জাহিদুর রহমান তারিক,ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহ ৬ উপজেলায় চিকিৎসা সংকটের মধ্যে ১৩৩ জন চিকিৎকের পদ শুন্য রয়েছে। টপ-ফাইভে অবস্থান ধরে রাখতে জেলার ১৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছেন চিকিৎসকরা। এমন দাবি করেছেন ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাক্তার রাশেদা সুলতানা। সিভিল সার্জনের দফতর সূত্রে জানা গেছে, এ জেলায় প্রথম শ্রেনী থেকে ৪র্থ শ্রেনীর কর্মকর্তা কর্মচারীর পদ রয়েছে ১ হাজার ১২৪টি। এর মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ৩৫৭টি। ২১০ জন ডাক্তারের পদ রয়েছে। তদস্থলে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৭ জন। ১৩৩ জন ডাক্তারের পদ শূন্য। সিভিল সার্জনের দফতরে দীর্ঘদিন জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক নেই। নেই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে ডাক্তার। নার্সিং সুপারভাইজর দুইজন এবং সিনিয়র স্টাফ নার্সের ১১টি পদ শূন্য। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট চু ও সিনিয়র কনসালটেন্ট শিশু পদে বছরের পর বছর কোনো ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না।

একই হাসপাতালে জুনিয়ার কসসালটেন্ট রেডিওলজি ও প্যাথলজির কোন ডাক্তার নেই। জুনিয়ার কনসালটেন্ট সার্জারি ও গাইনি পদে ডা.কাওসার হামিদ ও ডা. আমীন মোস্তফা আলী নামে দুই মেডিকেল অফিসার চাকরি করছেন। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে জুনিয়ার কনসালটেন্ট অ্যানেসথেসিয়া পদটি বছরের পর বছর শূন্য। কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জুনিয়ার কনসালটেন্ট চর্ম ও যৌন ডা. হুমায়ুন শাহেদ ডেপুটেশনে (সংযুক্তি) মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং একই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী জুবায়ের হাসান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসাতালে ডেপুটেশনে (সংযুক্তি) চাকরি করছেন। শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ করা হলেও আজো এই হাসপাতালের জনবল অনুমোদন দেয়নি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়। ঝিনাইদহ জেলায় ৫টি আধুনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে।

এর মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ ৬ জন, হরিণাকুন্ডুতে ৭ জন, শৈলকুপা ৫ জন, কোটচাঁদপুরে ৫ জন এবং মহেশপুর উপজেলায় মাত্র ৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন। ঝিনাইদহ জেলায় উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র (সাব-সেন্টার) রয়েছে মোট ১৩টি। সব গুলোতে একজন করে মেডিকেল অফিসারের পদ রয়েছে। ১১টিতে কোন ডাক্তার নেই। শুধুমাত্র ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডা.শাহীন ঢালী ও কাগজ কলমে কালীগঞ্জ উপজেলার বলরামপুর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডা.শানজিনা ইয়াসমিন শম্পা কর্মরত আছেন। ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাক্তার রাশেদা সুলতানা চিকিৎসা সংকটের মধ্যেও সেবার মান নিয়ে সন্তষ্ট প্রকাশ করে বলেন, কিছু জটিলতদার কারণে সব সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না। তবে দ্রুতই চিকিৎসা সংকট কেটে যাবে। তিনি বলেন, ছুটি নিয়ে নিখোঁজ চার নারি চিকিৎসককে কাজে যোগ দিতে বারবার চিঠি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তারা সাড়া দিচ্ছেন না।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন