অনলাইন ডেস্ক

মনের মত মন খুঁজে সত্যিকারের প্রেম করা এক ধরণের শিল্প। মুখে বললেও প্রেমের মানে বুঝতে সারা জীবন লেগে যায়।

তাই প্রেমের কোনও নিদিষ্ট বয়স হয় না। প্রথম প্রেমের কোন নির্দিষ্ট বয়স নেই। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই খুব কম বয়সে প্রথম প্রেম এসে থাকে। প্রথম প্রেম বেশিরভাগ সময়ই আদতে প্রেম হয়না, সেটাকে বলা হয়ে থাকে মোহ। প্রথম প্রেম যে কারও সঙ্গে যে কোনও মুহূর্তে হতে পারে।

প্রথম প্রেম ছাড়াও মনুষ্য জীবনে প্রেমের অনেক প্রকারভেদ আছে। কি সেই প্রকারভেদ সেটাই আজকের এই প্রতিবেদন থেকে দেখে নেওয়া যাক-

১। প্রথম দেখায় প্রেম-

প্রথম দেখাতেই এই ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। এ ধরনের প্রেম অনেক ক্ষেত্রেই একতরফা হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়। এ ধরনের প্রেমে প্রায় অবধারিতভাবেই তৃতীয় পক্ষের সাহায্যের দরকার পড়ে। এ ধরনের প্রেমের সূত্রপাতে রূপ স্মরণীয় ও দৈহিক সৌন্দর্যের ভূমিকাই বেশি।

২। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম-

এই ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে প্রেমিক ও প্রেমিকা দু’জনেই প্রথমে বন্ধু থাকে। তবে  এধরনের প্রেম অনেক সময়ই অকালে ঝরে যায় কোন একতরফা সিদ্ধান্ত বা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে। অনেকে বন্ধুত্বের এই রূপান্তর মেনে নিতে পারেনা বলে অনুশোচনায় ভোগে। বিশেষত মেয়েরা।

৩। বিবাহোত্তর প্রেম-

এই প্রেম শুধুমাত্র স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে দেখা যায়। বিয়ের ঠিক পর পর প্রথম কয়েক মাস এই প্রেম প্রবল থাকে। বিবাহোত্তর প্রেম ফলাতে হানিমুনের জুড়ি নেই।

৪। পরকীয়া প্রেম-

বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন পুরুষ বা মহিলার সঙ্গে প্রেমকেই পরকীয়া প্রেম বলে। এই পরকীয়া প্রেমতো আদিযুগ থেকে চলে আসছে।

৫। অপরিণত প্রেম-

এ ধরনের প্রেম সাধারণত স্কুলে পড়ুয়া অবস্থায় হয়ে থাকে। মেয়েরাই এ ধরনের প্রেমে বেশি পড়ে। তবে ছেলেরাও যে পড়ে না তা বলা ভুল হবে। প্রেমিক প্রেমিকাদের দু’জনই সমবয়সী হতে পারে।

৬। কর্মক্ষেত্রে প্রেম-

কর্মসূত্রে দু’জন মানুষের পরিচয়ের মাধ্যমে এ ধরনের প্রেম গড়ে ওঠে। বেসরকারী সংস্থাতে এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়।

৭। মোবাইল প্রেম-

বন্ধুর কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে বা ফোনবুক থেকে চুরি করে, পাড়ার ফোনের দোকান থেকে সংগ্রহ করে, অন্য কোন সূত্র থেকে নাস্বার পেয়ে বা নিতান্তই মনের মাধুরী মিশিয়ে কোন নাম্বার বানিয়ে তাতে ফোন করে কোন মেয়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই ধরনের প্রেমের সূত্রপাত।

৮। ইন্টারনেটে প্রেম-

ইন্টারনেটে চ্যাটিংয়ে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রেম এটা এখন হামেশাই হচ্ছে। দু’জনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে এ ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। এ ধরনের প্রেমে উভয়পক্ষেরই ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থাকে অনেক।

৯। ত্রিভুজ প্রেম-

এ ধরনের প্রেমকে বলা যেতে পারে একজন মেয়েকে নিয়ে দু’জন ছেলের দড়ি টানাটানি। একই মেয়ের প্রতি দু’জন ছেলের ভালোবাসা এই প্রেমের মূলকথা। উক্ত মেয়েকে পেতে দু’জন ছেলেই পাওয়ার জন্যে মরিয়া হয়ে থাকে।

১০। বহুভুজ প্রেম-

একই মেয়ে বা ছেলের প্রতি দু’এর অধিক ব্যাক্তির অনুরাগই মূলত, বহুভুজ প্রেম। এক্ষেত্রে উক্ত মেয়ে বা ছেলেটি স্বভাবতই দৃষ্টিকাড়া সৌন্দর্যের অধিকারী হয়ে থাকেন। সবাই তার সাথে প্রেম করতে চায় এই বিষয়টি তাকে ব্যাপক আনন্দ দেয়।

১১। ঘানি টানা প্রেম-

প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছ থেকে কোন বিশেষ সুবিধা লাভই এ ধরনের প্রেমের উদ্দেশ্য। মেয়েদের মধ্যে এ ধরনের প্রেমের প্রচলন বেশি দেখা গেলেও ছেলেদেরকেও মাঝে মাঝে করতে দেখা যায়।

১২। অব্যক্ত প্রেম-

নীরবে এক অপরকে ভালোবেসে গেলেও পরিস্থিতি, সময় বা মনোবলের অভাবে প্রেমিক বা প্রেমিকার মধ্যে কেউই একে অপরকে কোনোদিন বলেনি। অব্যক্ত প্রেম হারানোর বেদনা খুব কষ্টদায়ক, জীবনের অন্যতম বড় ভুল হিসেবে মনে থাকে।

১৩। সুপ্ত প্রেম-

একে অপরকে ভালোবাসে কিন্তু কেউই কাউকে বলছে না, পুরো ব্যাপারটাই লুকিয়ে যাচ্ছে এমন প্রেমই সুপ্ত প্রেম। সুপ্ত প্রেম আজীবন সুপ্ত থেকে গেলে তা পরিণত হয় অব্যক্ত প্রেমে।

১৪। চুক্তিবদ্ধ প্রেম-

এ ধরনের প্রেম হয় পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে। সাধারণ অর্থে প্রেম বলতে যা বোঝায় তা এই ধরনের প্রেমে অনুপস্থিত থাকে। কোন ভবিষ্যৎ থাকেনা এসব সম্পর্কের।

১৫। অসাম্প্রদায়িক প্রেম-

এ ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে দু’জনে দুই ধর্ম বা সম্প্রদায়ের অনুসারী হয়ে থাকে। সমাজ এ ধরনের সম্পর্ককে সমর্থন করেনা। বিশেষত, হিন্দু-মুসলমান ছেলে-মেয়ের মধ্যে প্রেম বেশি বিতর্কের সৃষ্টি করে।

১৬। ভাড়াটে প্রেম-

এ ধরনের প্রেমের প্রেমিক বা প্রেমিকারা বলতে গেলে ভাড়া খাটে। তারা সকালে একজনের গার্লফ্রেন্ড তো বিকেলে আরেকজনের। কোন নির্দিষ্ট ঠিক ঠিকানা নেই। ব্যাপারটা অনেকটা মাসে মাসে মোবাইল হ্যান্ডসেট চেঞ্জ করার মতো।

১৭। ঝগড়াটে প্রেম-

সারাক্ষণ দু’জনের মধ্যে খিটির-পিটির লেগে থাকাটা এই প্রেমের বৈশিষ্ট্য এ ধরনের প্রেমে ঝগড়াগুলো ক্ষণস্থায়ী হয়, কিন্তু খুব ঘনঘন হয়। ঝগড়াগুলো অধিকাংশই হয় ফোনে।

১৮। ‘আজো তোমায় ভালোবাসি’ প্রেম-

এই প্রেমে প্রেমিক-প্রেমিকার বিচ্ছেদ ঘটেছে আগেই। তবুও আজো তারা একে অপরকে ভালোবাসেন। হাই হুতাশ আর চোখের পানিতেই কেটে গেলো এই প্রেম।

১৯। ব্যর্থ প্রেম-

সবশেষে আছে ব্যর্থ প্রেম। এ প্রেম শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে যায়। ব্যর্থ প্রেমিকার চাইতে ব্যর্থ প্রেমিকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। ব্যর্থ প্রেমের শেষটা হয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান দিয়ে। কখনো কখনো ছেলেদের ভাগ্যে জোটে থাপ্পড়, মেয়েদের জুতার বাড়ি আবার কখনও উধুম গণধোলাই।

সূত্রঃ কলকাতানিউজ টোয়েন্টিফোর সেভেন।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন

Power by

Download Free AZ | Free Wordpress Themes