগঞ্জ অফিসে। দালালদের দৌরাত্ম বৃদ্ধির কারনে সাধরণ জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর ধারণা। শিল্প, বানিজ্য ও সেচ প্রকল্পের গ্রাহকদের ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হচ্ছে তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে। যা দেখেও না দেখার ভান করছেন সংম্লিষ্ঠ বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ।

স্থানীয় গ্রাহকদের দাবী, এবছর জুন, জুলাই ও আগষ্ট মাসে অধিকাংশ গ্রাহকের হঠাৎ করে ভুঁতরে বিলের কপি পাঠায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ফলে সাধারণ কৃষক ও শ্রমজীবী গ্রাহকের ভোগান্তি যেন চরমে পৌছায়। অনেকেই সময় মতো দ্বীগুন বিল পরিশোধ করতে না পারায় তার বিদ্যুৎ সংযোগ টি বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। কোন গ্রাহক অফিসে যোগাযোগ করলে সফটওয়্যারের সমস্য বলে জানিয়ে কর্তব শেষ করেন বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৬ টি অভিযোগ কেন্দ্রের সেবারমান নিয়েও জনমনে রয়েছে নানান অভিযোগ। রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইলে ফোন দিলেও রিসিভ করেন না অভিযোগ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা।

নবাবগঞ্চ উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১৫ কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত কৈলাইলের মেলেং অভিযোগ কেন্দ্রে। এখানে গ্রাহক সেবার নামে চলছে অন্তহীন ভোগান্তি। কোন গ্রাহক তাদের প্রয়োজনে অফিসে ফোন করেলে রিসিভ করে কথা বলে না কর্মকর্তারা। সম্প্রতি পাড়াগ্রামে একটি বসত বাড়ির মালিক বৃদ্ধ মহিলাকে না বলে, বসত ঘরের উপর দিয়ে বিদ্যুৎতের তার নেয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হলে অভিযোগ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ কর্মী তন্ময় তিনি নিজেকে গোপাল গঞ্জের লোক বলে পরিচয় দিয়ে গ্রাহকের সাথে খারাপ ও অশ্লিল আচারণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তন্ময়ের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মহিলা মৌখিক ভাবে জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি তারা।

নবাবগঞ্জের বাহ্রা ইউপির কাহুর গ্রামের বাসিন্দা প্রেস শ্রমিক নুরুল ইসলাম খাঁন অভিযোগ করেন, তার বিগত মাসে গড় বিল আসতো ২শ ৫০ টাকা থেকে ৩শ টাকা,কিন্তু হঠাৎ জুলাই ও আগষ্ট ১১৮০ ও ১১২০ টাকার ভুঁতরে বিল আসে তার নামে। এবিষয়ে তিনি নবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এস.জিএমের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সমাধান পাননি। ভুতরে বিল নিয়ে, দোহারের গ্রাহকরা

দোহার জোনাল অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীকে ও অবরুদ্ধ করে রাখে কয়েক ঘন্টা। পরে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরে তাদের ছেড়ে দেয় জনতা। ভুতরে বিল নিয়ে দোহারে ঝাড়– মিছিলও হয়েছে কয়ে কবার। যেখানে সরকার চাচ্ছে আগামী ২০২১ সালে মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার(চলতি) আলমগীর হোসেন বলেন, দালালদের বিষয়টি আমার জানা নেই । কোন কর্মকর্তা অনিয়মের সাথে জড়িত থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন