খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠিতে অর্থাভাবে লেখাপড়া বন্ধের পথে কলেজ পড়–য়া আনিকা খানম নামের এক মেধাবী শিক্ষার্থীর। আনিকা ঝালকাঠি সদর উপজেলার ছত্রকান্দা এলাকার চা এর দোকানদার মো. আনসার আলী’র জ্যেষ্ঠ কণ্যা। আনিকা খানম ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের মেধাবী ছাত্রী। সে (ঔউঝ) ২০১৬, বার্ষিক সাহিত্য ও সাংষ্কৃতি প্রতিযোগীতায় ও সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগীতা-২০১৭ বাংলাদেশ স্টাডিজ ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে। এছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ও অনেক কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

আনিকা নিজের এসএসসি পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার বরাত দিয়ে জানান, “চা এর দোকানদার বাবার টানাপোড়া সংসারে ২০১৬ সালে এসএসসি-তে জিপি-এ ৪.৭৬ পাবার পর আনন্দের সীমা ছিলো না, কারণ নিজের যোগ্যতার বিচারে আমার কাছে ভালো রেজাল্ট ছিলো ৩.৫ এর উপরে। সেদিক থেকে রেজাল্ট ছিল অপ্রত্যাশিত, তাই খুশির প্লাবনও ছিলো দুকূল উপচানো। আমি জানতাম, শিক্ষার সমুদ্রে বেশিদূর পাড়ি দেয়া আমার দূর্বল জোড়াতালির তরীর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই কম খরচে পড়ার জন্য নিকটবর্তী ঝালকাঠি সরকারী মহিলা কলেজে (ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে) ভর্তি হই। কিন্তু দরিদ্র বাবার একমাত্র উপার্জনের অর্থ দিয়ে আমাদের সংসার ও লেখাপড়র চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এমনকি আমার পাঠদানের জন্য সব বই পর্যন্ত কিনে দিতে পারেননি বাবা। সহপাঠীদের নিকট থেকে বইপুস্তক ধার করে পড়াশুনা চালানোর আপ্রাণ চেষ্টা করি। এতে মাঝে মধ্যে নিজের কাছে খারাপ লাগে আর হীনমন্যতায় মানুষিক চাপের মধ্যেও থাকতে হয়।”

আনিকার পিতা মো. আনসার আলী হাওলাদার জানান, আমার ছত্রকান্দা বাজার সংলগ্ন একটি চায়ের দোকান থেকে সামান্য আয়ের মধ্যদিয়ে মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার সপ্ন বাস্তব করতে যথাচেষ্টা চালাচ্ছি। আমার দুই মেয়ে বড় মেয়ে এসএসসি পাশ করে ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পরে আর ছোট মেয়ে বেরপাশ মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় নবম শ্রেণিতে পরে। মেয়েরা লেখাপড়ায় আনেক ভালো। ওই হিসেবে তাদের লেখাপড়ার জন্য আমার একমাত্র উপার্জনের অর্থ দিয়ে যথেষ্ঠ তদারকি করতে পারিনা। অনেক সময় না খেয়ে না পড়ে মেয়ে দুটি মানুষ করার জন্য শিক্ষা উপকরণ কিনেদেয়ার চেষ্টা করি কিন্তু সব সময় পারিনা। নিজের ব্যর্থতার কষ্টে মাঝে মধ্যে খুব ব্যথিত হই। কিন্তু যখন সব চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হই তখন বিধাতার উপর ভরসা করে থাকি।

স্থানীয়রা বলেন, এরকম একটি মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষার সমুদ্রে পাড়ি দেয়া দূর্বল জোড়াতালির তরীকে গতিশিল করতে আমাদের সমাজের বৃত্তশালিদের এগিয়ে আসা উচিৎ এবং অর্থ দিয়ে মেধাবী ছাত্রিকে সাহয্য করতে পারি। তহলেই আনিকা খানমের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তব হবে।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন

Power by

Download Free AZ | Free Wordpress Themes