হায় কাশ্মীর! দুর্ভাগা কা‌শ্মীর!
-ওয়াজ কুরুনী সি‌দ্দিকী

হায় কাশ্মীর! দুর্ভাগা কাশ্মীর,
কেন তুমি ভুস্বর্গ হতে গেলে!
তুমি কি জানোনা,
আপনা মাংসে হরিণ বৈরি।

ঝিলামের স্রোতবাহী, অপরূপা কাস্মির।
কেন এত উর্বরা হতে গেলে?
বুকের সুষমা দুয়ে সাজিয়ে তোল
আনার, আপেল আর আঙ্গুরের মাঁচা।
যার লোভে তুমি আজো হয়ে আছো
শত্রুর তালাবদ্ধ খাঁচা।

প্রতিদিন তুমি –
সন্তান হারানোর শোকে নীলে নীল হও।
তোমার প্রতিটি ভোর আসার কথা ছিল
মুয়াজ্জিনের সুমধুর আজানের ধ্বনি শুনতে শুনতে
অথচ তোমার দিন কাটে, নিখোজ ছেলের
প্রতিক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে।

প্রতিদিন কত মায়ের বুক খালি হয়।
সন্তান হারায় তাঁর স্নেহময় পিতা।
কত স্ত্রী হারায় তাঁর নাক ফুলের সৌন্দর্য।
কত বোন হারায় সতিত্ব -সম্ভ্রম।
তবু তুমি শত্রুর গোলা ভরে তোল
বিপুল শস্যের সম্ভারে।

তোমাকে কেন ওরা হাতছারা করবে!
তুমিতো শুধু পাঁচ লাখ বর্গমাইলের
একটি ভূখন্ডই নও!
তুমি যেন রূপ কথার আশ্চর্য প্রদ্বীপ!
আর আধুনিক সভ্যতার রিমোট কন্ট্রোল।
তোমাকে কব্জায় রাখতে পারলে,
ছড়ি ঘোরানো যায় সমগ্র এশিয়ায়।

ভারত মাতার সেবাদাশ,
মোনাফিক শেখ আব্দুল্লাকে পেটে ধরে
নাহয় ভুলই করেছিলে।
যার খেসারত দিচ্ছ ১৯৪৭ থেকে আজবধি।
কিন্তু তাওহিদী চেতনার সিংহ পুরুষ
আফজাল গুরুর স্নেহময়ী মা হতে গেলে কেন?
তাইতো প্রতিদিনই সন্তান হারানোর শোকে
ক্ষত বিক্ষত হয় তোমার হৃদয়।

জান্নাতি হুর গুলনাহার দের অসহায়া মা হয়ে
বোবা কান্নায় দিন গুলো না হয় কেটেই যেত
যে কোন ভাবে।

গৌতম ঘোষ, ঋত্বিক ঘটক, ইয়াশ চোপরা,
ফারাহ খান আর করন জোহরেরা;
ওদের ধরে এনে বলিউডের পর্দা কাঁপাতো।
মেক অাপ ,‌ফে‌সিয়া‌লের পয়সা বাঁ‌চি‌য়ে।
অথবা আরবের ধন্যাঢ্য শেখদের শয্যা সঙ্গীনী করে
হাতিয়ে নিত মধ্যপ্রাচ্যের একচেটিয়া শ্রম বাজার।
কেউ বাঁধা দেয়ার থাকত না। কিন্তু
শেখ ওসামার মতো সাহসী সূর্য সন্তানের
গরবিনী মা হতে গেলে কেন?
যারা বোনের সতিত্ব রক্ষায় নিজের বুকটা
করে দেয় শত্রুর টার্গেট প্র্যাকটিসের
সহজ নিশানা।

কাশ্মীর! কাশ্মীর! মহাকবি আল্লামা
ইকবালের স্বপ্নভূমি কাশ্মীর!
আর কতকাল পায়ে থাকবে
গোলামীর জিঞ্জির?

স/মা

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন